ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উৎপাদন সরবরাহ সব ঠিক, তবু আলুর দাম বাড়ায় কারা

উৎপাদন সরবরাহ সব ঠিক, তবু আলুর দাম বাড়ায় কারা
×

আলু

জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৩ | ০৪:১৩

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী আলুর উৎপাদন এ বছর বেড়েছে; মজুতও আছে পর্যাপ্ত। সরবরাহেও কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও গত এক মাসের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে সর্বোচ্চ বেড়েছে ১৫ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, দেশে বছরে আলুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টন। ২০২১-২২ অর্থবছরে আলু উৎপাদন হয় ১ কোটি ২ লাখ টন। পরের অর্থবছরে উৎপাদন আরও ১০ লাখ টন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ টনে। সেই হিসাবে চাহিদার বিপরীতে প্রায় ২১ লাখ টন বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে হিমাগারগুলোতে ২২ লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও কোল্ডস্টোরেজ মালিকদের দাবি, এবার ৮০ লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয়নি।

রাজধানীর বাজারগুলোয় মাসখানেক আগেও সাদা আলু ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। লাল আলুর কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকার আশপাশে। অথচ গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর ও তেজকুনিপাড়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদা আলুর কেজি ৪৫ থেকে ৫০ এবং লাল আলুর কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে আলুর দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ২৫ টাকা। দাম বাড়ার চিত্রটি সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের দৈনন্দিন বাজার প্রতিবেদনেও দেখা গেছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত এক মাসে আলুর দাম বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। তবে এক বছরের ব্যবধানে আলুর দাম ৪৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, উৎপাদিত আলু কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি বাজারে আসে না। বরং কৃষকের কাছ থেকে সিংহভাগ আলুই চলে যায় মজুতদারদের কাছে। মূলত মজুতদাররাই হিমাগারে আলু রেখে বাজারে সংকট সৃষ্টি ও সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ায়। সরকার হিমাগারের তথ্য এবং উৎপাদনসহ যাবতীয় তথ্য যাচাই করলে আলুর দাম এক সপ্তাহের মধ্যে কমে আসবে।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, হিমাগারের মালিক ও মজুতদাররাই দাম বাড়ানোর মূল কারিগর। কিন্তু দাম বাড়ার এ সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। পণ্যের প্রকৃত উৎপাদন খরচ বের করতে কৃষি বিশেষজ্ঞ, ভোক্তা প্রতিনিধি নিয়ে সরেজমিন তদন্ত করা উচিত সরকারের। একই সঙ্গে আড়ত, হিমাগারে কী হচ্ছে খতিয়ে দেখা দরকার।

বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি কেজি আলুতে খরচ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা। সেই হিসাবে বর্তমান বাজার অনেক বেশি। এটি আসলে ঠিক নয়।’

আলুর দাম স্থিতিশীল রাখতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাসুদ করিম। তিনি বলেন, অধিদপ্তরের বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে বাজার তদারকি এবং হিমাগার ও পরিবহন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

×