ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কেডা মারল শাকিলরে?’

মরদেহ ফেরত দিল ত্রিপুরা পুলিশ

‘কেডা মারল শাকিলরে?’
×

মো. শাকিল মিয়া

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১০

‘কেডা মারল শাকিলরে? আমার শাকিলের মুখটা দেখাও। তোমরা শাকিলের লেইগা দোয়া করিও।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে এভাবেই বিলাপ করছিলেন আবুল কালাম। তাঁর ছোট ভাইয়ের ছেলে মো. শাকিল মিয়া (১৪) নিখোঁজ হয়েছিল গত বুধবার।

গত শনিবার সন্ধ্যায় কাঁটাতারের ওপারে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। গতকাল রোববার বিকেলে তার লাশ আখাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পশ্চিম ত্রিপুরা থানার পুলিশ। এ সময় এই কিশোরের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

শাকিল আখাউড়ার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার ছেলে। স্বজনেরা জানায়, এই কিশোর মানসিক প্রতিবন্ধী। বুধবার রাত থেকে তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না তারা। গত শনিবার সন্ধ্যায় আব্দুল্লাহপুর সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের সানমোড়া এলাকায় তার মরদেহ দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে গতকাল শাকিলের মরদেহ ফিরিয়ে দেয় তারা। 

শাকিলের বাবা আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার দেওয়া তথ্যমতে, ‘দীর্ঘদিন ধরেই শাকিল অসুস্থ। আমার মেয়ের বিয়ে ছিল বৃহস্পতিবার। এর আগের দিন ছিল গায়ে হলুদ। গায়ে হলুদের রাত থেকে শাকিলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।’ খোঁজাখুঁজির পর শনিবার জানতে পারেন, ভারতের ভেতরে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ব্রিজের কাছে লাশ পড়ে আছে। তারা গিয়ে এপার থেকেই শাকিলের লাশ শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে তাঁর ছেলের শত্রুতা ছিল না। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘কীভাবে শাকিল সীমান্তের শূন্যরেখায় গেল, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনিবার বিকেলে আগরতলা পশ্চিম থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পর গতকাল বিকেলে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, আগরতলায় হওয়া শাকিলের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রতিবেদন এনে তাদের সুরতহালের সঙ্গে মিলিয়ে বিষয়টি তদন্ত করবেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে মরদেহ।

সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, ছেলেটি অসুস্থ ছিল। এ কারণেই মারা যেতে পারে। 

আরও পড়ুন

×