'পেঁয়াজবাজি' থামবে কবে

মুনাফালোভী মজুদদারদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০১৯     আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম ও শেখ আবদুল্লাহ, ঢাকা

সব খানেই আলোচনা এখন পেঁয়াজ নিয়ে। এর দাম নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। প্রতিদিনই দাম বাড়তে বাড়তে এক কেজি পেঁয়াজের দাম আড়াইশ' টাকায় ঠেকেছে। ভারত রপ্তানি বন্ধ করার পর বিকল্প দেশ থেকে আমদানি হচ্ছে। বাজারে কারসাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সরকার। সরকারি সংস্থা টিসিবি কম দামে বিক্রি করছে আগে থেকেই। তবে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। সবার প্রশ্ন, পেঁয়াজবাজি আসলে থামবে কবে। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, পেঁয়াজ নিয়ে বেশি হৈচৈ না করে এর সরবরাহ বাড়াতে হবে। দর নিয়ে কারসাজি করলে কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে, পেঁয়াজের দাম কমে আসার সম্ভাবনার কথা বলছেন কেউ কেউ। দেশি পেঁয়াজ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে আসবে। এবার ফলনও ভালো। জরুরি ভিত্তিতে কার্গো বিমানে করে কিছু পেঁয়াজ আসছে। সমুদ্রপথেও আমদানি হচ্ছে। বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন গতকাল সমকালকে বলেন, মিসর থেকে পেঁয়াজ কিনেছে এস আলম গ্রুপ। প্রথম চালান আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিমানের কার্গো ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছাবে। এই পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে সারাদেশে বিক্রি শুরু হবে। এ ছাড়া টিসিবি তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানির এলসি খুলেছে। শিগগিরই বিমানে ওই পেঁয়াজ আনা হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের আরও কয়েক ব্যবসায়ী ইউক্রেন ও চীনে পেঁয়াজ কিনেছেন। তারাও উড়োজাহাজে নিয়ে আসবেন। সমুদ্রপথে আমদানি করা পেঁয়াজও এ মাসের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা  মসিউর রহমান গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াকরণে যে দুর্বলতা রয়েছে, তারই অংশ পেঁয়াজের সংকট। পেঁয়াজ সংরক্ষণের  ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদন কম হয়। এ জন্য বছরব্যাপী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে কোন কোন কারণে পেঁয়াজের বাজার এ অবস্থায় এসেছে, তা পরিস্কার নয়। তবে এ কথা বলা যাবে, ভারতের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বাজারকে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু পরিস্থিতি যে এই পর্যায়ে যাবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা সংশ্নিষ্টদের ছিল না। শুরুর দিকে ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ সুযোগ নিতে চেয়েছেন। আবার ভারতের বিকল্প দেশ থেকে আমদানির বিষয়ে সবাই উৎসাহিত হয়নি। সরকারও গুরুত্ব দেয়নি। সব মিলিয়ে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। এখন সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে মাতামাতি বেশি হওয়াতেই দাম অস্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার বা অন্য কারও দৌড়ঝাঁপে পেঁয়াজের দর কমবে না। সামনে মৌসুম, তাই এ নিয়ে হৈচৈ কমলে এবং ভোক্তারা যদি পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দেন, রাতারাতি না হলেও দ্রুততর সময়ে দর কমবে। তিনি আরও বলেন, যখনই সরকার ব্যবসায়ীদের ধরেছে বা জরিমানা করেছে, তখন বাজারদর আরও বেশি বেড়েছে। অবৈধ মজুদ ঠেকাতে গুদামে হানা দিয়ে কিছু মেলে না, সব পাতালে চলে যায়। বর্তমান বাস্তবতায় দর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে উল্টো সবাইকে চুপচাপ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এ অর্থনীতিবিদ।

ক্যাবের সহসভাপতি এ এস এম নাজের হোসাইন বলেন, দেশে বিপণন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না এলে ও ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার মনোবৃত্তি পরিহার না করলে এ সংকট দূর হবে না। যারা অতি মুনাফা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার। আবার যারা পেঁয়াজ আমদানি করছে, তাদেরও লোকসান হবে না- এমন নিশ্চয়তাও দিতে পারছে না সরকার। এভাবে সন্দেহ ও অবিশ্বাস পাশাপাশি থাকলে সুফল আসবে না কিছুতেই।

