ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কাঁচা মরিচ যদি পচে যায়, আমি করবটা কী: বাণিজ্যমন্ত্রী

কাঁচা মরিচ যদি পচে যায়, আমি করবটা কী: বাণিজ্যমন্ত্রী
×

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৩ | ১৫:৫৭ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৩ | ১৫:৫৭

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘কাঁচা মরিচের কথা এসেছে, সেটিতেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কথা বলা হচ্ছে। এখন ঝড়-বৃষ্টিতে যদি কাঁচা মরিচ পচে যায়, তাহলে আমি বাণিজ্যমন্ত্রী বা আমাদের সচিব করবেটা কী? কাঁচা মরিচ এক হাজার টাকা কেজির যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি কিন্তু এক বা দুদিনের কথা। কাঁচা মরিচ আমাদের কন্ট্রোলে নেই, কিন্তু দায়টা আমাদের ঘাড়েই আসে।’ বুধবার সচিবালয়ে পণ্যমূল্য সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এদিন বাণিজ্যমন্ত্রী চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৭২ বিলিয়ন বা ৭ হাজার ২০০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানান। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬২ বিলিয়ন ডলার। আর সেবা খাতে ১০ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যমাত্রায় ব্যবসায়ীরা একমত পোষণ করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোর রপ্তানির গতিধারা বিশ্লেষণ করে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচন তার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান অনুযায়ী হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো কিছুই বন্ধ থাকবে না। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিকভাবেই চলবে। তাই নির্বাচনের বছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কোনো সমস্যা হবে না।’

অনুষ্ঠানে বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মো. হাতেম বলেন, ‘তৈরি পোশাক বিশেষ করে নিট খাতে রপ্তানি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে বড় সমস্যা হচ্ছে গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দুই মাসের বিল বকেয়া থাকলেই লাইন কেটে দেওয়া হচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের এসব সমস্যার সমাধান হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। তবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসুবিদ্যুৎ না পাওয়া গেলে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।’

মো. হাতেম আরও বলেন, ‘২০২৬ সালের পর সরকারের নগদ সহায়তা থাকবে না বলে বলা হচ্ছে, কিন্তু চীন এখনো নগদ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সে জন্য নগদ সহায়তা অব্যাহত রাখতে সরকারকে ভিন্ন পথ বের করতে হবে।’ একই সঙ্গে নগদ সহায়তা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করার দাবি জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষের সঞ্চালনায় সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×