নুরুল হক নুর, সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ
ফিরে আসুক মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিবেশ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০১৯ | ২১:১৩ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০১৯ | ২১:৩১
সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল উর্বর রাজনীতি চর্চার পুণ্যভূমি। আমরা চাই সে অবস্থা আবারও ফিরে আসুক। এর মধ্য দিয়ে মুক্তবুদ্ধি চর্চার বিকাশ ঘটবে।
তিনি বলেন, ২৮ বছর পর ডাকসুর অচলায়তন ভেঙে নির্বাচন হচ্ছে। আমরা এ জন্য অত্যন্ত আনন্দিত। ডাকসু নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের সভায় আমাদের ডাকা হয়নি। তার পরও আমরা সভাকে সমর্থন দিয়েছি। সেখানে নানা দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এসবের অনেকটাই আমাদের দাবির সঙ্গে মিলে গেছে। সভায় ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে করার দাবি ছিল। প্রশাসন সেটি মানেনি। ভোট দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদনও মানা হয়নি। নির্বাচন পরিচালনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। সেখানে কোনো নিরপেক্ষ শিক্ষক নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ ছিল। আচরণবিধিতে গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।
নুর বলেন, এতকিছুর পরও আমরা চাচ্ছি নির্বাচন হোক। দীর্ঘদিন ডাকসু বন্ধ থাকায় ছাত্রদের দাবি-দাওয়া ও অধিকার বারবার উপেক্ষিত থেকেছে। ক্যাম্পাসে একটি লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির বিকাশ ঘটেছে। হলগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমে নির্যাতনের কালচার গড়ে উঠেছে। যদি ছাত্র সংসদ থাকত তাহলে ছাত্র প্রতিনিধিরা এসব প্রতিরোধ করতে পারতেন। এখন শিক্ষার্থীরা চান ডাকসু তাদের অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম হোক। এ জন্য তারা নির্বাচনের জন্য মুখিয়ে আছেন।
ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সব সমস্যা সমাধানেও শিক্ষার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা জানিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা বলেন, নির্বাচিত হলে হলগুলোতে অছাত্র ও বহিরাগতদের কারণে যে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করার চেষ্টা করব। একটি ছাত্র সংগঠনের চাঁদাবাজি ও ফাও খাওয়া দূর করে ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নত করব। রেজিস্ট্রার বিল্ডিংসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধ ও স্বচ্ছতা আনা, পরিবহন ও গবেষণা খাতে বরাদ্দের সুষ্ঠু বণ্টন, মেয়েদের যাতায়াতের সুবিধা বাড়ানো, সব কাজকর্মে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোসহ নানা বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
তফসিল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটামুটি সহাবস্থানের পরিবেশ বিরাজ করছে উল্লেখ করে নুর বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি-না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণ অসংখ্যবার দেখেছি। নানা কারণে কিছু শিক্ষকের প্রতি আমাদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনে কোনো অনিয়মের চেষ্টা করা হলে সব ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব। তিনি বলেন, দেশের সব মানুষ তাকিয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতির বাতিঘর। তাই মানুষ প্রত্যাশা করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনাস্থার জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রশাসন এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আশা করছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সিনেটে ছাত্রদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরবেন। ছাত্ররাজনীতিতে একটি গুণগত পরিবর্তন আসবে। লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি থেকে বেরিয়ে একটি ইতিবাচক ধারায় রাজনীতি এগোবে। সামাজিক-সাংস্কৃতিকসহ এদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ডাকসুর মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাজ ও রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবেন।