ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিমে কারসাজিতে জড়িতদের শাস্তি চায় এফবিসিসিআই

ডিমে কারসাজিতে জড়িতদের শাস্তি চায় এফবিসিসিআই
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২২ | ০৯:৫৭ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২২ | ০৯:৫৭

অস্বাভাবিকভাবে ডিমের দাম বৃদ্ধিতে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর অসাধু কার্যক্রমের দায়ভার পুরো ব্যবসায়ী সমাজ নেবে না।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে নিত্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পুরো আলোচনাটাই গিয়ে ঠেকে ডিমের দামে। বেশিরভাগ বক্তাই ডিমের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডিমের আড়তদার, বড় বড় পোল্ট্রি শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও পোল্ট্রি শিল্পের বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা একে অপরকে দায়ী করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দাম বাড়ল, তারপর সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলার পর কমে গেল। যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে বড় বা কর্পোরেট পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠানের কারণে ডিমের দাম বেড়েছে। এ ধরনের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কারণে সবাইকে অসাধু ব্যবসায়ীর তকমা নিতে হচ্ছে।

এসময় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তিনি পোল্ট্রির খাতের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, পোল্ট্রিশিল্পে খাদ্যের এখন বড় সমস্যা। দেশের ব্যবসায়ীরা নায্য মূল্য নিশ্চিত না করলে পোল্ট্রি খাদ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হোক।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে অভিযান পরিচালনার পর ডিমের দাম ডজনে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কমে গেছে। এতে প্রমানিত হয় কারসাজি করে ডিমের দাম বাড়ানো হয়েছিলো।

তিনি আরও বলেন, পোল্ট্রি শিল্পে কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া দখল রয়েছে। তিনি বলেন, এতদিন কারসাজিকারিদের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে, এখন থেকে মামলা করা হবে।

ভোক্তা কণ্ঠের অবৈতনিক সম্পাদক কাজী আব্দুল হান্নান জানান, ১৪ দিনে ডিমের বাজার থেকে ২৬৮ কোটি ও ব্রয়লার মুরগির বাজার থেকে ২২৫ কোটি টাকা বাড়তি তুলে নিয়েছে এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

কাজী ফার্মসহ বড় বড় পোল্ট্রি কোম্পানিগুলো ডিমের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ তোলেন আড়তদাররা। তেজগাঁও বহুমুখী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ মিয়া বলেন, বড় পোল্ট্রি প্রতিষ্ঠান ডিমের দাম ঘোষণা করে, সে অনুযায়ী পাইকারি বাজারে বেচাকেনা হয়।

কাপ্তান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ বলেন, ডিমের দাম ঠিক করে প্যারাগন, কাজী, পিপলসসহ কয়েকটি কোম্পানি।

বাংলাদেশ পল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্যারাগনের প্রতিনিধি মশিউর রহমান বলেন, এই খাত এখন অনেক বড়। এতোবড় খাতকে শৃংখলভাবে পরিচালনার জন্য আরও কিছু আইনকানুন দরকার। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, লোডশেডিংসহ বিভিন্ন কারণে খরচ বেড়েছে। ফলে দামও বেড়েছে।

ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী জাহিন হাসান বলেন, ডিমের দাম ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ফিক্সড করে না। প্রতিদিন ওয়্যারহাউজগুলোতে নিলামে ডিম বিক্রি হয়। নিলামে যে দাম ওঠে সেটিই ওই দিনকার বাজারদর। এখানে কোম্পানির কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন

×