বাবা-মা বেশি আদর করে বলে বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সজীব

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

শিশু মীম

শিশু মীম

'ছোট বোন মীমের জন্মের পর তাকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন মা-বাবা। তাদের সব মনোযোগ, ভালোবাসা যেন শুধু বোনের জন্য!' এমন উপলব্ধি মীমের বড় ভাই আল-আমিন ওরফে সজীবের (১৪) শিশুমনে বিষবাষ্প হয়ে জমা হতে থাকে। তার মনে হয়, যত দিন যাচ্ছে, তার প্রতি আরও উদাসীন হয়ে পড়ছে সবাই। কারণে-অকারণে বাবা তাকে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছেন। তিনি প্রতিদিন বাসায় ফিরে আগে মেয়েকে কাছে ডেকে নেন। বাইরে থেকে কিনে আনা খাবারও তাকেই দেওয়া হয়। বোনের সব আবদার পূরণ করা হলেও তার বেলায় দেখা যায় বিপরীত চিত্র।

এসব ঘটনাপ্রবাহ সজীবকে মারাত্মক অভিমানী ও ক্ষুব্ধ করে তোলে। তার ধারণা জন্মে, সবকিছুর জন্য দায়ী ছোট বোন মীম। তাকে সরিয়ে দিতে পারলেই মা-বাবার একচ্ছত্র আদর-ভালোবাসা পাবে শুধুই সে। এমন ধ্বংসাত্মক চিন্তা তাকে ভুল পথে নিয়ে যায়। নির্মম এক সিদ্ধান্ত নিয়ে সে ছোট বোনকে শ্বাসরোধে মেরে ফেলে। পরে তার লাশ ফেলে রাখে বস্তির গোসলখানায়। বুধবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে চার বছরের শিশু মীম হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এমন অবিশ্বাস্য কাহিনী ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ১০ ঘণ্টার মধ্যেই সজীবকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। সে স্থানীয় আইডিয়াল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। এর আগে সে নরসিংদীর রায়পুরায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। এর পর বাবা-মার কাছে ঢাকায় চলে আসে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে তার বোনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

বনানীর কড়াইল বস্তির জামাইবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত মীম। বুধবার সকালে নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর গোসলখানায় তার লাশ পাওয়া যায়। এ সময় তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। এর আগে তার সন্ধান চেয়ে এলাকার মসজিদে মাইকিংও করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা লিটন মিয়া বনানী থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, ক্ষোভের বশে সজীব তার বোনকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে সে পাশের মাদ্রাসা থেকে পড়া শেষে বাসায় ফিরে আসে। এ সময় তার বাবা ঘরের বাইরে যান। আর মীম তখন ঘুমিয়ে ছিল। ঘরে বাবা-মা কেউ না থাকায় এটাকে মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করে সজীব। সে ঘুমন্ত মীমকে গলা টিপে হত্যা করে এবং বিছানার নিচে লুকিয়ে ফেলে। পরে তার বাবা ঘরে ঢুকে মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বাসার বাইরে খুঁজতে যান। এই সুযোগে সজীব তার বোনের লাশ ঘরের পাশের গোসলখানায় রেখে আসে।

শিশুটির বাবা লিটন মিয়া জানান, বনানী এলাকায় তিনি পেয়ারা ও আমড়া বিক্রি করেন। তার স্ত্রী গৃহকর্মীর কাজ করেন। ঘটনার দিন সকালে তার স্ত্রী ঘুম থেকে উঠেই কাজে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তিনিও বাসার বাইরে যান। ফিরে দেখেন, মেয়ে নেই। ছেলে সজীবকে জিজ্ঞাসা করেও কিছু জানতে পারেননি। তখন তিনি বুঝতেও পারেননি এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেছে। পরে যখন জানতে পারলেন, তখন যেন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। কী করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।



বিষয় : খুন রাজধানী