ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হিসাবের বাইরে শতাধিক লাশ

হিসাবের বাইরে শতাধিক লাশ
×

কোলাজ

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৪ | ০২:২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে গত তিন সপ্তাহে শুধু আহত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা নিয়েছেন ১ হাজার ৭০০ জন। তাদের মধ্যে ৯৮ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মর্গের নিবন্ধন খাতায় এ সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে। তবে এ হিসাবের বাইরে হাসপাতালে আরও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের লাশের হিসাব মর্গের নিবন্ধনে নেই। এসব মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে দেয়নি মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। ঢামেকে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও মর্গের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিস্থিতি এমন ছিল, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত ব্যক্তির স্বজনরা হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে যান। আহতদের অনেকেই এসিজি রুমের মধ্যে মারা গেছেন। এমনকি মৃত ব্যক্তির নাম পর্যন্ত বলেননি। এসব লাশের সংখ্যা নিবন্ধন করা হয়নি।

ঢাকা মেডিকেলের রোগী নিবন্ধন খাতার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৬ জুলাই থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১ হাজার ৭০০ আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিয়েছেন। ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ৬১৬ জনকে। তাদের মধ্যে এখনও চিকিৎসাধীন ২৯২ জন। আটজনের নাম-পরিচয় না পাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষা শেষে তাদের লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদিকে সরকার পতনের পর রাজনৈতিক সংহিসতায় প্রায় ৫০০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন ঢামেকে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১৯ জন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা বলেন, গত রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত ঢামেকে লাশ পাওয়া যায় ছয়জনের। তাদের মধ্যে মর্গের নিবন্ধন খাতায় একজনের নাম লিপিবদ্ধ হয়। এ ছাড়া গত সোমবার ৩৬ লাশ আসে। তাদের মধ্যে নিবন্ধন খাতায় নাম ওঠে ১০ জনের। ১৬ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত সংঘাতে মর্গ থেকে ৯০ জনের লাশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঢামেক মর্গে দায়িত্বরত শাহবাগ থানার পুলিশ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, লাশের আঙুলের ছাপ ও ডিএনএ সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। স্বজনরা লাশের খোঁজ নিতে এলে তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় শনাক্ত করা হবে। তবে এখনও কেউ লাশের খোঁজে আসেননি।

লাশের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের মর্গের ডোম বাবুল বলেন, মর্গ থেকেও ময়নাতদন্ত ছাড়াই জোর করে লাশ নিয়ে গেছেন স্বজনরা। আমরা মর্গের দরজা ও ফ্রিজের তালা খুলে রেখেছিলাম। নিজের পরিবারের সদস্যের লাশ শনাক্ত করে স্বজনরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিয়ে গেছেন।

এমন পরিস্থিতির কথা স্বীকারও করেন ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আহতদের কারও মুখে, কারও বুকে বুলেটের চিহ্ন পাওয়া যায়। হাসপাতালের বাধা উপেক্ষা করে ময়নাতদন্ত ছাড়া বেশ কিছু লাশ স্বজনরা নিয়ে গেছেন। এটা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। নিবন্ধন ছাড়াই এসব লাশ দিতে হয়েছে।
আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত চিকিৎসা দিয়েছেন। ছয়টা অপারেশন থিয়েটার ২৪ ঘণ্টা চালু ছিল। আহতরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন। এখনও ১০ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আরও পড়ুন

×