ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর দাবি সুজনের

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর দাবি সুজনের
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০১ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১৪

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ক্লিনিকটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটির চেয়ারপার্সন বিচারপতি এম এ মতিন ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি স্বল্প আয়ের নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদানসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এ ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলা এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

সুজন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে তারা জানতে পেরেছে। এজাহারভুক্ত হামলায় জড়িত অবশিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে সবার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, জমির মালিকানা বা ব্যবহার নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো বিরোধই আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট বা দখলের যুক্তি হতে পারে না। ক্লিনিকের ১০ কাঠা জমি দখলের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

লুট হওয়া টিকা, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও নথিপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ক্লিনিক দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সুজন। নিয়মিত সেবার ওপর নির্ভরশীল মা ও শিশুরা যাতে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প সেবার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। হামলার সময় শাহ আলী থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ওসিসহ কোনো পুলিশ সদস্যের গাফিলতি বা হামলাকারীদের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে জানানো এবং ক্লিনিকটি পুরোপুরি পুনরায় চালু করা হলে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

×