কেউ ফ্যামিলি কার্ড না পেয়ে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে এসেছেন। কেউ কেউ আগের মতোই লাইনে দাঁড়িয়ে ট্রাক থেকে পণ্য কেনা যাবে এমন চিন্তা থেকেই এসেছেন। আবার কেউ অভিযোগ করেছেন, কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে 'মুখ দেখে' কার্ড দেওয়ায় অনেকেই টিসিবির পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে অনেকেই ফিরে গেছেন খালি হাতে।

বুধবার রাজধানীতে রমজানের আগে ট্রাকে পণ্য বিক্রি হয়েছে এমন নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এবং টিসিবির কয়েকটি ডিলারের দোকানে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর গতকাল কয়েকটি জেলা বাদে সারাদেশে শুরু হয়েছে সাশ্রয়ী দামে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি। তবে রমজানের আগে ঢাকার দুই সিটির সব ওয়ার্ডে পণ্য বিক্রি হয়েছিল। প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে ১৪০টি স্থানে পণ্য বিক্রি করা হতো। প্রতিটি স্থানে বিক্রি হতো সপ্তাহে দুইবার।

গতকাল দুই সিটির ৪০টি ওয়ার্ডে পণ্য বিক্রি করার কথা ছিল। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটির ২৪ এবং উত্তর সিটির ১৬টি স্থানে বিক্রির জন্য ডিলারদের পণ্য দেওয়া হয়। কিন্তু সব স্থানে বিক্রি হয়নি।

ফ্যামিলি কার্ড না পেয়ে ন্যাশনাল আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে এসেছেন মদিনা বেগম নামে এক নারী। রাজধানীর তেজগাঁও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি।

সমকালকে মদিনা বলেন, কয়েকবার কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকে বলা হয়েছে, কার্ড নিতে হলে এই ওয়ার্ডের ভোটার হতে হবে। কিন্তু তিনি যখন মিরপুর-পল্লবী এলাকায় ছিলেন তখন ওই ঠিকানায় ভোটার আইডি কার্ড করেছেন। ফলে তাঁকে কার্ড দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আগে ট্রাকে বিক্রি হতো। তখন যে কোনো ট্রাকের পেছনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ালে কেনা যেত। কে কোন এলাকার ভোটার, তা দেখা হতো না। এখন সমস্যা বেশি হয়েছে। যাদের পরিচিত লোক আছে, তারাই কার্ড পাচ্ছে।

একই ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম নামে এক বাসিন্দা জানান, গত মাসে তিনি কয়েকবার কাউন্সিলরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেও ফ্যামিলি কার্ড পাননি। সেখান থেকে বলা হয়েছে, সবাইকে দেওয়া হয়ে গেছে।

'মুখ দেখে' কার্ড দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নাখালপাড়া এলাকার মো. মোস্তফা নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, কয়েকবার ঢাকা উত্তরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে যোগাযোগ করেছেন। দেবে দেবে বলেও তাঁকে কার্ড দেওয়া হয়নি।

উত্তর সিটির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে তেজগাঁও কলেজের সামনে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে পণ্য কেনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ওই এলাকার নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, তিনি জানেন না- ফ্যামিলি কার্ড কোথা থেকে, কীভাবে নিতে হবে। তাই ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে পণ্য কেনার জন্য এসেছেন।

তবে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান বলেন, ছয় হাজার কার্ডের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশনে। তিন হাজার ২শ কার্ড দিয়েছে তারা। এর মধ্যে কিছু কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে টিসিবি পণ্য পাঠায়নি। কবে পাঠাবে, সে বিষয়ে কিছুই জানায়নি এখনও।