ব্যবসার পরিবেশে সামান্য উন্নতি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৪:৪৫
দেশে ব্যবসার পরিবেশের সার্বিক সূচকে সামান্য উন্নতি হয়েছে। ২০২১ সালে এই সূচকে স্কোর ছিল ৬১ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট। গত বছর তা বেড়ে ৬১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট হয়েছে। এই সূচকের আওতায় মোট ১০টি ক্ষেত্রে অবস্থার উন্নতি ঘটলেও অবনতি হয়েছে তিনটিতে। এই তিনটি হচ্ছে- ব্যবসার জন্য অর্থায়ন সুবিধা পাওয়া, জমির প্রাপ্যতা এবং কর পরিশোধের সার্বিক পরিবেশ।
বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স (২০২২-২৩) শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সারাদেশে ব্যবসায়ীদের ওপর জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি)। জরিপটি করা হয়েছে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে।
রাজধানীর মতিঝিলে এমসিসিআইর সভাকক্ষে প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পিইবির চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ। তিনি জানান, প্রতিবেদনে ১০টি নির্দেশক বা সূচককে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। এগুলো হলো- ব্যবসা শুরু করা, জমির প্রাপ্যতা, আইন-কানুন সম্পর্কিত তথ্যের সহজলভ্যতা, অবকাঠামো, শ্রমনীতি, বিরোধ নিষ্পত্তি, বাণিজ্য সহজীকরণ, কর পরিশোধ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং অর্থায়ন সুবিধা।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত বছর উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ ও জমি পেতে এবং কর পরিশোধে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এ কারণে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। আটটি বিভাগের মধ্যে ব্যবসার পরিবেশ সূচকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ। সার্বিক সূচকে এ বিভাগের স্কোর ৬৫ দশমিক ২৩ পয়েন্ট। শিল্প ও ব্যবসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম ও ঢাকা রয়েছে যথাক্রমে তৃতীয় ও পঞ্চম অবস্থানে। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সিলেট। আর ৫৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে অবস্থান করছে রংপুর বিভাগ। এ ছাড়া রাজশাহী চতুর্থ, বরিশাল ষষ্ঠ ও খুলনা সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, কৃষি, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতে উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস, কেমিক্যাল ও পোশাক খাতের ব্যবসা করা তুলনামূলক সহজ। এ ছাড়া দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে জমি পাওয়া কিছুটা সহজ।
প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তারা নানা কারণে ঋণ পেতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন, এটা ঠিক। ছোট উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই নারী। তাঁদের নামে সাধারণত সম্পত্তি থাকে না বিধায় তাঁদের অনেকে ব্যাংকে বন্ধক রাখতে পারেন না। ফলে ঋণও পান না। উদ্যোক্তা হওয়ার পথে তাঁরা পদে পদে বাধা পান। তাঁদের আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকে কথাবার্তায় স্মার্ট হলেও কাজে স্মার্ট নন। তিন বছর ধরে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি দ্রুত উন্নত করার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সিইটিপি উন্নত হলে অর্থাৎ সেখানে ব্যবসার পরিবেশ ঠিক হলে বর্তমানের অনেক বেশি রপ্তানি করা সম্ভব।
বিল্ডের চেয়ারম্যান নিহাদ কবির বলেন, গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড মেনে ব্যবসা করতে হবে। কিন্তু দেশে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে এত বেশি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয় যে, সেগুলোর বিভিন্ন আইনের মারপ্যাঁচে ব্যবসা শুরু করাই চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ে যায়। সহজে ব্যবসার জন্য সবকিছুকে এক সংস্থার অধীনে নিয়ে আসা দরকার।
বিনিয়োগকারীরা বিডার মাধ্যমে সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের (ওএসএস) মাধ্যমে ২৩টি সংস্থা ৫৭টি সেবা দিচ্ছে। আরও নতুন নতুন সেবা যুক্ত হচ্ছে।
এমসিসিআইর সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ডলার সংকট, বিশ্বে জ্বলানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ম্ফীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, করোনসহ একসঙ্গে অনেকগুলো সমস্যার মুখোমুখি আমরা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। ব্যবসার যেসব জায়গায় দুর্বলতা আছে, সেগুলোর সমাধানা জরুরি। এসব কিছু চিন্তা করে বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স বা বিবিএক্স তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে এই সূচক কার্যকরি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।
ডিসিসিআইর সভাপতি সামির সাত্তার বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে আলাদা খাতে ভাগ করা দরকার। এ ছাড়া ব্যবসা করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। সে সব সমস্যা সমাধানে পৃথক আদালত গঠন করাও জরুরি। ভারত, ভিয়েতনামসহ অনেক দেশে এ ধরনের আদালত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, এফআইসিসিআইর সভাপতি নাজের এজাজ বিজয় প্রমুখ।