ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঁচ ব্রোকারেজ হাউস

শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের শিকার গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু

শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের শিকার  গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু
×

গতকাল সোমবার পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বিএসইসির কমিশনার হোসেন সাদাত ও নাফিজ আল তারিক, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, এমডি নুজহাত আনোয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ফট

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থ ও শেয়ার আত্মসাতের কারণে পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৮ হাজার বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার মশিহুর সিকিউরিটিজের ১৪ বিনিয়োগকারীর প্রত্যেককে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ৭০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন– এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে আর না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করবেন। 

শুধু বিএসইসি চেয়ারম্যান নন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ডিএসইর পর্ষদ সদস্যরাসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন, এ ধরনের আত্মসাতের ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটতে দেওয়া হবে না। কোনোক্রমে এমন ঘটনা ঘটে গেলে দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 
দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর ক্ষতিপূরণের কিছু অর্থ ফেরত পেয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে বাজার তদারকি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতেও এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। 

২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ ব্রোকারেজ হাউস তাদের ১৭ হাজার ৯৬৭ গ্রাহকের (যারা শেয়ারবাজারে লগ্নিকারী) জমাকৃত অর্থ এবং শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে। ওই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নাম– বাঙ্কো, ক্রেস্ট, তামহা, শাহ মোহাম্মদ সগির এবং মশিহুর সিকিউরিটিজ। গ্রাহকদের দাবি, তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থ ও শেয়ারের মোট মূল্য প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত এসব ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ‘ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড’ (আইপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস তাদের গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ ব্যাংকে রেখে যে সুদ পায়, তার ২৫ শতাংশ ওই তহবিলে জমা দেয়। লেনদেন মূল্যের ওপরও নির্দিষ্ট হারে অর্থ এ তহবিলে দেওয়ার বিধান আছে। 
ডিএসই জানিয়েছে, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে ১৭ হাজার ৩৩২ জন তাদের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। অর্থাৎ প্রায় ৯৬ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী প্রথম ধাপেই পুরো অর্থ ফেরত পাবেন। যাদের ক্ষতি এর থেকে বেশি, তাদেরও সম্পূর্ণ অর্থ পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ডিএসই। ব্রোকারেজ হাউসের মালিকদের থেকে অর্থ আদায়, তাদের সম্পদ এবং ডিএসইতে তাদের শেয়ার ও ট্রেক লাইসেন্স বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ থেকে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকের সমন্বিত গ্রাহক অ্যাকাউন্ট বা শেয়ার তছরুপ করতে না পারে, সে জন্য একক ও শক্তিশালী ইউনিফায়েড ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালুর কাজ চলছে। এর মাধ্যমে রিয়েল টাইমে ব্রোকারদের ব্যাংকিং ও সিসিএ অ্যাকাউন্টের লেনদেন তদারক করা সম্ভব হবে।
বিএসইসির কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জ সম্মিলিতভাবে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এ কার্যক্রম তারই বাস্তব প্রতিফলন। আরেক কমিশনার নাফিজ আল তারিক বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো নৈতিক ঝুঁকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হবে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিএসইসি, ডিএসই ও সিডিবিএলের যৌথ প্রচেষ্টায় ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে টাকা ফেরত দেওয়ার এই প্রক্রিয়া বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, প্রায় ১৮ হাজার আবেদন বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা নিরূপণ করা একটি জটিল কাজ ছিল। এই টাকা ফেরতের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আস্থার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
আইপিএফের চেয়ারপারসন নাসরিন বেগম বলেন, আইনের একটি নীতি হলো– যে কোনো মূল্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ট্রেডহোল্ডারদের ব্যর্থতায় ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষা দেওয়া এই ফান্ডের মূল দর্শন। এটি কোনো সাহায্য বা দান নয়। এটি বিনিয়োগকারীদের প্রতি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, চেক বিতরণের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ার সূচনা হলো। আগামী তিন মাস ধরে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার বিনিয়োগকারীকে টাকার রসিদ ও শারীরিক উপস্থিতি যাচাই করে চেক হস্তান্তরের কাজ চলবে। পাঁচ লাখ টাকার বেশি দাবিকারীদের জন্য আইনি মাধ্যমে অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

×