পেঁয়াজ আমদানিতে কোনো শুল্ক্ক নেই। এর বাড়তি সুবিধা দিতে গত ২ অক্টোবর এর আমদানি অর্থায়নে সুদহার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পেঁয়াজ আমদানিতে ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে মার্জিনের হার নূ্যনতম পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এরপর এস আলম, সিটি, বিএসএমসহ শীর্ষ কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ ৬৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে এলসি খুলেছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত এসব এলসির মাত্র সাড়ে সাত হাজার টন পণ্য এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। মিসর, তুরস্কসহ বিকল্প কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে এসব এলসি খোলা হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলসির সব পণ্য আসতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে।

জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানির পরও বাজার নিয়ে খেলছে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সিন্ডিকেট। অখ্যাত ৯০ ব্যবসায়ীকে সামনে রেখে মুখে মুখে দাম নির্ধারণ করে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি মোকামে বিক্রি করছে তারা। সরকার আমদানির তথ্য ধরে অভিযান চালানোর শঙ্কা থাকায় অখ্যাত এই ব্যবসায়ীদের দিয়ে পেঁয়াজও আনছে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। বার্মিজ পণ্যের আড়ালে অখ্যাত এই ব্যবসায়ীরা আমদানি করছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজ কেনাবেচার তথ্য গোপন করতে পেপারলেস মার্কেট তৈরি করেছে তারা। এই মার্কেটের দালিলিক কোনো প্রমাণ না থাকায় এদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থাও নিতে পারছেন না ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত দুই মাসে বিকল্প বাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে দেশে। গতকালও পেঁয়াজ নিয়ে তিনটি জাহাজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। তারপরও দাম বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে এককভাবে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ এনেছেন এমএইচ ট্রেডিংয়ের মালিক মোহাম্মদ হাশেম। তার কাছে এখনও সর্বোচ্চ পরিমাণের পেঁয়াজ মজুদ আছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ আছে যদু চন্দ্র দাশ, মো. জব্বার, মো. সেলিম, মো. সাদ্দাম, মো. শওকত আলী, মোহাম্মদ সজীব, মোহাম্মদ কামরুল জিয়াবুল হক, সৈয়দ করিম, মোহাম্মদ বাহাদুর, মোহাম্মদ মাসুম, মোহাম্মদ হাবিব ও বার্মাইয়া শুক্কুরের কাছে।

পাঁচ গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ: কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে চলতি মাসের ১৫ দিনে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ খালাস হয়েছে। অক্টোবরে এই বন্দর দিয়ে ৩০ হাজার টনেরও বেশি পেঁয়াজ এসেছে। চট্টগ্রামে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ দুই মাসে বিদেশ থেকে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে। এসব পেঁয়াজের ৯০ শতাংশ এসেছে মিয়ানমার থেকে। সেখান থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে কিনেছে তারা। জানা গেছে, ১৩ টন পেঁয়াজবোঝাই একটি ট্রাক টেকনাফ স্থলবন্দর থেকে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে আসতে ভাড়া নিচ্ছে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার টাকা। এ হিসাবে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পরিবহনে খরচ হয় এক টাকা ৩০ পয়সা। ট্রলার থেকে পণ্য ট্রাকে ওঠানো এবং ট্রাক থেকে নামানো বাবদ কেজিতে আরও এক টাকা লেবার চার্জ যুক্ত করলে খরচ দাঁড়ায় মোট দুই টাকা ৩০ পয়সা। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় প্রতি কেজিতে এক টাকা ডেমারেজ চার্জ যুক্ত করলেও এ খরচ হয় সর্বোচ্চ তিন টাকা ৩০ পয়সা। এসব খরচ হিসাবে এনে প্রতি কেজিতে আমদানিকারক পাঁচ টাকা লাভ করলেও পাইকারি মোকামে পেঁয়াজ বিক্রি হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ৫৩ টাকায়। অথচ তা বিক্রি হচ্ছে পাঁচ গুণ বেশি দামে

