ঢাকা উত্তরে ডেঙ্গুর অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১০০ হটস্পট
অমিতোষ পাল
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডেঙ্গু বিস্তারের জন্য রাজধানীর ১০০ এলাকাকে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ (হটস্পট) হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা, বসবাসের অবস্থান পর্যালোচনা করে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস জানান, অতীতেও ওয়ার্ডভিত্তিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল। এভাবে তথ্য সংগ্রহের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোকে আরও সুনির্দিষ্ট করা গেছে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কাজ আরও সহজ হবে।
এই পদ্ধতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কতটা সফল হবে সে বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও মশক বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, অতীতে আমরা মশার ঘনত্ব নির্ণয় করে ডিএনসিসিকে প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। পরে তারা মশার ঘনত্ব ধরেই কাজ করে। এবার ডিএনসিসি আরও সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্বাচন করতে পেরেছে। তবে দেখতে হবে তারা সেসব এলাকায় কতটা কার্যকরভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ অভিযান চালাতে পারছে।
এদিকে, গত ১২ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) তাদের ৭২টি ওয়ার্ডে একটি জরিপ পরিচালনা করে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ২৭টি ওয়ার্ডকে। আর ৩৬টি ওয়ার্ডকে মাঝারি ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সমকালকে বলেন, আক্রান্তের স্থান সুনির্দিষ্ট করা না হলেও ওয়ার্ডভিত্তিক যে তথ্য আমরা মে মাসের জরিপে পেয়েছি এর ভিত্তিতেই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সব ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।
ডিএনসিসির ১০০ হটস্পট
উত্তরার ৪, ৬ ও ৮ নম্বর সেক্টরের বড় ড্রেনসংলগ্ন এলাকা, ৩ নম্বর সেক্টরের ২, ৭ ও ১৩ নম্বর রোড, ৭ নম্বর সেক্টরের ২৮, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর রোড, ৮ নম্বর সেক্টরের সরকারি কোয়ার্টার, ২ নম্বর সেক্টরের এপিবিএন ও এসআরবি হেডকোয়ার্টার, নিকুঞ্জের ১ থেকে ৯ নম্বর রোড, খিলক্ষেত উত্তরপাশের বনরূপা খালের আশপাশ দর্জিবাড়ি লেকসিটি এলাকা, জগন্নাথপুরের যমুনা টিভি, গ্রীন টিভি এলাকা, সাগুপ্তা আবাসিক এলাকা, মিল্ক ভিটা আবাসিক এলাকা ও ডেসকো অফিস, বাউনিয়া বাঁধ বস্তি এলাকা, দক্ষিণ পল্লবী ও মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়াম, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বিশিল ও কুসুমবাগ নিচু এলাকা, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিকাটা, মানিকদী ও ভাসানটেক, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনানীর কড়াইল বস্তি, বনানীর রাজউক কোয়ার্টার, সিভিল এভিয়েশন কোয়ার্টার, পিডব্লিউডি ও কাস্টমস কোয়ার্টার, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মহাখালীর বেলতলা বস্তি, সাততলা বস্তি, ক্যান্সার হাসপাতাল, বক্ষ্যব্যাধি হাসপাতাল, ইপিআই ভবন, ক্যান্সার কোয়ার্টার, তিতুমীর কলেজ, বিএমআরসি ভবন, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সামনের রিকশা গ্যারেজ, পুরোনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাড্ডা মালিক ডিলার বাড়ি, বাড্ডা ছয়তলা স্টাফ কোয়ার্টার, কমিশনার শ্বশুরবাড়ি, উত্তর বাড্ডা গরুর ফার্ম, বিটিআই ভবন, কানুর পুকুরপাড়, বাড্ডা গুদারাঘাট নার্সারি, বাড্ডা লিংক রোড পপুলার, তিতাস রোড বড়াইতলা, মেরুল বৌদ্ধ মন্দির, হোসেন মার্কেটের পেছেন, এমজেডের পেছেন, পুঁজি টাওয়ারের পাশের ভবন, মেরুল বাড্ডা কলাবাগান, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল থেকে রামপুরা টিভি সেন্টার, সাংবাদিক গলি, উলন মধ্যবাজার, জামতলা কবরস্থান গলি, কুঞ্জবন এলাকা, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া, টোলারবাগ কোয়ার্টার, আহমদনগর, দক্ষিণ বিশিল, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর ২, বড়বাগ, মনিপুর ও ৬০ ফুট, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেওড়পাড়া, মিরপুর ১০ ও রোকেয়া সরণি, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের শেখেরটেক, শ্যামলী হাউজিং ১-২, নবোদয় হাউজিং, বায়তুল আমান হাউজিং, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা উদ্যান, নবীনগর হাউজিং, চন্দ্রিমা মডেল টাউন, বসিলা সিটি, কাটাসুর, জাফরাবাদ, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ৈখালী, মেট্রো হাউজিং, বেড়িবাঁধ বাগানবাড়ি, পাবনা হাউস, বাবরি মসজিদ গলি, মধুবাজার, শঙ্কর এলাকা, ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরা মডেল টাউন ১১ থেকে ১৪ নম্বর সেক্টর ও নির্মাণাধীন বাড়ি, ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের দলিপাড়া, আহালিয়া, পাকুরিয়া, ১৭ নম্বর সেক্টরের নার্সারি ও নির্মাণাধীন বাড়ি, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের নয়ানগর, দিয়াবাড়ি, রানাভোলা, ফুলবাড়িয়া, দিয়াবাড়ি মেট্রো ডিপো, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামারপাড়া, রাজাবাড়ি, ধউর, ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের চালাবন, মিজানের গ্যারেজ, ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের আইনুসবাগ, তালতলা, নদ্দাপাড়া, দক্ষিণপাড়া, এশিয়ান নর্দান ইউনিভার্সিটি, ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের আশকেনা মেইন রোড সিটি কমপ্লেক্স, খলিল বক্স রোড, আমীরবক্স রোড, মিয়া বক্স রোড, ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদ মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা রোড, বনবীথি আবাসিক এলাকা, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরেরচালা বাজার ও ভূমি অফিস, খিলবাড়িরটেক, বালুরমাঠ, সাইদনগর বি ব্লক, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীবাড়ি, কোকাকোলা টেকবাড়ি, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ডুমনি বাজার, চেয়ারম্যানবাড়ির পাশ, নূরপাড়া, মস্তুল বেলতলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, পাতিরা দক্ষিণপাড়া, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের আফতাবনগর ও মধ্য বাড্ডা এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাতারকুল।
ডিএসসিসির অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড
অঞ্চল-১ এর (ধানমন্ডি-রায়েরবাজার) ১৫, ১৭, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চল-২ এর (খিলগাঁও-তিলপাপাড়া) ২, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১৩, অঞ্চল-৩-এর (হাজারীবাগ-ইসলামবাগ) ২৩ থেকে ২৬, ২৮, ৫৫, ৫৬, ৫৭, অঞ্চল-৪ এর (চকবাজার, বংশাল, কোতোয়ালি, সূত্রাপুর) ৩২, ৩৬, ৩৮, অঞ্চল-৫ এর (যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর) ৭, ৫২, অঞ্চল-৭ এর (মান্ডা-দক্ষিণগাঁও) ৭৩, অঞ্চল-৮ এর (ডেমরা) ৬৮, অঞ্চল-৯ এর (দনিয়া-মাতুয়াইল) ৬২ নম্বর ওয়ার্ড অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে গত মে মাসে চিহ্নিত করেছিল ডিএসসিসি।
- বিষয় :
- ডেঙ্গু