শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত মিলে সিদ্ধান্ত নেবে, আশা যুক্তরাষ্ট্রের
শেখ হাসিনা ইস্যু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের প্রধান অস্বস্তির কারণ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩০ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করে যুক্তরাষ্ট্র। দুই প্রতিবেশীর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে ‘প্রধান অস্বস্তির কারণ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে দেশটি। খবর ইউএনবি ও বিডিনিউজের। গত বুধবার নিউইয়র্কে ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ট্রাম্প প্রশাসনের এ অবস্থান তুলে ধরেন। ‘অন ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিং এমন একটি বৈঠক, যেখানে সাংবাদিকরা তথ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে তথ্যের নির্দিষ্ট উৎসের নাম প্রকাশ করা যায় না।
নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার সমর্থনে মার্কিন নীতি’ শিরোনামে এ ব্রিফিং হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকরা ছিলেন। ২০২৪ সালের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। গত নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তাঁর আগে তিনি নিজের নিরাপত্তা চেয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে বুধবারের ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার কাছে শেখ হাসিনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি। আমরা বুঝতে পারছি, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বৈরিতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তাই আমরা আশা করছি, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। আর হাসিনার সঙ্গে কী হওয়া উচিত, তা আমরা এখনও নির্দিষ্ট করে জানাইনি।’ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে, বিএনপির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।’
এই ব্রিফিংয়ের আগে নিউইয়র্কে ফরেন প্রেস সেন্টারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সম্পর্কিত উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিথানি মরিসন দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান পরিস্থিতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির আলোকে বক্তব্য দেন। এর পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।
- বিষয় :
- শেখ হাসিনা