‘আমরা আতঙ্কে আছি, কখন আবার কী ঘটে’
আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা
রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় বাড়ির গেটে হামলা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:০৭ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:০৭
‘শনিবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রসহ বাড়ির গেটে হামলা ও ক্যামেরা ভেঙে ফেলার পর থেকে আতঙ্কে আছি। কখন আবার কী ঘটে এই আশঙ্কায় বাজার-সদাই করতেও বের হতে ভয় পাচ্ছি।’
রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় ৪১/৪২ নম্বর বাড়ির মালিক আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন রোববার সমকালকে এসব কথা বলেন। শনিবার সকালে ওই বাড়িটি দখলচেষ্টার বর্ণনা করে মনির বলেন, যারা অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে এসেছিল, তাদের মধ্যে তিন থেকে চারজন মুখোশ পরিহিত ছিল। তারা গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গেট কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে অনেক ভাড়াটিয়া নেমে আসেন। তখন হামলাকারীরা চলে যায়।
মনির বলেন, হামলাকারীরা এসে বলছিল, টাকা দে। বাসা খালি কর। কীভাবে বাসায় থাকিস দেখাব। মাস দুয়েক আগেও একবার মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে হুমকি দিয়ে যায়।
মনির বলেন, হামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রোববার থানার ওসি এসেছিলেন। ডিবির লোকজন আসে। তারা আসার পর একটু সাহস পাচ্ছি।
সিসি ফুটেজে দেখা যায়, জানালার কাচ ভাঙচুর করা হচ্ছে। ইটের টুকরা দিয়ে দোতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
আটতলা বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।
মনির হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ বাড়িটির দখল ফেরত পান তারা।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, ভাঙচুর চলাকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে এসে পৌঁছায়। শনিবার বাড়িতে হামলার পর পুলিশ বাড়ির বিষয়ে একটি নোটিশ পাঠায়। এ বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি আদাবর থানার ওসি ওই বাড়ির সামনে হাজির হয়ে ভিডিও করেন।
আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আদাবরে বাড়ি দখল ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
ওসি বলেন, ‘পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেছে। কয়েক দিন আগে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর আমি একা সেই বাড়ির সামনে গিয়ে তথ্য নিয়েছি। আমার পুলিশিং স্টাইল আলাদা। তদন্তের কাজে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে ভিডিও করা হয়েছিল।’