মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ এফপি সেন্টার
মধ্যরাতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো গরিবের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র
মুখোশ পরে দুইশ থেকে আড়াইশ লোকের হামলা
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার লুটপাট করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেখানে টানানো হয় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ সাইনবোর্ড। গতকাল শুক্রবার সকালে তোলা -সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরে একটি বেসরকারি সংস্থার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মুখোশ পরা ২০০ থেকে ২৫০ ব্যক্তি দেশি অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালায়। তারা নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন ভেঙে ফেলে।
প্রতিষ্ঠানটির নাম রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। প্রধানত নিম্নবিত্তের মানুষজন এখানে টিকাসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিত। ১০ কাঠা জমির ওপর অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির ১৬টি কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। সেখানে থাকা এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা, আসবাবসহ যাবতীয় মালপত্র কয়েকটি ট্রাকে ভরে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তারা সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সাইনবোর্ড ও ব্যানার লাগিয়ে দেয়।
টিকাদান, অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের চিকিৎসা, মাতৃ স্বাস্থ্যসেবার জন্য ১৯৭৪ সাল থেকে রাড্ডা মিরপুরবাসীর কাছে ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিতি পায়। সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দরিদ্র, অসহায় নারী ও শিশুদের বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটির যাবতীয় মালপত্র লুটের পেছনে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির জমি দখলের চেষ্টা আছে বলে মনে করছেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা।
গতকাল শুক্রবার ঘটনাস্থলে রাড্ডার নিরাপত্তারক্ষী জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হলো। ১৯ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন তিনি। ৬০ বছর বয়সের জাকির বলেন, ‘আমার মা-বাবা এখানে এনে আমাদের ভাইবোনদের টিকা দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর মিরপুরের প্রথম টিকাদান কেন্দ্র এটি। সুইডিশ অর্থায়নের এটি পরিচালিত হতো। তারা চলে যাওয়ার পর এটি পরিচালনার জন্য বোর্ড হয়। আমার তিন সন্তানকে এখানে টিকা দিয়েছি। বুধবার আমার ৯ মাসের নাতি ইরহামকে এখানে টিকা দিই। টিকাদান ঘিরে রাড্ডার সঙ্গে আমার তিন প্রজন্মের সম্পর্ক। একই চিত্র এই এলাকার আরও অনেক বাসিন্দার। কীভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠান কেউ দখল করতে পারে।’
এ কথা বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।
গতকাল দিনভর স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাড্ডার সামনে এসে দখল ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দখল-লুটপাটের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মানববন্ধন করেন রাড্ডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা এতে যোগ দেন।
টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নজিরবিহীন তাণ্ডবের পর গতকাল বিকেল পর্যন্ত পুলিশের কোনো সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।
হামলা-লুটপাটের ঘটনায় গতকাল শাহ আলী থানায় মামলা করেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার। মামলার এজাহারে হানিফ মিয়া নামে একজনের উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি এবং দেড় কোটি টাকার বেশি ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক বছর ধরে তিনটি পৃথক গ্রুপ রাড্ডার জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। একটি পক্ষ ১০ কাঠা জমি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি বলে দাবি করছে। ওই পরিবারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা আছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তারা এখন এলাকাছাড়া। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির দুটি গ্রুপ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে তা দখল নেওয়ার চেষ্টা করছিল। জমিটি নিয়ে আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলা ও রিট রয়েছে।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিএনপির প্রয়াত নেতা ও সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার সমকালকে বলেন, জায়গাটি ছিল গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের। তারা এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে। এই জায়গার ওপর টিকা ও স্বাস্থ্য সেবামূলক কার্যক্রম চালাতে রাড্ডাকে অনাপত্তিপত্র দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সেভাবে কয়েক দশক করে রাড্ডা জমিটি ব্যবহার করছে। স্থায়ীভাবে জমিটি পাওয়ার জন্য রাড্ডার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়েছিল। সেটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
