অভিমত
আমরা কীভাবে এমন সমাজ পেলাম
আসিফ বিন আলী
আসিফ বিন আলী
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৯ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
আজকাল ভয়ংকর সব খবর সামনে আসছে। একটা খবরের ধাক্কা না সামলাতেই আরেকটা চলে আসছে। খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে ‘ভাত চুরি’র অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনা দুটি পুরো দেশকে নাড়া দিয়েছে।
জামালপুরে ৭ বছরের শিশু সহপাঠীর বাড়িতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। ঢাকার সাভারে এক মাদ্রাসায় ৭ বছরের শিশুকে মাসের পর মাস যৌন নির্যাতনের অভিযোগ একাধিক ছাত্র ও শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রংপুরে স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল। গত শুক্রবার ১৩ বছরের ছেলেটি মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে তার লাশ পাওয়া গেল লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটা নেওয়ার পরিকল্পনা করেই তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। ফোন দিতে বাধা দেওয়ায় তাকে আঘাত করা হয়।
১৩ বছরের বাচ্চা ঘর থেকে বের হয়েছিল একটা মোবাইল ফোন নিয়ে। সে আর ঘরে ফিরল না। একটা ফোন থেকে একটা মানুষের জীবনের দাম কম হয়ে গেল!
এখানে সরকারের দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বিএনপি সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের বেশি পার হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। কিন্তু নাগরিকের জায়গা থেকে প্রশ্ন হচ্ছে, সেই উন্নতি আমরা কতটা দেখতে পাচ্ছি?
গত আগস্টে প্রথম আলোয় ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৬ মাসে কেমন করল সরকার’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাস পরও আইনশৃঙ্খলায় মানুষের যে স্বস্তি ফেরার কথা ছিল, সেটা পুরোপুরি ফেরেনি।
সরকারের পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি সামলাতে যতটা দৃশ্যমান এবং জরুরি তৎপরতা দেখা দরকার ছিল, ততটা দেখতে পাচ্ছি না। একটা হত্যাকাণ্ডের পর অবশ্যই আসামি ধরতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের কাজ শুধু লাশ পড়ার পর আসামি ধরা নয়। রাষ্ট্রের কাজ এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে একটা শিশু ফোন নিয়ে ঘর থেকে বেরোনোর পর মা অন্তত ধরে নিতে পারেন যে, ছেলেটা নিশ্চিত সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে আসবে।
কিন্তু এটাও সত্য যে, এই ভয়ংকর অবস্থা বর্তমান সরকারের ছয়-সাত মাসে তৈরি হয়নি। একটু পেছনে গেলে আমরা আরেকটা সময় দেখি। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেনকে মোবাইল চোর সন্দেহে ছাত্ররা আটক করেছিল। তাঁকে মারধর করা হলো, মাঝখানে ভাত খাওয়ানো হলো, তারপর আবার মারা হলো। শেষ পর্যন্ত তিনি মারা গেলেন। একইভাবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাজবাড়ীতে নুরুল হকের (নুরাল পাগলা) কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা হলো। সেই ঘটনায় সৃষ্ট সহিংসতায় একজন মানুষও মারা গেলেন।
তারপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। ‘মব’ করে তাঁকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়। পরে তৎকালীন র্যাব বলল, দীপু ধর্ম অবমাননাকর কোনো কথা বলেছিলেন বা লিখেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। অর্থাৎ অভিযোগের সত্যতা যাচাই হওয়ার আগেই বিচার হয়ে গেছে!
