ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ মেলেনি

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু

প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ মেলেনি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪২

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ মাস বয়সী শিশু আবদুল্লাহ আয়ানের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির স্বজনদের দাবি, মৃত্যুর সময় হাসপাতালে চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি শিশুটিকে দেখতে চাইলেও তাদের পিআইসিইউতে (শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
এদিকে শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের পিআইসিইউতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান। একই সঙ্গে হাসপাতালের অতিরিক্ত ফি আদায় ও দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বীরউত্তম সিআর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান ও ধানমন্ডির সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদৌস। এর আগে রোববার রাত ৯টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা হাসপাতালের কোনো অবহেলা খুঁজে পাইনি। শিশুটি জটিল বেশ কয়েকটি রোগে ভুগছিল। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত লাইভের বিষয়ে তিনি বলেন, লাইভটি করা ব্যক্তি শিশুটির নিকটাত্মীয় নন; তিনি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
ঘটনার সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না স্বজনদের এমন অভিযোগও নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সময় কনসালট্যান্ট ডা. নাজমুল হকসহ দুজন চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। তবে হট্টগোল শুরু হলে নিরাপত্তার কারণে চিকিৎসকরা অন্য একটি কক্ষে অবস্থান নেন। তিনি আরও বলেন, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। 
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে জানিয়ে অধ্যাপক জাহিদ রায়হান বলেন, বিশেষ করে অতিরিক্ত ফি আদায় ও দালালের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ তদন্ত করা হবে।

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হক বলেন, শিশুটির হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। একপর্যায়ে তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পরের দিনই শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল আমাদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতায় শিশুটি ১৩ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালের এনআইসিইউতে বর্তমানে ১৭টি শিশু ভর্তি রয়েছে। তাদের সবাইকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে সেখানে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বজনদের অভিযোগ
এর আগে রোববার রাত ১টার দিকে সামাজিক মাধ্যমে হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ও চিকিৎসা খরচ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে লাইভ করেন আসিফ হাসান নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, আয়ান আবদুল্লাহ তাঁর ভাগ্নির ছেলে। গত ১ সেপ্টেম্বর শিশুটিকে পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আসিফের অভিযোগ, ভর্তির সময় চিকিৎসকরা শিশুটির রক্তে সুগার কম থাকার কথা জানান। পরে বিভিন্ন সময়ে শিশুটির নানা শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয়। রোববার হাসপাতাল থেকে পরদিন ছাড়পত্র দেওয়ার কথা জানানো হলেও বিকেলে হঠাৎ পরিবারকে বলা হয়, শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দিতে হবে।
তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের পিআইসিইউতে ঢুকতে দেয়নি। পরে তারা জোর করে সেখানে প্রবেশ করে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তখন ডাকাডাকি করেও কোনো চিকিৎসকের দেখা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ আরও অভিযোগ করেন, শিশুটির মৃত্যুর পর চিকিৎসার নামে দুই লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। 

ভাঙচুর নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পিআইসিইউতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, উত্তেজিত স্বজনেরা মূল্যবান ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী নষ্ট এবং কয়েকজন নার্সকে মারধর করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে কোনো সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, হাসপাতালের কর্মীরাই প্রথমে তাদের ওপর চড়াও হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্বজনরা জানান, ময়নাতদন্তে শিশুটির শরীর কাটাছেঁড়া করা হবে এটি তাঁর মা মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যান।

আরও পড়ুন

×