ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে জাল টাকা বেচা-কেনা করতেন তারা
পুলিশের সঙ্গে গ্রেপ্তার দুই যুবক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১৪:২৭ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৩ | ১৪:২৭
ফেসবুকে প্রচারণা চালিয়ে জাল নোটের কারবার করছিল একটি চক্র। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য তারা মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহার করতো। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার এই চক্রের দুই সদস্যকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন–আল আমিন ও কাশেম আলী। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক লাখ ৮২ হাজার জাল টাকা এবং এগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার হায়াতুল ইসলাম খান সমকালকে জানান, দক্ষিণ গোড়ানের শান্তিপুর এলাকার একটি বাসার ছাদে জাল টাকা কেনা–বেচা হচ্ছে বলে তথ্য পায় পুলিশ। এরপর সেখানে অভিযান চালায় খিলগাঁও থানার একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে পালানোর সময় দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, গ্রেপ্তাররা ফেসবুকে ভুয়া আইডি দিয়ে গ্রুপ খুলে জাল টাকা বিক্রির জন্য ক্রেতার খোঁজে প্রচার চালায়। তাদের গ্রুপে যোগ দেয় জাল টাকার কারবারে আগ্রহী কিছু যুবক। এরপর শুরু হতো তাদের দরদাম ও কেনাবেচা। জাল টাকাকে তারা বিভিন্ন নামে ডাকতো যেমন- প্রোডাক্ট, মাল বা প্যাকেট।
জাল টাকা বিক্রির কৌশল সম্পর্কে উপকমিশনার জানান, প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে পাইকারি বিক্রেতা বা মধ্যসত্ত্বভোগীর মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছায় জাল নোট। প্রথম দিকে পাইকারি ক্রেতারা সরাসরি ‘প্রোডাক্ট’ নিলেও বিশ্বস্ততা বাড়লে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হতো।
তিনি জানান, পুলিশের নজর এড়াতে কম মূল্যমানের নোটকেই টার্গেট করেছিল তারা। কারণ ছোট নোটের বিষয়ে অভিযোগ দেওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। হাতেনাতে ধরা পড়া এড়াতে তারা অপেক্ষাকৃত কম আয়ের মানুষকে টার্গেট করতো। ঈদুল ফিতরের পর ভারত থেকে উন্নতমানের সিকিউরিটি পেপার এনে জাল টাকা ছাপার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা হয়েছে।
- বিষয় :
- ফেসবুকে প্রচারণা
- জাল টাকা
- জাল টাকার কারবার