ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীতি সহায়তা পেলে পাঁচগুণ বাড়বে পাট রপ্তানি: শেখ নাসির উদ্দিন

নীতি সহায়তা পেলে পাঁচগুণ বাড়বে পাট রপ্তানি: শেখ নাসির উদ্দিন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৩ | ১৩:০৯ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৩ | ১৩:০৯

পাটপণ্য বহুমূখীকরণ করা সম্ভব হলে এবং প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ খাতের রপ্তানি পাঁচগুণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ নাসির উদ্দিন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শনিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত 'স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ব্যবসায়ী সম্মেলনে' তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। পাট খাতের সম্ভবনা ও সমস্যা নিয়ে সারাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বলেন, বর্তমানে বছরে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের পাটপণ্য রপ্তানি হচ্ছে, যার অধিকাংশ বস্তা ও ব্যাগের মতো গতানুগতিক পণ্য। তবে সঠিকভাবে পাটপণ্য বহুমূখীকরণ করা সম্ভব হলে রপ্তানি আগামিতে পাঁচগুণ হবে। সেজন্য প্রয়োজন সরকারের নীতি সহায়তা।

তিনি বলেন, এখন সারা পৃথিবীতে পাটের পণ্য পরিবেশসম্মত যুগোপযোগী। যার খড়ি, তন্তু এমনকি পাতা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। রপ্তানির পর পাটের কিছু কাঁচামাল পুনরায় আমদানি হয়ে ফিনিশড পণ্য হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে। সেগুলো হিসেবে ধরলে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক হবে বাংলাদেশ।

শেখ নাসির উদ্দিন বলেন, পাট খাতের রপ্তানি ১ বিলিয়ন থেকে ৫ বিলিয়নে নেওয়া যাবে। তবে এ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে এসে শুধু এ পাটকে ব্যাগ বস্তার মতো মোড়কজাত উপকরণ রাখলে চলবে না। এটাকে কটনের সঙ্গে মিশিয়ে কোর্ট-জ্যাকেটের মতো পণ্য তৈরু করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী পাট খাতকে অত্যন্ত ভালোবাসেন উল্লেখ করে আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাট দিবস দিয়েছেন, পাটের শাড়ি-ব্যাগ ভালোবেসে বিশ্বে পরিচিত করেছেন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থনৈতিক নয়, নীতি সহায়তা চায় এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

শেখ নাসির বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য  বীজ একটি বড় সমস্যা। বীজ পেলে এখনো উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে যেখানে লবণাক্ত জায়গা পড়ে রয়েছে, সেখানে বীজ করা যায়। তবে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাহলে যেভাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশকে কেউ দাবায় রাখতে পারবেনা; পাট খাতকেও কেউ দাবায় রাখতে পারবে না।

পাটখাতের এ উদ্যোক্তা বলেন, পাট দিয়ে বিএমডাব্লিউ গাড়ির প্যানেল তৈরি হচ্ছিলো। এখন বাংলাদেশের জুট ফাইবার (পাটের তন্তু) দিয়ে কোর্ট তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ১৫ শতাংশ কটন আছে। পর্দার কাপড় তৈরি হচ্ছে পাট দিয়ে। তবে গত দুই বছর খারাপ যাচ্ছে খাতটি। প্রায় ৪০ শতাংশ জুটমিল এখন বন্ধ।

তিনি বলেন, তবুও এ খাত অনেক সম্ভবনাময়। আমরা চারটা মিল পরিচালনা করছি। নতুন করে গোপালগঞ্জ মোকসেদপুরে একটি জুট মিল করছি। যেখানে দুই হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে পাঁচশ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।

সম্মেলনে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

আরও পড়ুন

×