শেয়ারবাজারে আইনি সীমার বেশি বিনিয়োগ, ১ বছর সময় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ | ২১:৪০ | আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০২২ | ২১:৪০
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাব করার পদ্ধতি বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যে নির্ধারণ করায় বিপাকে পড়েছে কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক। শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির দাবি মেনে এ নিয়ম চালুর অন্তত পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ আইনি সীমা ছাড়িয়েছে। যাদের আইনি সীমার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। আইন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক তার রেগুলেটরি ক্যাপিটাল বা নিয়ন্ত্রণমূলক মূলধনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পুজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ব্যাংকের শেয়ারবাজার এক্সপোজার বা বিনিয়োগ সীমা গণনার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যকে বাজার মূল্য বিবেচনা করতে হবে- গত জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরই এমন সার্কুলারের কারণে ওই সময়ই কিছু ব্যাংকের বিনিয়োগ আইনি সীমা ছাড়ায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর এক কর্মকর্তা জানান, আইনি সীমা ছাড়িয়েছে ৪ থেকে ৫টি ব্যাংকের। এর বাইরে ৬ থেকে ৭ ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা আইনি সীমা ছুঁই ছুঁই অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে এসব ব্যাংক নতুন করে বিনিয়োগের সুযোগ হারিয়েছে। ক্রয়মূল্যে গণনার নিয়ম চালুর আগে যে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণমূলক মূলধনের ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ ছিল, এখন তা ২০ থেকে ২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। যাদের ২০ থেকে ২২ শতাংশ ছিল, সেগুলো ২৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। কোনো ব্যাংক যখনই যে দরেই শেয়ার কিনে থাকুক না কেন, ওই শেয়ারের বাজারমূল্যের ভিত্তিতে তার এক্সপোজার গণনা করা হতো। ২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর গত জুলাই পর্যন্ত এ নিয়ম চলছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, এভাবে ব্যাংকের এক্সপোজার গণনায় ব্যাপক দাবি জানিয়ে আসছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ দাবি উপেক্ষা করায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছিল সংস্থাটি। শেষ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে এ-সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পরামর্শ দেয়। বিএসইসির যুক্তি ছিল, ক্রয়মূল্যে হিসাব করা হলে ব্যাংকগুলো অধিক হারে বিনিয়োগ করতে পারবে, পাশাপাশি সার্বিক ঊর্ধ্বমুখী ধারার সময় ব্যাংকগুলোকে তাদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগ আইনি সীমায় রাখতে বাধ্য হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে হবে না।
সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বেশিরভাগ ব্যাংকের পোর্টফোলিওতে এখন যে শেয়ার আছে, তার উল্লেখযোগ্য অংশ ২০১০ সালের ধসের আগে ও কিছু পরে কেনা। ওই সময় যে শেয়ারের দর ১০০ টাকা ছিল, এখন সে শেয়ার হয়তো ১০ থেকে ২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে জুলাই পর্যন্ত তাদের এক্সপোজার অনেক কম দেখাচ্ছিল। কিন্তু আগস্টে যখনই বাজারমূল্য ধরে এক্সপোজার গণনা করা শুরু হয়েছে, তখন তা অনেক বেড়ে গেছে। এটাই সমস্যা তৈরি করেছে।
কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা সিএফও সমকালকে জানিয়েছেন, নিয়ম পরিবর্তন না করার জন্য তাঁরা আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সতর্ক করেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, বিএসইসির দাবি যুক্তিযুক্ত নয়। ক্রয়মূল্যের নিয়ম চালু করায় অনেক ব্যাংক উল্টো সংকটে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা না মেনে নিয়ম পরিবর্তনের ফল ভোগ করছে ব্যাংক এবং শেয়ারবাজার।