নাসরিন আখতার বলেন, ‘এভাবে হামলা ও লুটপাট হতে পারে— এটা কল্পনাও করা যায় না। প্রতিদিন গড়ে এই কেন্দ্রে চার শ শিশু ও মাকে সেবা দেওয়া হয়। লুটপাটের কারণে অনেক শিশুর টিকার নথি হারিয়ে গেছে। কম্পিউটার ভেঙে ফেলা ও নথিপত্র তছনছ করায় এসব শিশুর নথি পাওয়া কঠিন হবে। তবে কাল (আজ শনিবার) পূর্বঘোষিত যে টিকাদান কর্মসূচি মিরপুর ১ নম্বর সেন্টারে রয়েছে, তা ধ্বংসস্তূপের ওপরই আমরা চালিয়ে যাব। যাতে শিশু ও তাদের অভিভাবকরা কোনো বিপদে না পড়েন।’
জানতে চাইলে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি সমকালকে বলেন, ‘দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে হয়তো এ ঘটনায় আমার নামটা কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়াতে পারে। যেহেতু এখন মামলা হয়েছে, আইনগতভাবেই ব্যবস্থা হোক। সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সঙ্গে আমি যুক্ত আছি। তবে এখন তারা যে সংগঠনের নেতৃত্বে সেটি জানি না।’
মামলার আসামি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য হানিফ মিয়া গতকাল সমকালকে বলেন, ‘গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে আমাকে কয়েকজন ফোন দিয়েছে। কিন্তু আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। সকালে গিয়ে দেখি এই অবস্থা। আমার লোকজন গিয়ে ভেঙেছে, এটা মিথ্যা, বানোয়াট কথা। আমার সঙ্গে এত লোক নেই। সামনে নির্বাচন করব। তাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে আমাকে মামলায় জড়াতে পারে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হোক।’
হামলার সময় সেখানে দুজন নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্বে ছিলেন। তাদের একজন আবদুল হাই। তিনি সমকালকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কয়েকশ লোক দেয়াল টপকে রাড্ডায় ঢুকে পড়ে। তারা এসে আমাদের দুজনকে বেঁধে মারধর শুরু করে। এরপর মোবাইল ও মানিব্যাগ কেড়ে নেয়। এক পর্যায়ে রাড্ডার দেয়ালের বাইরে বের করে দেয়। অনেক সময় পর কয়েকজন পুলিশ এসে ঘুরে গেলেও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’
আবদুল হাই বলেন, হামলাকারীরা চারটি ট্রাক নিয়ে এসেছিল। ভবন থেকে লুট করা মালপত্র ট্রাকে করে নিয়ে যায়। ভবনের ভেতরে থাকা গাছ কেটে ফেলে তারা।
রাড্ডার মিরপুর ১ নম্বর সেন্টারের ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জ নূর মোহাম্মদ খান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা জানার পর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। এরপর আমাদের লোকজন সশরীরে থানায় যায়।
গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সেন্টারটির সামনের গেট বন্ধ, ভেতরে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। তবে গেটের ওপরে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লি.’-এর সাইনবোর্ড লাগানো। পরে পশ্চিম দিকে সেন্টারের পেছনের দিকে গিয়ে দেখা যায়, পেছনের অংশেও একই লেখার সাইনবোর্ড লাগানো। সেন্টারটির একপাশে গাছের বেশ কিছু কাটা ডাল পড়ে আছে। অন্যপাশে গাছের গুঁড়িসহ উপড়ে ফেলা একটি গাছ পড়ে রয়েছে। সেন্টারের এক পাশ পুরো ভাঙা। প্রতিটি জানালা, দরজাসহ বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরো জায়গাটিতে ইট ও দেয়ালের ভাঙা অংশ পড়ে রয়েছে। সেন্টারটির সামনের দিকে ফেয়ার প্লাজা, পেছনে শাহ আলী সিটি করপোরেশন মার্কেট, বাঁ দিকে উত্তর পাশে ছিন্নমূল শপিং কমপ্লেক্স ও ডানদিকে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কয়েকশ লোক রাড্ডা সেন্টারটিতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। হাতুড়ি দিয়ে সেন্টারের বিভিন্ন দেয়াল ভাঙতে থাকে। পরে পেছনের দিকের দেয়াল ও সেন্টারের কিছু কিছু অংশ ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ভেঙে ফেলে। হামলাকারীদের একটি অংশ ভাঙচুরে অংশ নেয়। আরেকটি অংশ লুটপাট করে। ভাঙচুর শেষে হামলাকারীরা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে চলে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইসমাইল সমকালকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে মিরপুরে এই একটাই টিকাদান কেন্দ্র ছিল। এই এলাকার স্থানীয়রা স্বাধীনতার পর থেকে তাদের ছেলেমেয়েদের এখানে টিকা দিতেন। আমার নাতি-নাতনিদের এখান থেকেই টিকা দিয়েছি।’
রাড্ডার পেছনে শাহ আলী সিটি করপোরেশন মার্কেট। মার্কেট ও রাড্ডার মাঝে একটি সড়ক। রাড্ডার দেয়ালঘেঁষা ফুটপাতে পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় সাতটি দোকান। বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে দোকানগুলো সরাতে নির্দেশ দেয় হামলাকারীরা। এরপর তড়িঘড়ি করে দোকান সরাতে বাধ্য হন দোকানিরা। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে দেয়াল ভাঙে হামলাকারীরা।
