ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ফল 

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ফল 
×

 ডা. শাহজাদা সেলিম

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর অনেকে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন, কারণ ফল মিষ্টি। বাস্তবে ডায়াবেটিসে ফল সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার দরকার নেই। সঠিক পরিমাণে, সঠিক ধরনের ও সঠিকভাবে খেলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। কোনো একটি ফল একাই রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করে না। মোট খাদ্যাভ্যাস, পরিমাণ, শারীরিক পরিশ্রম, ওজন, ওষুধ ও ডায়াবেটিসের ধরন–সব মিলিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

আস্ত ফলে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। খাদ্যআঁশ গ্লুকোজ শোষণের গতি ধীর করে ও পেট ভরা রাখে। তাই মিষ্টির বদলে পরিমিত গোটা ফল খাওয়া ভালো।পেয়ারা সহজলভ্য। এতে আঁশ ও ভিটামিন সি আছে। ‘কাঁচা পেয়ারা সুগার কমায়’ বা ‘প্রাকৃতিক মেটফরমিন’–এমন দাবির পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। লবণ-চিনি মেশানো এড়ান।

জামে পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। জামবীজ বা পাতা ওষুধের বিকল্প নয়। গোটা ফল পরিমিত খাওয়াই ভালো।

আপেল, কমলা ও মালটায় আঁশ আছে। জুস না করে গোটা ফল খান। জুসে আঁশ নষ্ট হয় ও চিনি দ্রুত বাড়ে।

বেরি জাতীয় ফলে আঁশ ও পলিফেনল থাকে। দেশীয় মৌসুমি ফলও যথেষ্ট; বিদেশি ফল কেনার বাধ্যবাধকতা নেই।

অ্যাভোকাডোতে কার্ব কম, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশ বেশি। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ, কিন্তু অন্য খাবারের সুগার ‘সমান’ করে না।

কলা নিষিদ্ধ নয়। পরিমাণ ও ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া দেখুন। খুব পাকা কলায় সহজে হজমযোগ্য কার্ব বেশি হতে পারে।

করলা খাবার, ওষুধ নয়। কিছু গবেষণায় সামান্য প্রভাব দেখা গেলেও ওষুধ বা ইনসুলিন নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করা যাবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ–কতটা ও কীভাবে খাচ্ছেন। গোটা ফল অগ্রাধিকার দিন। জুস, স্মুদি, চিনি-মধু মেশানো শরবত এড়ান। একসঙ্গে অনেক ফল না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন।

সহজ নিয়ম: ফল খাবেন, জুস নয়; পরিমাণ বুঝে খাবেন; দেশীয় ফলকে প্রাধান্য দেবেন; ওষুধ বন্ধ করবেন না। কোনো ফল জাদুর মতো কাজ করে না। সুস্থ খাদ্যাভ্যাস, পরিশ্রম, ওজন, ওষুধ ও নিয়মিত চিকিৎসা–সব মিলিয়ে ভালো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

[সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়]

আরও পড়ুন

×