ঢাকায় কমনওয়েলথ বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্মেলন সেপ্টেম্বরে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৩ | ১১:২২ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৩ | ১১:২২
ঢাকায় প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাড়াতে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করছে কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল (সিডব্লিউইআইসি)।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশ থেকে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধি বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তারা। আয়োজনে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা জেডআই ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ও সিডব্লিউইআইসির ডেপুটি চেয়ারম্যান লর্ড সোয়ার কেসিএমজি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম ও বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে সিডব্লিউইআইসির কৌশলগত উপদেষ্টা জিল্লুর হোসেন।

গত দেড় দশকে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সালমান এফ রহমান বলেন, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ হতে পারে। সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত অনেক দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশও নিজেদের বিনিয়োগ সম্ভাবনা এসব ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরতে পারবে। ফলে এই সম্মেলন সবার জন্যই একটা উইন উইন বা লাভজনক হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য ও সিডব্লিউইআইসির ডেপুটি চেয়ারম্যান লর্ড সোয়ার বলেন, যুক্তরাজ্যসহ কমনওয়েলথের অনেক দেশ বাংলাদেশকে ভালো বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে মনে করে। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেবেন। তারা পারস্পরিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্মেলনে ইউরোপ ও এশিয়া অঞ্চল ছাড়াও আফ্রিকা থেকেও বড় অংশগ্রহণ থাকবে বলে আমরা আশা করছি।
লর্ড সোয়ার আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি চার ডলারের মধ্যে এক ডলার এফডিআই যায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে। বিশ্বের বর্ধনশীল শহরগুলোর প্রায় অর্ধেক হচ্ছে কমনওয়েলথে। সুতরাং, ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য কমনওয়েলথ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। এ কারণে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্যও এই সম্মেলন বেশ কার্যকর হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে ২৫তম শীর্ষ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ বৃদ্ধিতে বন্দর, জ্বালানিসহ বিভিন্ন পরিষেবার মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য এই উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার এখনই সময়।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্ভাবনা খুঁজছে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পাশাপাশি তথ্য ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মধ্যমে দেশগুলো উপকৃত হবে।
এর আগে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, মাল্টাসহ কমনওয়েলথভুক্ত কয়েকটি দেশে কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে ৫৬ দেশের সংগঠন কমনওয়েলথে ৩৪তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।