আমরা বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব বানাব: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফাইল ছবি-সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪২
বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে দেশের বড় কোম্পানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘এমজিআই–এমএএ স্কলারশিপ ২০২৬’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বড় বড় কোম্পানি-ইন্ডাস্ট্রিগুলো একাডেমিয়ায় ইন্ডাস্ট্রির লিংকেজে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু আমি চায়নাতে দেখে এসেছি, তাদের ইনস্টিটিউটগুলো ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেই গড়ে উঠেছে।’
চীনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে ইন্ডাস্ট্রির প্রকৌশলীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। আবার বাইরে থেকে শিক্ষকরা এসে তাঁদের পড়ান। ইন্ডাস্ট্রি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেয়, পড়ায় এবং সরাসরি নিয়োগও করে। এটিই একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির কার্যকর লিংকেজ।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক হোস্টেলে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এসে পড়াশোনা করতেন। সে সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘রিভার্স ব্রেন ড্রেন’-এর কথা বলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বে থাকা বাংলাদেশি অধ্যাপকদের ছুটিতে দেশে এসে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ক্লাস নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।
মালয়েশিয়ার শিক্ষা খাতের অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে এহছানুল হক মিলন বলেন, মাহাথির বিন মোহাম্মদ একই ধরনের কর্মসূচি নিয়ে সফল হয়েছেন। বর্তমানে মালয়েশিয়া একটি এডুকেশন হাব। অথচ বাংলাদেশ থেকে এখন শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়ায় পড়তে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১৯৯২ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পরিবর্তন করে ক্রস-বর্ডার এডুকেশনকে গ্রহণ করতে পারিনি। কিন্তু আমরা কাজ করছি। আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে, আমরাও বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব বানাব।’
শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যক্তি নিজের পছন্দের কাজ না করে জোর করে অন্য কাজ করার প্রবণতার সমালোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি যে কাজ করছেন, তাতে তাঁর সন্তুষ্টি থাকা প্রয়োজন। কে কী করেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং কাজের প্রতি সন্তুষ্টিই গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা খাতে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীও মন্ত্রণালয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে বলেও জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ বরাদ্দ ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা এবং এটি জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তনের উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এআইটি) এমবিএ বিভাগে গিয়ে স্মার্ট প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষাদান দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের যারা বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরবে, তারা শিক্ষকতা পেশায় এসে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও নিজেদের সময়ের শিক্ষাব্যবস্থার পার্থক্য তুলে ধরবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে মার্কেটিং বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের ৯০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ২৪ হাজার টাকা করে মোট ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- শিক্ষামন্ত্রী