সেবা সংস্থাগুলোকেও ডিসিসির মতো ভাগ করতে হবে: সাঈদ খোকন
ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন— ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০১৯ | ১৬:১৩
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) ভেঙে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছিল। একইভাবে রাজধানীর অন্য সেবা সংস্থাগুলোকেও উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করার পক্ষে মত দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।
ডিএসসিসি মেয়র হিসেবে চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সেবা সংস্থাগুলোকে ভেঙে একটি ছাতার নিচে আনতে হবে। এতে করে নগরবাসী আরও উন্নত সেবা পাবেন।
২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিএসসিসি মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরের ৬ মে মেয়র হিসেবে শপথ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাঈদ খোকন বলেন, চার বছরে তিনি কতটুকু সফল হতে পেরেছেন, সেটা বিচারের ভার ঢাকা নগরবাসীর। তবে তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন উন্নত নাগরিকসেবা দেওয়ার।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের আরও অনেক সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য যে পরিমাণ জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন, সেখানটায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্যও তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ঢাকা শহরের সমস্যাগুলোর সমাধান একজন মেয়রের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিক একেকজন মেয়রের ভূমিকা পালন করলেই ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য, সবুজ, সুন্দর স্মার্ট সিটিতে পরিণত করা সম্ভব।
পুরান ঢাকায় রিডেভলপমেন্টের কাজ শুরু হবে জানিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, যেভাবে সিঙ্গাপুর, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ আধুনিক শহর গড়ে তুলেছে, সেখাবে পুরান ঢাকায় রিডেভলপমেন্টের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি ডিএসসিসিতে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড মডেল হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিগত চার বছরে নেওয়া উন্নয়ন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় লেখক কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিত্বসহ ডিএসসিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, বর্তমানে ডিএসসিসি এলাকার সব অলিগলি এলইডি বাতিতে আলোকিত। অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হওয়া পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে বিশ্বমানের পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ, অলিগলিসহ প্রতিটি রাস্তার উন্নয়ন, আধুনিক এসটিএস নির্মাণ, কর্মস্থলে হাজিরা নিশ্চিত, লাইভ মনিটরিং, নিবিড় তদারকি এবং সার্বিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে পেরেছে ডিএসসিসি। শান্তিনগর, নাজিমউদ্দিন রোড, গণকটুলী, বংশাল এলাকার চার যুগের জলাবদ্ধতার নিরসন হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ছয়টি কোম্পানির আওতায় ২২টি রুটে সব গণপরিবহন চালানোর কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৮টি স্থানে আধুনিক যাত্রীছাউনি নির্মাণ করা হয়েছে। নতুন আটটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে, ১৬টির সংস্কার করা হয়েছে। যানজট নিরসনের জন্য রোড মিডিয়ান, রোড মার্কিং, জেব্রা ক্রসিং, ট্রাফিক সাইন, ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপনসহ বিভিন্ন কাজ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, ২০১০ সালে নিমতলী ট্র্যাজেডির পর কেমিকেল ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়। নতুন লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ২১টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বক্তব্যে মেয়র মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণ, অবৈধ বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ, ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন, রাজস্ব কার্যক্রমে অটোমেশন পদ্ধতি চালু, বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণ, বিনামূল্যে দাফনের ব্যবস্থা, খাদ্যে ভেজালবিরোধী অভিযান, আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার, মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি-ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, আধুনিক জবাইখানা নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।