ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে

চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের আন্দোলন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে
×

ছবি: সমকাল

চুয়েট সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৫২

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শাটডাউন, গণঅবস্থান ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এসব কর্মসূচি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে সকাল থেকে শুরু হয় গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে স্বাক্ষর করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে আকস্মিক এ পরিবর্তনের কোনো কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়নি।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার রাতে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মঙ্গলবার থেকে শাটডাউন ও গণঅবস্থান শুরু হয়, যা বুধবারও অব্যাহত রয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবির পেছনে কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, সমস্যা শোনা ও সমাধানে উদ্যোগী হন। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন। 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময়, স্কলারশিপ, গবেষণা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও অ্যালামনাই নেটওয়ার্কিংয়ের মতো উদ্যোগ তাঁর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছিল। এছাড়া, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বৃদ্ধির যেসব উদ্যোগ শুরু হয়েছিল, সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখার আগেই উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসে। তাঁরা এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান।

তাদের দাবি কেবল ৫৬ দিনের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এই সময়ে তৈরি হওয়া আস্থা, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশাসনের সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা উপাচার্যকে পুনর্বহাল চান।

আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

×