গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল, ১৫ আসামি ৩ দিনের রিমান্ডে
ফাইল ছবি
আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪৭
রাজধানীর গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১৫ জনকে ৩ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম জুয়েল রানা রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
এদিন রিমান্ড শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই রুহুল আমিনকে ভর্ৎসনা করেন আদালত। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের তথ্য দিয়েছেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন নিরব খান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল শিকদার, সাহেদ, শান্ত শেখ, হারুন ভাইজভান্ডারী, খালেদ মাহমুদ ফয়সাল, সফিকুর রহমান, বিল্লাল গাজী, ইসমাঈল সিরাজী, আরিফুর রহমান দিপু, ইদ্রিসুল আলম, জয়নাল আবেদীন মামুন, জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ ও মোজাম্মেল হক।
গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে গুলশান-১ এলাকায় কয়েকশ লোকের অংশগ্রহণে একটি মিছিল হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ ঘটনায় গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে ওই দিনই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এতে ১১৮ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬৪ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান এসআই মোক্তার হোসেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর এসআই রুহুল আমিন তাদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ আসামিদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী-যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিন শুনানিকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এসআই রুহুল আমিন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ওবায়দুর রহমান, লিটন মিয়াসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও হারুন-অর-রশীদ আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, আরিফুর রহমান ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রলীগের নেতা। অথচ তাকে দেখানো হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট থানার ছাত্রদল নেতা। তখন বিচারক জুয়েল রানা তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, কীসের তদন্ত কর্মকর্তা আপনি। ছাত্রলীগকে ছাত্রদল লেখেন। একটা ফরওয়ার্ডিং লিখছেন। তাও আবার গুলশান থানায় আছেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা, যা-তা লিখে পাঠিয়ে দেন।
এসময় বিচারক জানতে চান, আসামিদের কবে গ্রেপ্তার করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন তারিখে। তখন বিচারক বলেন, কবে গ্রেপ্তার, নির্দিষ্ট করে লেখা যায় না? গড়গড়িয়ে রিমান্ড চান, আর গড়গড়িয়ে রিমান্ডে নেন। রিমান্ডে নিয়ে পোলাও খাওয়ান।
এ সময় বিচারক বলেন, কাজের নামে কাজ না করে অকাজ করে বেড়াচ্ছেন। হাজার টাকা দিলে মিছিলে মানুষ পাওয়া যায়। গোড়ায় যান না কেন? সবকিছুকে প্রশ্নের মধ্যে ফেলে দেন কেন? আবেদন লিখতে ভুল করেন। এরকম ভুল হলে কীভাবে মিছিল ঠেকাবেন।