ঢাবি হলে ঝুলন্ত মরদেহ, একাকীত্ব-অর্থসংকটে ছিলেন মঞ্জুরুল
শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম। ছবি-সংগৃহীত
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:১১ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৩ | ১৬:১১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হলের ১৬৫ নম্বর কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার সহপাঠী ও বন্ধুরা জানিয়েছেন, কারো সঙ্গে তেমন মিশতেন না তিনি। একাকীত্ব এবং অর্থ সংকটে ছিলেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাকসুদুর রহমান বলেছেন, তার বড় ভাই, খালাতো ভাইসহ আত্মীয় স্বজনরা এসেছেন। বাবা-মা আসার অবস্থায় নেই। শিক্ষার্থীর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. আল আমিন বলেন, হল প্রশাসন আমাদের ফোন দিয়ে বিষয়টি জানায়। আমরা এসে দেখি, ফ্যানের সঙ্গে মঞ্জুরুলের মরদেহ ঝুলছে।
মঞ্জুরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সেই রুমে আটজন থাকতেন। মঞ্জুরুলের রুমমেট ইমান উদ্দিন জানান, তিনি সকাল ৯টায় রুম থেকে চলে যান। তখন মঞ্জুর ঘুমিয়ে ছিল। এরপর তিনি আর হলে আসেননি। বিকেল ৫টার দিকে তার রুমমেট ইমান উদ্দিন রুমে প্রবেশের জন্য ধাক্কা দিলে মঞ্জুরের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।
তার আরেক রুমমেট মো. ফরহাদ বলেন, সকাল ৭ টায় লাইব্রেরির উদ্দেশ্যে চলে যাই তারপর আর হলে আসিনি। কী কারণে আত্মহত্যা করেছে বলতে পারছি না। তবে মঞ্জু ভাই সব সময় চুপচাপ থাকতেন। পার্শ্ববর্তী ১৬৭ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী হাম্মাদুর রহমান সমকালকে বলেন, ভাই কারো সঙ্গে তেমন মিশতেন না। প্রচুর অর্থ সংকটে ছিলেন। এমনিতে একাকী আর হতাশায় ভুগতেন। ভাই ইয়ার ড্রপ দিয়েছিলেন। তাদের রুম এই সময়ে ফাঁকা থাকে, সবাই লাইব্রেরিতে পড়তে যায়। আর এ সময়ই ঘটনা ঘটে।
তার ফুপু (বাবার চাচাতো বোন) মেহেরুন আক্তার বলেন, মঞ্জুরুলরা তিন ভাই এক বোন, বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। মেজ ভাই গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশবিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে চাকরি খুঁজছে। মঞ্জুরুল হচ্ছেন তৃতীয়। ছোট ভাই ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। তাদের পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্ত, দরিদ্রতার মধ্য দিয়েই তারা বড় হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ঢাকায় থাকি। তবে দরিদ্রতা থাকলেও আমাদের বাসায় কখনও আসতো না। আমাদেরও গ্রামে তেমন যাওয়া হত না। এমন ঘটনা ঘটবে, আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না।
তার সহপাঠী বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান রবিন বলেন, মঞ্জুরুল দুই ইয়ার ড্রপ দিয়েছিল। আমাদের বিভাগের এক ম্যামের সঙ্গে নিজের হতাশার কথা শেয়ার করেছিল। ম্যাম তাকে মনরোগ বিশেষজ্ঞও দেখিয়েছিলেন। সেই ডাক্তার তাকে কিছু মেডিসিন দিয়েছিলেন। তবে সে কয়েকদিন থেকে সেগুলো খাওয়া বাদ দিয়ে দিয়েছিল।
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, তার বাবা-মা কেউ বিশ্বাস করছিল না বিষয়টি। তারা বার বার আমাকে কল করে জিজ্ঞেস করছিল, সে বেশি অসুস্থ কিনা। পরে জেনে বাবা মা দুজনই অজ্ঞান হয়ে যান। তিনি বলেন, পুলিশ ক্রাইম সিনে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ডাইরি এবং একটি টেবিলের ওপর একটি খোলা খাতা পেয়েছে। এগুলো তারা আলামত হিসেবে নিয়ে গেছে।
এ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটল, আমাদের কিছু বলার ভাষা নেই। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর, এরকম অস্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য নয়।