ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে, প্রভাব নেই সূচকে

বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়েছে, প্রভাব নেই সূচকে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২২ | ০০:২৯ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২২ | ০০:২৯

একদিকে নিম্নমুখী ধারা, অন্যদিকে জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ- এ দুই ইস্যুতে আজ বুধবারও শেয়ারবাজার লেনদেনে অস্থিরতা আছে। বেশিরভাগ শেয়ারের দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু তার প্রভাব মূল্য সূচকে নেই।

এর কারণ, বৃহৎ বাজার মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের অপেক্ষাকৃত বেশি দরপতন অন্য শেয়ারের দরবৃদ্ধির প্রভাবকে নষ্ট করছে। সূচকের নিম্নমুখীতার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়ছে অন্য শেয়ারেও।

এরই মধ্যে ইমাম বাটনের মতো রুগ্ন ও লোকসানি কোম্পানিসহ দুই-একটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজিও চলছে। ইমাম বাটনের শেয়ারের দর এক মাসে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেও শেয়ারটি ২৪ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছিল। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেয়ারটি ৪০ টাকায় উঠেছিল। পরের তিন সপ্তাহ এক দরে স্থির থেকে মার্চের শেষ থেকে ফের দরের উল্লম্ফন শুরু হয়েছে। আজ শেয়ারটি কেনাবেচা হচ্ছে ৬০ টাকা ৪০ পয়সায়। 

আজও যথারীতি সকাল ১০টায় শেয়ারবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ২০১ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১১১ শেয়ার এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা যায় ৬৪টিকে।

প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। আজ সূচকটির যাত্রা শুরু হয় ৬ হাজার ৬৭৭ পয়েন্ট থেকে। প্রি-ওপেনিং সেশনের লেনদেনে ভর করে সকাল ১০টায় ১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬৯৩ পয়েন্ট ছাড়ায়।

শুরু থেকে বেশিরভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হলেও বৃহৎ বাজার মূলধনী কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচকটি ১০টা ৩৭ মিনিটে আগের অবস্থান থেকে ২০ পয়েন্ট হারিয়ে ৬ হাজার ৬৭৩ পয়েন্টে নেমেছিল। 

লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় এ বাজারে ৩৬৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেন চলবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।

দুপুর ১২টায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল সাত কোম্পানির শেয়ার। এর মধ্যে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হচ্ছিল ইমাম বাটন এবং জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট কোম্পানি দুইটির শেয়ার। যথাক্রমে ৫ থেকে ৭ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায় বিডি মনোস্পুল পেপার, অলটেক্স, এপেক্স ফুটওয়্যার, ম্যাকসন্স স্পিনিং এবং সিমটেক্সের শেয়ার। বিপরীতে ৪ থেকে প্রায় ৫ শতাংশ দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ন্যাশনাল টি, আমান ফিড, সাভার রিফ্যাক্টরিজ এবং বিকন ফার্মার শেয়ার।

আজ ৫২ কোম্পানি সর্বশেষ জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে অনেক কোম্পানির আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি আছে, আর মুনাফা কমারও তথ্য দিয়েছে বেশ কিছু কোম্পানি। যেমন- গত প্রান্তিকে এপেক্স ফুটওয়্যার কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৬৪ পয়সা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯৭ পয়সা। এর প্রভাবও দেখা যাচ্ছে শেয়ারটির দরে। প্রায় ৫ শতাংশ দর বেড়ে বেলা সাড়ে ১১টায় শেয়ারটি ২৯৩ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

বিপরীতে প্রিমিয়ার সিমেন্টের ইপিএস অর্জিত হয়েছে মাত্র ১৪ পয়সা, যা গত বছরের একই বছরে ছিল ১ টাকা ৫৬ পয়সা। এ খবরে শেয়ারটির দর ১ শতাংশ কমে ৫৩ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

অন্তর্বর্তীকালীন ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কেঅ্যান্ডকিউ। এছাড়া কিস্ট্রাল ইনস্যুরেন্স ১০ শতাংশ নগদ, এবি ব্যাংক ২ শতাংশ নগদের সাথে ৩ শতাংশ স্টক, ইসলামী ব্যাংক ১০ শতাংশ নগদ, ঢাকা ব্যাংক ১২ শতাংশ নগদ, আল-আরাফা ব্যাংক ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন

×