সিন্ডিকেটে অখ্যাত ৯০ ব্যবসায়ী: ৯০ জনের এই সিন্ডিকেটে থাকা কক্সবাজারের উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- নিউ বার্মিজ মার্কেটের তাজমহল শপিংমল, টেকনাফ বাসস্টেশনের হামিদ অ্যান্ড ব্রাদার্স, বার্মিজ মার্কেটর গফুর এন্টারপ্রাইজ, টেকনাফ রশিদ মার্কেটের পারভীন এন্টারপ্রাইজ, পুরান পালানপাড়ার মিফতাহুল এন্টারপ্রাইজ, গোদার বিলের মিয়া হোসেন ব্রাদার্স, গনি মার্কেটের চৌধুরী ট্রেডার্স, লামার বাজার রোডের এমএস কবির ট্রেডিং, কে কে পাড়ার বড় হাজি ট্রেডার্স, চকরিয়ার পালাকাটা এলাকার রেড ডট এন্টারপ্রাইজ, শাহ পরীর দ্বীপের মাহী অ্যান্ড ব্রাদার্স, কে কে পাড়ার মেসার্স আবসার অ্যান্ড ব্রাদার্স, ওলিয়াবাদের মেসার্স জুনায়েদ এন্টারপ্রাইজ, কলেজপাড়ার শুক্কুর অ্যান্ড ব্রাদার্স, শাহারবিলের ইয়াসিন ফিশিং, কলেজপাড়ার কবির অ্যান্ড সন্স, লামার বাজারের এমএ ট্রেডিং, মাসুম এন্টারপ্রাইজ, কুলালপাড়ার হাজি নূর ট্রেডিং, বাসস্টেশনের এন ইসলাম এন্টারপ্রাইজ, উপরের বাজার এলাকার বেলাল এন্টারপ্রাইজ, গণি মার্কেটের মা এন্টারপ্রাইজ, মাদ্রাসা রোডের বিসমিল্লাহ ট্রেড সেন্টার প্রমুখ। সিন্ডিকেটে থাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন- পূর্ব নাসিরাবাদের এজিএমবি ট্রেডার্স, স্টেশন রোডের জিন্নাহ অ্যান্ড ব্র্রাদার্স, মেসার্স সৌরভ এন্টারপ্রাইজ, আসাদগঞ্জের বিসমিল্লাহ স্টোর, রেয়াজউদ্দীন বাজারের জাফর এন্টারপ্রাইজ, হক ট্রেডার্স প্রমুখ।

বন্দরে পেঁয়াজ নিয়ে এসেছে তিন জাহাজ: প্রতিবেশী দেশ ভারত গত ২৯ সেপ্টেম্বর রপ্তানি বন্ধের পরই বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানির খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এ জন্য চীন, উজবেকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে পেঁয়াজ আমদানির এলসি খোলেন বড় শিল্পপতিরা। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে এ পর্যন্ত ৬৬ হাজার টনের অনুমতিপত্র নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন পর্যন্ত এসেছে সাড়ে সাত হাজার টন। গতকাল শনিবার পেঁয়াজের কনটেইনার নিয়ে তিনটি জাহাজ এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে মেরিন বে জাহাজে ১৩টি কনটেইনারে আছে ৩৭৯ টন পেঁয়াজ। মার্কস ব্লাডিবোস্তক জাহাজে আছে ৫৮ টন ও বিএল গ্রেস জাহাজে আছে ৭৯ টন পেঁয়াজ।

দেশি পেঁয়াজ আসবে ১০ দিনের মধ্যে: আগামী ১০ দিনের মধ্যে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসা শুরু করবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে বাজারে আসবে এই জাতের পেঁয়াজ। যদিও এরই মধ্যে বগুড়াসহ কয়েকটি জেলায় সামান্য পরিমাণে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। পেঁয়াজের দামে যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

পাবনা, ফরিদপুর, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও রাজশাহী জেলায় পেঁয়াজের চাষ বেশি হয়। সারাদেশে প্রায় তিন লাখ একর বা এক লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়ে থাকে। একেক জেলায় উৎপাদনের পরিমাণ একেক রকম। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ বছর প্রতি হেক্টরে ১১ থেকে ১৪ লাখ টন পর্যন্ত হালি পেঁয়াজ (বীজ বুনে যে পেঁয়াজ চাষ হয়) উৎপাদন হবে। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজের উৎপাদন হবে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টন পর্যন্ত। এই পেঁয়াজ দুই থেকে আড়াই মাস ধরে বাজারে থাকে। তারপরই আসতে শুরু করে নতুন হালি পেঁয়াজ।

দেশে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয় পাবনা জেলায়। এ বছর পাবনা জেলায় ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হবে বলে আশা করছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আজহার আলী। তিনি সমকালকে বলেন, এরই মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগানো শেষ হয়েছে। সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে। এ বছর হেক্টরপ্রতি উৎপাদনও বেশি হবে। এসব পেঁয়াজ ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে বাজারে চলে আসবে।

সমকালের পাবনা প্রতিনিধি ফজলুর রহমান জানান, শিগগির নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। পেঁয়াজ যাতে দ্রুত তোলা যায়, কৃষক সে চেষ্টা করছেন। ফরিদপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী সমকালকে বলেন, ৩৬ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। এরই মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশ বড় হয়ে গেছে। শুধু ফরিদপুর জেলা থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

সমকালের ফরিদপুর প্রতিনিধি হাসানুজ্জামান জানান, মাঠের যে চিত্র, তাতে আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করবে।