একটু পেছনে গেলে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এই সামাজিক রোগের নমুনা পাওয়া যায়। ২০১৯ সালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেণু তাঁর ছোট মেয়েকে ভর্তি করতে স্কুলে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন। ‘ছেলেধরা’ গুজব উঠল। মানুষ তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করল। কাজেই মবের এই প্রবণতা ৫ আগস্টের পর হঠাৎ চলে এসেছে, এটা বলা যাবে না। আবার ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির চরিত্র বদলে গেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি’ বললে আমরা ঠিক চিত্রটা পাব না। আমি ঘটনাটাকে দার্শনিক জায়গা থেকে দেখতে চাই। একটা সমাজ কীভাবে এমন জায়গায় আসে, যেখানে একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে এত সহজে হত্যা করতে পারে? যেখানে ২০ জন মানুষ একটা মানুষকে পেটাতে পারে, আরও ৫০ জন দাঁড়িয়ে দেখতে পারে, কেউ ভিডিও করতে পারে, কেউ উৎসাহ দিতে পারে? তারপর সেই মানুষটা মারা যাওয়ার পরও বলা যায়, ‘চোরই তো ছিল’, ‘ধর্ম নিয়ে কথা বলেছিল’, ‘নিশ্চয়ই কিছু করেছে’?
আমার মনে হয় এটা একটা ডিস্টোপিয়া। ডিস্টোপিয়া মানে শুধু রাস্তায় লাশ পড়ে থাকা না। সিনেমার মতো চারদিকে আগুন জ্বলতে হবে, রাষ্ট্র ভেঙে পড়তে হবে, এমনও না। ডিস্টোপিয়া তৈরি হয় যখন ভয়ংকর ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে দৈনন্দিন হয়ে যায়। ধর্ষণের খবরের পরে আমরা আরেকটা ধর্ষণের খবর পড়ি। মবের হাতে একজন মারা যাওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটা সামনে আসে। প্রথমে আমরা শিউরে উঠি, তারপর রাগ করি, তারপর স্ক্রল করে সামনে চলে যাই। যে ঘটনা একটা স্বাভাবিক সমাজে দীর্ঘদিন মানুষের মনে থেকে যাওয়ার কথা, সেটা আমাদের কাছে এক দিনের নিউজ সাইকেল বা ‘খবর চক্র’ হয়ে যায়।
কিন্তু একটা সমাজ শুধু পুলিশ দিয়ে চলে না। ফুকোর গভর্নমেন্টালিটি (শাসনযোগ্যতা/ প্রশাসনিকতা) দিয়ে এই আলাপ শুরু করা যায়। সরকার সব সময় আমাদের মাথার ওপর পুলিশ দাঁড় করিয়ে রাখে না। সমাজের মানুষ অনেকটা নিজেকেই শাসন করে। আমরা জানি কোথায় থামতে হয়। পরিবার, স্কুল, শিক্ষক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পাড়া, সংস্কৃতি, সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতা, সবকিছু মিলে আমাদের ভেতরে কিছু সীমা তৈরি করে দেয়।
আমি পাশের মানুষটাকে হত্যা করি না শুধু এই ভয়ে যে পুলিশ আমাকে ধরবে, ব্যাপারটা এমন না। আমি করি না, কারণ আমি জানি এটা করা যায় না। একটা শিশু মার খেলে আমি বাধা দিই। কাউকে চোর সন্দেহ হলে তাকে ধরে পুলিশের কাছে দিতে পারি, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। এই যে ‘আমি এটা করতে পারি না’, সমাজের ভেতরের এই কণ্ঠটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অর্থে একটা কার্যকর সমাজ নিজেকেও শাসন করে।
একটি পাড়ায় দশজন মানুষ যদি বিশ্বাস করেন যে, চোর হলেও কাউকে পিটিয়ে মারা যাবে না, তাহলে একাদশ লোকটার পক্ষে মব বানানো কঠিন। একটা মাদ্রাসায় শিক্ষক, অভিভাবক আর পরিচালকরা যদি বিশ্বাস করেন যে শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গোপন করলে এটা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষা নয়, ধর্ম রক্ষা নয়; বরং অপরাধীকেই রক্ষা করা। তাহলে অপরাধীর জায়গা ছোট হয়ে আসে। আমাদের সেল্ফ গভর্নমেন্টের (স্বশাসন) জায়গাটা দুর্বল হয়ে গেছে। রাষ্ট্রের আইন আছে, কিন্তু সমাজের নিজের ভেতরের নিয়ন্ত্রণগুলো (ব্রেক) ঠিকমতো কাজ করছে না।
এই পুরো ঘটনার গুরুত্ব বোঝা সম্ভব না যদি না আমরা ফরাসি সমাজতাত্ত্বিক এমিল দুর্খেইমের অ্যানোমি (নিয়মহীনতা) নিয়ে আলাপ করি। একটা সমাজে কিছু নিয়ম থাকে, মানুষ সেই নিয়মকে শুধু ভয় থেকে না, বিশ্বাস থেকেও মানে। কিন্তু যখন পুরোনো নিয়মের ওপর বিশ্বাস চলে যায় এবং তার জায়গায় নতুন কোনো গ্রহণযোগ্য নিয়ম দাঁড়ায় না, তখন একটা শূন্যতা তৈরি হয়। মানুষ জানে না, কোন কর্তৃত্বকে বিশ্বাস করবে, কোন সীমাটা প্রকৃতপক্ষে সীমা। কে ঠিক করবে কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়?
বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে আমার কাছে এই অ্যানোমির ছবিটা খুব পরিষ্কার হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়ে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার রাজনৈতিকীকরণ হয়। একটা রাষ্ট্র যখন দীর্ঘদিন মানুষকে শেখায় যে ক্ষমতা থাকলে নিয়মকে নিজের মতো ব্যবহার করা যায়, সেই শিক্ষা শুধু সরকারের মধ্যে আটকে থাকে না। নিচেও নামে। নেতা শেখে। কর্মী শেখে। ছাত্র শেখে। পাড়ার মাস্তানও শেখে।
তারপর ২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট এলো। পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো হঠাৎ ভেঙে গেল। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলো। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিল। কিন্তু পুরোনো শাসন ভেঙে গেলেই তো নতুন সোশ্যাল অর্ডার তৈরি হয় না। পুলিশ দুর্বল, প্রতিষ্ঠান দ্বিধাগ্রস্ত, রাজনীতি উত্তপ্ত, সমাজ প্রতিশোধপরায়ণ। আমার কাছে এখানেই অ্যানোমির জায়গাটা সবচেয়ে স্পষ্ট।
অন্তর্বর্তী সরকারের একটা বড় ব্যর্থতা ছিল এই সামাজিক উত্তেজনাকে যথেষ্ট দ্রুত ঠান্ডা করতে না পারা। মবকে খুব শুরুতেই রাজনৈতিক, নৈতিক এবং আইনি জায়গা থেকে শক্তভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলার দরকার ছিল। কিন্তু আমরা দেখলাম তোফাজ্জল, নুরাল পাগলা, দীপুকে। বারবার মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছে।
তারপর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হলো। নতুন সরকার একটা দুর্বল পুলিশ ব্যবস্থা, রাজনৈতিকভাবে অস্থির সমাজ এবং মবের উত্তরাধিকার পেয়েছে, এটা সত্য। কিন্তু ছয় মাস পর সেই উত্তরাধিকার আর একমাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে না। এখন ক্ষমতা তাদের হাতে। রাষ্ট্রের কোয়েরসিভ পাওয়ার তাদের হাতে। প্রশাসন তাদের হাতে। কাজেই মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তাদের।
আমরা শুধু সহিংসতা করছি না, সহিংসতার পক্ষে বয়ানও তৈরি করছি। কেউ চোর সন্দেহে মারা গেলে বলা হয়, ‘চোরই তো ছিল’। ধর্ষণের ঘটনা হলে ভিকটিমের পরিবার, পোশাক, চলাফেরা নিয়ে কথা ওঠে। মাদ্রাসার ভেতরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে কেউ প্রতিষ্ঠানের সম্মান নিয়ে চিন্তিত হন। ধর্মের নামে হত্যা হলে কেউ আগে দেখতে চান নিহত ব্যক্তি কী বলেছিল। আমার দলের মানুষ অপরাধ করলে একটা ‘কিন্তু’ আসে, অন্য দলের মানুষ করলে কোনো ‘কিন্তু’ থাকে না। এই ‘কিন্তু’টা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ একটা মানুষ একটা অপরাধ করে। কিন্তু একটা সমাজ যখন সেই অপরাধের জন্য বয়ান, অজুহাত আর নৈতিক বৈধতা তৈরি করে দেয়, তখন পরের অপরাধটা আরেকটু সহজ হয়ে যায়। একজন মানুষ মারে, কিন্তু একটা সমাজ কখনও কখনও সেই মারার পরিবেশটা তৈরি করে।
তার ওপর আমাদের সমাজটা যেন সারাক্ষণ একটা প্রেশার কুকারের (প্রচণ্ড চাপ) মধ্যে আছে। চাকরির অনিশ্চয়তা আছে, তরুণদের হতাশা আছে, স্বাভাবিক বিনোদনের জায়গা কম, রাজনীতি প্রতিদিনের জীবনের প্রতিটি কোণে ঢুকে গেছে। ধর্ম, পরিচয়, ইতিহাস, কে দেশপ্রেমিক, কে ফ্যাসিস্ট, কে ইসলামবিরোধী, কে ভারতের লোক, কে পাকিস্তানের লোক, কে বিপ্লবী, কে প্রতিবিপ্লবী, এসব নিয়ে আমরা সারাক্ষণ একে অন্যকে বিচার করছি। আমরা যেন নাগরিক কম, কোনো না কোনো যুদ্ধের সৈনিক বেশি।
আমরা কীভাবে এমন সমাজ পেলাম?
এই জায়গাতেই আমার কাছে গভর্নমেন্টালিটি, অ্যানোমি আর ডিস্টোপিয়া এক জায়গায় এসে মেলে। একটা সমাজ শুধু আইন দিয়ে চলে না। তার ভেতরে একটা সেল্ফ গভর্নমেন্ট থাকে। মানুষ নিজেকে থামায়, অন্যকে থামায়, কিছু সীমা মানে। সেই সীমার ওপর বিশ্বাস নষ্ট হয়ে গেলে তৈরি হয় অ্যানোমি। সেই অ্যানোমি দীর্ঘদিন চলতে চলতে যখন সহিংসতা, অবিশ্বাস, প্রতিশোধ আর মানুষের জীবনের অবমূল্যায়ন দৈনন্দিন হয়ে যায়, তখন আমরা ডিস্টোপিয়ার দিকে যাই। ডিস্টোপিয়া তাই শুধু রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না। সমাজেরও ব্যর্থতা।
রাষ্ট্র দুর্বলকে রক্ষা করতে পারছে না। সমাজের একটা অংশ আবার দুর্বলের ওপর আক্রমণকে বৈধ করার ভাষা তৈরি করছে। কেউ দেখার নেই, কেউ বলার নেই, এমন না। বরং সবাই বলছে। সরকার বলছে, বিরোধী দল বলছে, ধর্মীয় নেতা বলছেন, গণমাধ্যম বলছে, আমরা সবাই বলছি। কিন্তু এত কথার মধ্যে মানুষকে না মারার যে সবচেয়ে সাধারণ নৈতিক কথাটা, সেটাই যেন ক্রমে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।
এবার খবর থেকে একটু চোখ তুলে সমাজটার দিকে তাকানো দরকার। কারণ ডিস্টোপিয়া শুধু তখন তৈরি হয় না, যখন মানুষ খুন হয় ডিস্টোপিয়া তৈরি হয় তখন, যখন রাষ্ট্র মানুষকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়, সমাজ মানুষকে বাঁচানোর নৈতিক শক্তি হারায়, আর আমরা এত মৃত্যু দেখতে দেখতে একসময় মৃত্যুকেই স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করি।
লেখক: শিক্ষক ও গবেষক