সব শেয়ারে ন্যূনতম বাজারদর বা ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেওয়ার তিন সপ্তাহ পর ৬৯ কোম্পানির শেয়ার এখনও ওই দরে পড়ে আছে। এর মধ্যে রবি, ফরচুন সুজসহ অন্তত ১৮ শেয়ার ফ্লোর প্রাইস ছেড়ে ওপরে উঠতেই পারছে না। বিপরীতে ১০ থেকে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত দর বেড়েছে ৫৩ শেয়ারের। ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে ১৮৭ শেয়ার। সর্বশেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে সব শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ও সর্বশেষ লেনদেন মূল্য পর্যালোচনায় এ তথ্য মিলেছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে এনবিএল, ব্যাংক এশিয়া এবং ইসলামী ব্যাংক ও টেলিকম খাতের রবি কোনোভাবেই ফ্লোর প্রাইস ছেড়ে উঠতে পারছে না। তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের ক্রাউন সিমেন্ট এবং বীমা খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সও এ তালিকায়। এদিকে, নিয়মিত বাজারে ফ্লোর প্রাইসেই কেনাবেচা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফরচুন সুজের শেয়ার ব্লক মার্কেটে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। তা ছাড়া প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা হচ্ছে।

অব্যাহত দরপতন ঠেকাতে গত ২৮ জুলাই দ্বিতীয় দফায় শেয়ারের দরে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, যা কার্যকর হয় ৩১ জুলাই। বিশ্বের অন্যান্য শেয়ারবাজারে এভাবে শেয়ারের নূ্যনতম বাজারদর বেঁধে দেওয়ার নজির নেই। ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর প্রথম সপ্তাহের পুরো পাঁচ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী ছিল শেয়ারবাজার। ওই সপ্তাহের শেষে মাত্র ৩৪টি ছাড়া বাকি সব শেয়ার ফ্লোর প্রাইস ছেড়ে ওপরে ওঠে। তবে দ্বিতীয় সপ্তাহের পুরো চার কার্যদিবসে পতনের ধারায় থাকে শেয়ারবাজার। এতে অনেক শেয়ার ফের ফ্লোর প্রাইসে নেমে যায়। গত ১১ আগস্ট ফ্লোর প্রাইসে নামা শেয়ার সংখ্যা ১০৯টিতে উন্নীত হয়। গত বুধবার তালিকাভুক্ত ৩৮৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬৯টি ফ্লোর প্রাইসে কেনাবেচা হয়। অবশ্য লেনদেনের মাঝে এ দরে কেনাবেচা হয় ৯৭ শেয়ার।

'অতি স্বল্প সময়ের'র কথা বলে জুলাইয়ের শেষে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল বিএসইসি। তিন সপ্তাহ পর কমিশন এ নিয়ে কী ভাবছে- এমন প্রশ্নে সংস্থার মুখপাত্র রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, এখনও এ নিয়ে কথা বলার মতো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তিনি জানান, ফ্লোর প্রাইসের কারণে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েনি। উল্টো শেয়ারদর বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৯১৭ কোটি টাকা।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ন্যূনতম বাজারদর বেঁধে দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সোনারগাঁও টেক্সটাইলের। আরোপিত ফ্লোর প্রাইসের তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেড়ে শেয়ারটি সর্বশেষ ৭৭ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হয়েছে। এ ছাড়া গত তিন সপ্তাহে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ দর বেড়েছে ইউনিয়ন ক্যাপিটালের। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ দর বেড়েছে ইন্ট্রাকো সিএনজির। ৩৬ শতাংশ দর বেড়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের। ৩২ শতাংশ দর বেড়েছে মালেক স্পিনিংয়ের। এ ছাড়া ২০ থেকে ২৯ শতাংশ বেড়েছে- বিএফআইসি, পেপার প্রসেসিং, জুট স্পিনার্স এবং সি পার্ল, বিডি থাই ফুড, একমি প্রেসটিসাইডস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, আরডি ফুড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, হা-ওয়েল টেক্সটাইল ও কেঅ্যান্ডকিউ।

কিন্তু রবি ও ফরচুনের মতো ফ্লোর প্রাইসে পড়ে আছে বিডি সার্ভিসেস, বিডি ওয়েল্ডিং, ফ্যামিলিটেক্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, ইমাম বাটন, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক্ক, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, এমএল ডাইং, নিউ লাইন ক্লোথিংস, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, শ্যামপুর সুগার মিলস, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, উসমানিয়া গ্লাস, জিল বাংলা সুগার মিলসের শেয়ার।