ফুটপাতের এক দোকানি সমকালকে বলেন, ‘রাতে হঠাৎ করে দোকান সরাতে বলে। পরে রাত ১টার দিকে এসে তড়িঘড়ি করে দোকান সরাই। পরে পেছনের দেয়ালটি ভাঙে। এর আগে সামনের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লোকজন। তারা হাঁতুড়ি দিয়ে ভেতরে সব ভাঙতে থাকে। এ সময় কিছু লোক মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।’
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সমকালকে বলেন, ‘মধ্যরাতে মালপত্র সরিয়ে নেওয়া ও ভাঙচুরের কথা জানার পরই বিষয়টি আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে শাহ আলী থানার ওসিকে ফোন করি। ওসি বলছিলেন, একটি পক্ষ তাদের কাছে ওই জমির মালিকানার কাগজপত্র রয়েছে বলে দাবি করছে। ওসি ফোনে আমাকে একজনকে ধরিয়ে দেন। ওই ব্যক্তিকে তখন বলেছি, কাগজপত্র থাকলে যথাযথ মাধ্যমে সেটি যেন পুলিশকে অবগত করে। ওই মূহূর্ত থেকে যেন প্রতিষ্ঠানটি থেকে তারা চলে যায়।’
নাছের রিকাবদার আরও বলেন, ‘রাতের আঁধারে যারা দখল ও ভাঙচুর করেছে, তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেব। মামলা হয়েছে। এখন তদন্ত চলবে। এই ঘটনায় কেউ ছাড় পাবে না। ন্যায্যতা আমরা নিশ্চিত করব।’
প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কারণে আজ শনিবার থেকে ওই কেন্দ্র থেকে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, ‘টিকাদান যাতে ব্যাহত না হয়, পুলিশ সেই ব্যবস্থা করবে।’
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম সমকালকে বলেন, ‘৯৯৯ থেকে কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের নাম বৃহস্পতিবার রাতে আমি প্রথম শুনেছি।’
লুটপাট ঠেকাতে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের কোনো সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি– এমন অভিযোগের ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দখল ও লুটপাটে যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে ব্যস্ত থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি পুলিশ। খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভালো খবর দেব।’
ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা। গতকাল বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির সামনে মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় শতাধিক ব্যক্তি মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধন চলাকালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘যারা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। ৫০ বছর ধরে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রাড্ডার স্বাস্থ্যসেবামূলক যেসব কার্যক্রম চলছিল, সেই কার্যক্রমটা যেন আবার চালু করতে পারি সরকারের কাছে সেই সহযোগিতা চাই। ২০২২ সালেও একবার দখলের চেষ্টা হয়। তখন তারা সফল হয়নি।’
মানববন্ধনে রাড্ডা কমিউনিটি হেলথ প্রোগ্রামের পরিচালক ইকবাল জিল্লুল মজিদ বলেন, জেনেভা ও রোম কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো ধরনের হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কেউ সন্ত্রাসী আক্রমণ করলে, সেটা যুদ্ধাপরাধ হয়। ৫১ বছর ধরে রাড্ডা এই এলাকার মা, শিশু ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, দুটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), তিনটি স্টিলের আলমারি, সিসিটিভি ক্যামেরা, চেয়ার-টেবিল ও অন্যান্য আসবাব নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির বিদ্যুতের তার ও সিলিং ফ্যানও লুট হয়েছে।
বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান রাড্ডার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন। ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে খ্যাত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি নারী ও সমাজকর্মী তাহরুন্নেসা আবদুল্লাহ কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক আমলা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ, ব্যবসায়ী এ এস এম কাশেম এবং সাবেক সচিব আবদুল করিম ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন। দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব কাজী ফজলুর রহমান, প্রখ্যাত গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক টি এ চৌধুরী, প্রকৌশলী অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডে ছিলেন।
স্বাধীনতার পর সেভ দ্য চিলড্রেনের সুইডিশ শাখা রাড্ডা বার্নেনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। মিরপুর ১০ এলাকায় এর প্রধান কেন্দ্র। এছাড়া মিরপুর ১, বাউনিয়াবাদ, উত্তরা, ভাসানটেক বস্তি ও পুরান ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির সেবা কার্যক্রম রয়েছে।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্যসেবা