ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাকা চাওয়া নিয়ে ঝগড়া

সহকর্মীর ছুরির আঘাতে খুন হন রাজমিস্ত্রি কামরুল: পিবিআই

সহকর্মীর ছুরির আঘাতে খুন হন রাজমিস্ত্রি কামরুল: পিবিআই
×

সংগৃহীত ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২০:০৯

খুলনার তেরখাদা থেকে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতে আসেন কামরুল ও আল-আমিন। টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চাইলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আল-আমিন সবজি কাটার ছুরি দিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ কক্ষে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে খুলনায় পালিয়ে যান আল-আমিন। গত রোববার ঢাকার আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে কামরুলের পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনার তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

পিবিআই দাবি করেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। নিহত মো. কামরুল খান (৪৪) খুলনার তেরখাদা উপজেলার নয়াবরসাত এলাকার মৃত করিম খানের ছেলে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আল-আমিনকে গত সোমবার খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই জানায়, কামরুল ও আল-আমিন খুলনার তেরখাদার বাসিন্দা। একই এলাকার হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের পরিচিত। কাজের সন্ধানে গত ৮ আগস্ট তারা খুলনা থেকে আশুলিয়ায় এসে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাজমিস্ত্রির কাজে যোগ দেন। ১৪ আগস্ট রাতে কাজের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আল-আমিন কামরুলের কাছে টাকা চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে কামরুল সবজি কাটার ছুরি নিয়ে আল-আমিনকে আঘাত করতে উদ্যত হলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আল-আমিন ছুরিটি কেড়ে নিয়ে কামরুলের গলায় আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান আল-আমিন।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ আগস্ট আশুলিয়া থানার বাসাইদ এলাকায় রাজু সিটির সামনে আমির আলীর ভাড়া দেওয়া একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে বাড়ির মালিক তাহেরুন্নেসা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তালা ভেঙে অজ্ঞাতপরিচয় এক পুরুষের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মামাতো ভাই মো. জামিল শেখ বাদী হয়ে ১৭ আগস্ট আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই দিনই খুলনার তেরখাদা থানা এলাকা থেকে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার আল-আমিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×