জাতিসংঘে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
টেকসই জ্বালানি রূপান্তরে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
কামরুল হাসান, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৩:২৯ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৪:০০
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং টেকসই জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের ‘হাই-লেভেল মিটিং অন ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্যা জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আহ্বানে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে অবস্থান ও অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান। পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং জলবায়ু ন্যায় বিচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। পাশাপাশি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এ বছরের বাজেটে আমরা জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছি। তারপরও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া আমরা বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছি।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের জন্য প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পাশাপাশি পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটানো হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ চলছে।
তবে এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’, এই নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।
এ সময় জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান তিনি।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন।
তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
পঞ্চমত, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণের দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
জাতিসংঘের এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
জাতিসংঘের এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- তারেক রহমান
- জাতিসংঘ