ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

দোকান হলের, মালিকানা নিয়ে সংঘর্ষে শিক্ষার্থীরা, আহত ৯

দোকান হলের, মালিকানা নিয়ে সংঘর্ষে শিক্ষার্থীরা, আহত ৯
×

আহত এক শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। গতকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকাল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

আবাসিক হলের সামনে ছয়টি দোকান। হল কর্তৃপক্ষের আওতাধীন হলেও এগুলোর মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন দুটি হলের শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে বিরোধ থেকে গতকাল সোমবার সংঘর্ষে জড়ান তারা। এতে ৯ জন আহত হয়েছেন।‎

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল ৫টা থেকে প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে। ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে থাকা ছয়টি দোকানের মালিকানা নিয়ে বেশ কিছুদিন দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। দোকানগুলো নজরুল হলের সামনে হওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীরা সেগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর মালিকানা 
ছাড়তে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। গতকাল দুপুরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারিতে জড়ান শিক্ষার্থীরা।
সংঘর্ষের পর কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দেখা যায়, দোকানগুলোর মালিকানার বিষয়টি সমাধানের জন্য হলের সবাইকে সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘আমাদের হলের সামনের দোকানগুলো বর্তমানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমাদের হল ছাত্র সংসদ বারবার তাদের ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করলেও, রবীন্দ্রনাথ হলের প্রশাসন রাজি হলেও, ওই হলের সংসদ আমাদের নিয়ন্ত্রণে দিতে অনিচ্ছুক।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এখন সমাধান আমাদের করতে হবে।’ ওই বার্তায় দুপুর ২টায় হলের সামনে অবস্থান নিয়ে দোকানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়। কোনো ধরনের সহিংসতা না করারও আহ্বান জানানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের একদল শিক্ষার্থী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনের চারটি খাবারের দোকানের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের আগে কয়েকটি খাবারের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের আগের বরাদ্দ অনুযায়ী দোকানগুলো তাদের হল প্রশাসনের অধীনে ছিল। অন্যদিকে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা ওই বরাদ্দের বিরোধিতা করে বলেন, দোকানগুলো তাদের হলের সামনে অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে পাওয়া ভাড়া হলের আয় হিসেবে গণ্য হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, অর্থনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের আদনান আল মাহাদী, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের রেদোয়ান, জার্নালিজম বিভাগের ৫২তম ব্যাচের এসএম শিমুল, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের রোহান, অর্থনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের রাবিদ, পাবলিক হেলথ বিভাগের ৫৩তম ব্যাচের আলী আরাফাত, আইন ও বিচার বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের কাজী রোকনুজ্জামান, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের স্বাধীন ও বিএমবি বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের আরাফাত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রিজওয়ানুর রহমান বলেন, ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সাভারের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা দফায় দফায় আলোচনা করেছি। কিন্তু কবি নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসার আগে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরসহ প্রশাসনের পুরো টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। দুই হলের প্রতিনিধিদের নিয়ে 
প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।

দুই হলের প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মিটিংয়ে আছেন এবং পরে কথা বলবেন বলে জানান। মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা সহকারী প্রক্টর আব্দুর সাত্তার বলেন, দুপক্ষকে প্রশাসনের পক্ষে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে দোকানগুলো আপাতত প্রশাসনের অধীনে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তার কাজ শেষ হলে প্রশাসন পরে দোকানগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষ মারামারিতে অভিযুক্তদের তদন্ত সাপেক্ষে সাজা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর, দুই হলের প্রাধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকরা, দুই হল সংসদের নেতাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন।
রাত সাড়ে ৯টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এরমধ্যে সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহতদের দেখতে গিয়েছিলাম। এখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত আসবে।

আরও পড়ুন

×