ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছাদে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ সরকারের

ছাদে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ সরকারের
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টারের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কর্মসূচিতে প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের ১৫০ মেগাওয়াট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা ব্যবহার করবে। বাকি প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিক্রি করা হবে।
আগামী ২৭ জানুয়ারির মধ্যে কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলজিইডি সদরদপ্তর ও বিভিন্ন দপ্তর, সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, ওয়াসা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং দেশের বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রোথ সেন্টার মিলিয়ে ছয় হাজার ৫৪৪টি স্থাপনা এ কর্মসূচির আওতায় আসবে। এসব প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
তিনি জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থ ছাড়ের পাশাপাশি আলাদা চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে প্রতি ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় তিন লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ের একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদগুলোর জন্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা করে। ভ্যাট ও আয়কর কাটার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। নিজস্ব রাজস্ব থেকে অর্থ যোগ করে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকেও। হাটবাজারের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ ব্যবহার করেও সৌর প্যানেল বসানোর কথা বলা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি বরাদ্দের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব রাজস্বের অর্থ যোগ করবে। এর ফলে প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত ১৫০ মেগাওয়াটের বদলে মোট উৎপাদন প্রায় ৩০০ মেগাওয়াটে নেওয়া সম্ভব হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করবে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্যাকেজের আওতায় নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে। এ বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রির সুযোগ থাকবে। প্রতিমন্ত্রীর হিসাবে, এভাবে পাওয়া অর্থে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সরকারের দেওয়া অর্থ উঠে আসবে। এরপর বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রাজস্ব আয় হবে। তিনি বলেন, হাটবাজার, খেয়াঘাট, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিংসহ বিভিন্ন খাত থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো রাজস্ব আদায় করে। এর সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির আয় যুক্ত হলে তাদের নিজস্ব আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে। একই সঙ্গে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদার একটি অংশও মেটানো সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা অনুযায়ী ২০ বছরের চুক্তি করবে। চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ২০ বছর সেবা ও ওয়ারেন্টি দেবে এবং সৌর প্যানেলের মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কর্মসূচির আওতায় সিটি করপোরেশনের জন্য ৭৫ কোটি, উপজেলা পরিষদের জন্য ৯৯ কোটি, পৌরসভার জন্য ৬৪ কোটি এবং জেলা পরিষদের জন্য ১২ কোটির কিছু বেশি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×