ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভিক্ষুকহীন রাজধানী

ভিক্ষুকহীন রাজধানী
×

করোনা আতংকে প্রয়োজন ছাড়া তেমন কেউ বাসা থেকে বরে হচ্ছে না রাজধানীবাসী, এ কারণে ভিক্ষুকের আনাগোনাও কমে গেছে- সমকাল

সাজিদা ইসলাম পারুল

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২০ | ১০:৩৭

চৈত্রের ভরদুপুর। কাঠফাটা রোদে ফাঁকা রাজধানী। বিরাজ করছে পিনপতন নীরবতা। অথচ এই শহরের দৈনন্দিন চিত্র পুরোটাই উল্টো। ফুটপাত দখলে থাকে হেঁটে চলা পথচারীর। মূল সড়কসহ অলিগলিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকে যানজট। স্নিগ্ধ বাতাসে মানুষের দম ফেলার সৌভাগ্য তেমন হয় না। অথচ করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে এই ব্যস্ত শহরের মানুষ আজ গৃহবন্দি। বেশিরভাগ মানুষ দীর্ঘ ছুটিতে পাড়ি জমিয়েছেন গ্রামে। রাজধানীও এখন ভিক্ষুকহীন। বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসের প্রভাব রোধেই এখন জনশূন্য রাস্তা।

বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, বনানী, টিএসসি, আজমপুর, পলাশী মোড়, হাতিরঝিল, হাতিরপুল, পরীবাগ মোড়, মগবাজারসহ ভিক্ষুক পরিচিত এলাকা নিউমার্কেট, মহাখালী ও ফার্মগেট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, হাতে গোনা দুই-তিনজন ভিক্ষুক অলস সময় কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন মূল সড়কের পাশে ফুটপাতে ঘুমিয়ে আছেন। এ যেন ক্লান্ত দুপুরে বিশ্রাম নেওয়া পথিক। পরীবাগে দেখা যায়, দু'জন পাশাপাশি বসে আছেন। কারোর মুখে কোনো কথা ছিল না। নির্বাক দৃষ্টিতে একজন দূরের পানে চেয়ে ছিলেন। এ পথ ধরে কোনো পথচারীর দেখা না পাওয়ায় তারাও ভিক্ষা চাইতে পারছেন না।

বিমানবন্দরে একজন প্রতিবন্ধী নারী বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও পথচারীর কাছে ভিক্ষা চাচ্ছিলেন। অথচ বিমানবন্দর রেলগেটের এই জায়গাতেই ১৫ থেকে ২০ ভিক্ষুক ছিলেন ক'দিন আগেও। ভোর থেকে রাত অবধি এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী জনগণের কাছে তারা ভিক্ষা চাইতেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শারীরিক প্রতিবন্ধী। দু'জন অন্ধ। বাকিরা প্রবীণ। প্রতিবন্ধী রেহানা বেগম জানান, পাশের এলাকায় এক মেয়ে ও তার সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। ভিক্ষা করেই এই তিনজনের সংসারের খরচ জোগান তিনি। অথচ দুই মাস আগে হঠাৎ একদিন মেয়ে কিছু না বলে চলে যায়। আজও খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাই দেড় বছরের নাতনিকে নিয়েই থাকেন তিনি।

করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানেন কিনা প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, 'করোনা-টরোনা জানি না। পেটে ভাত নাই। টাকা জোগার করতে না পারলে এমনেও মরতে অইবো। তাই মাইনষের কাছে হাত পাতি। তয় আমাগোর মতো গরিব মাইনষেরে করোনা ধরতো না।'

এদিকে জুমার দিন হওয়ায় গত শুক্রবার বিভিন্ন এলাকার মসজিদের সামনে দুই থেকে চারজন করে ভিক্ষুকের দেখা মেলে। কথা হয় মীরবাগ জামে মসজিদের সামনে অবস্থানরত ভিক্ষুক করিম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, 'করোনার কারণে সবকিছু বন্ধ। আমাগো তো না খাইয়া মরতে অইবো। এ জন্য মসজিদের সামনে মুসল্লিদের কাছে হাত পাতছি। যদি কিছু পাই, ওই দিয়াই বাকি দিন চালামু।'

বাংলামটর মসজিদের সামনেও দেখা যায় বেশ কয়েকজন ভিক্ষুককে।

আরও পড়ুন

×