ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অভিবাসী চিন্তাধারার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বোঝা যাবে না

অভিবাসী চিন্তাধারার চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বোঝা যাবে না
×

ছবি: বাসস

বাসস

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:০২

পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে ‘আদিবাসী’ শব্দের নতুন বয়ান তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো অভিবাসী রাষ্ট্রগুলোর বাস্তবতার সাথে বাংলাদেশের কোনো মিল নেই। অভিবাসী চিন্তাধারার মনোজগৎ বা চশমা দিয়ে বাংলাদেশের জনমিতি বা নৃবিজ্ঞানকে বোঝা সম্ভব নয়। ভৌগোলিক ও নৃতাত্ত্বিক বিচারে বাংলাদেশে ‘আদিবাসী’ শব্দ ও ধারণাটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিএইচটিআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জন্য ‘আদিবাসী’ পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সিএইচটিআরএফ চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ।

আলোচনা অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব দেশে বহিরাগত অভিবাসীরা এসে মূল অধিবাসীদের তাড়িয়ে রাষ্ট্র গঠন করেছে, সেখানে আদিবাসীদের একটি ঐতিহাসিক ক্ষোভ রয়েছে, সেই পাপ মোচনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশে কোনো অভিবাসী এসে মূল বাসিন্দাদের তাড়িয়ে জমি দখল করেনি। আমাদের জনমিতি ও জাতি গঠিত হয়েছে হাজার বছরের নৃবিজ্ঞানের প্রাকৃতিক বিবর্তনের ধারায়। তাই এখানে অভিবাসী বনাম আদিবাসী বিরোধের অবকাশ নেই।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয় এবং জনমিতির ওপর অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক সৃষ্টি করা এক ধরনের অপকৌশল হতে পারে। আমাদের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা উপস্থাপন করেছেন, যা আমাদের পরিচয়গত সংকট নিরসন করেছে। এই সংহত পরিচয়কে অক্ষুণ্ন রাখতে ভুল বয়ানের বিপরীতে সঠিক ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি, এমরান সালেহ প্রিন্স, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী মোহাম্মাদ রাশেদ খান।

আরও পড়ুন

×