ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১০-৩০ কাউন্ট সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ বহালের দাবি

১০-৩০ কাউন্ট সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ বহালের দাবি
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

তৈরি পোশাক উৎপাদনে বহুল ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন স্পিনিং মিলগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তারা বলেছেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার বাড়লে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং সুতা আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। পাশাপাশি বন্ড সুবিধায় আমদানি করা সুতা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির সুযোগও কমবে। 

গতকাল বুধবার স্পিনিং শিল্পে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে

মোট চারটি দাবি তুলে ধরা
হয়। অন্য দাবিগুলো হচ্ছে– বস্ত্র শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, রিসাইকেল ও টেকসই পণ্যের উৎপাদনে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা, শিল্প, ব্যাংকিং, কর্মসংস্থান ও রপ্তানির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সমন্বিত টেক্সটাইল-আরএমজি নীতি গ্রহণ এবং রিসাইকেল ও টেকসই পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এসব সুবিধা দেওয়া হলে দেশীয় স্পিনিং শিল্প সচল থাকলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও রপ্তানি সক্ষমতা সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সালমা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আজহার আলী। তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গত ৭ সেপ্টেম্বর ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার করেছে। তবে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত শর্তে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে সুতা আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ব্যবস্থা দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা ব্যবহার এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ। 

তিনি বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ থাকায় প্রকৃত রপ্তানিকারকদের কাঁচামাল আমদানি বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার ব্যবহার বাড়লে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো চালু হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্তির সঙ্গে রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের শর্ত যুক্ত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়বে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসিত না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে দেশে ৫৩০টি স্পিনিং মিল রয়েছে। বছরে সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা ৪২০ কোটি কেজি। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ১১৭টি স্পিনিং মিল পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে ৪১৩টি মিল পূর্ণ বা আংশিকভাবে চালু রয়েছে। চালু মিলগুলোর ১০-৩০ কাউন্ট কটন সুতা উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১৩০ কোটি কেজি। বিপরীতে ২০২২-২৩ অর্থবছর এই মানের কটন সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ কোটি ৬০ লাখ কেজি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৬ কোটি কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই অর্থবছরে এ ধরনের সুতা আমদানি প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। 

আরও পড়ুন

×