ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ, বাউফলে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত

৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ, বাউফলে একই পরিবারের ৬ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত
×

ফাইল ছবি-সংগৃহীত

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৩

পটুয়াখালীর বাউফলে ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের নারীসহ ছয়জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মো. জহিরুল ইসলাম, মো. খাইরুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, মনোয়ারা বেগম, হোসনেয়ার বেগম ও পূর্ণি বেগম। তাদের মধ্যে জহিরুল, মনোয়ারা, খাইরুল ও রেজাউলকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, প্রতিবেশী মো. রাসেলের কাছে তাঁর জমিতে কাজ করার মজুরি বাবদ ৬০০ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর মা, দুই ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে রাসেলের রোববার বিরোধ হয়। ওই ঘটনায় রাসেলও আহত হন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সোমবার সকালে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জহিরুল সেখান থেকে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর রাসেল ও তাঁর লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউপি সদস্য মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‘রোববারের ঘটনা নিয়ে সোমবার সালিশ বৈঠক বসেছিল। সেখানে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু ৬০০ টাকা পাওনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের লোকজন জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা করেন।’

ঘটনার পর রাসেল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×