আসাম এনআরসির গর্জন ও বর্ষণ

প্রতিবেশী

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

ইশফাক ইলাহী চৌধুরী

কয়েক বছর যাবৎ আসামের রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ তথা ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স-এনআরসি আমাদের গণমাধ্যমে বিশেষ আলোচিত বিষয় হয়ে আছে। অহমিয়াদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, আসামে কোটি কোটি বহিরাগত বাঙালি অনুপ্রবেশ করে স্থানীয়দের জীবিকা, বাসস্থানের সংকট তৈরি করছে এবং ধীরে ধীরে জনসংখ্যার হারে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। অহমিয়াদের আশঙ্কা ছিল, খুব শিগগির সেখানে বাঙালির সংখ্যাধিক্য অহমিয়াদের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বস্তুতপক্ষে, ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার আসামের অব্যবহূত, আবাদযোগ্য ভূমি অর্থকরী ফসলের আওতায় আনার জন্য তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার কৃষকদের আসামে নিয়ে আসে, যার বিরাট অংশ ছিল উত্তরবঙ্গের মুসলমান। এসব কৃষক পরিবারকে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার গোয়ালপাড়া, বরপেটা, দরং জেলাগুলোতে অনাবাদি, জংলা, পরিত্যক্ত জমির বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। বাঙালি কৃষকরা এসব জমি আবাদযোগ্য করে সরকারের রাজস্ব ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। বস্তুতপক্ষে তৎকালীন স্থানীয় অহমিয়া জমিদাররা এসব কৃষককে সাদরে গ্রহণ করে। কারণ তারা জমিদারদের আয় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। ১৯৩০ সালের দিকে আসামের মুখ্যমন্ত্রী গোপীনাথ বরদলৈর নেতৃত্বে আসাম সরকার প্রথম বাঙালিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে। তখন 'বঙ্গাল খেদা' আন্দোলনের নামে আসামজুড়ে সহিংস আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। অহমিয়াদের ক্রমাগত আন্দোলনের মুখে ১৯৫১ সালে ভারত সরকার শুধু আসামের জন্য এনআরসি চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এদিকে ১৯৫০ সালে ভারতের নতুন শাসনতন্ত্রে ওই সময় ভারতে বসবাসরত প্রত্যেককেই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর পর ১৯৮৭ সালে ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের অধীনে ১৯৫০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ভারতে যাদেরই জন্ম হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরে ২০০৪ সালে আরও এক দফা পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারতে জন্মগ্রহণকারী সন্তান, যার পিতা অথবা মাতা যে কোনো একজন যদি ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে তাকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের এসব ধারা ছিল গণতান্ত্রিক ও আধুনিক। কিন্তু আসামের এক শ্রেণির উগ্র জাতীয়তাবাদীর কাছে এগুলো গ্রহণযোগ্য ছিল না। উগ্রবাদী অহমিয়াদের বক্তব্য ছিল, আসামের পিছিয়ে পড়ার পেছনে দায়ী অনুপ্রবেশকারী বাঙালিরা। এর ফলে বিগত সত্তর-আশির দশকে আমরা সেখানে অনেক বড় বড় জাতিগত সংঘাত দেখেছি, যার অধিকাংশের শিকার হয়েছে সেখানকার দরিদ্র মুসলমান বাঙালিরা। অহমিয়াদের এই আন্দোলনকে প্রশমিত করার লক্ষ্যে ১৯৮৫ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বলা হয়, আসাম থেকে সব বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিন্তু কীভাবে এটা করা হবে, সে বিষয়ে তারা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি।

এনআরসি নিয়ে ১৯৮৫-পরবর্তী প্রতিটি সরকার রাজনীতির খেলা খেলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসাম ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বারবার বলে এসেছে, বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ বাংলাভাষী আসামে সীমান্ত অতিক্রম করে অনুপ্রবেশ করছে। কিন্তু এর সমর্থনে কখনও কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন, যার অধীনে জোরেশোরে বিদেশি চিহ্নিতকরণ শুরু হয়। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রচারাভিযানে বিজেপি জোরেশোরে বাংলাদেশ থেকে কথিত অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকে বিজেপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার বলে আসছেন, বাংলাদেশ থেকে যে লাখ লাখ বাংলাদেশি ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে। এনআরসির মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের জন্য ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চকে চূড়ান্ত সময়সীমা ধরা হয়েছে। অর্থাৎ এ সময়ের পর কেউ আসামে প্রবেশ করলে তাকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

ইতিমধ্যে ২০১৬ সালে আসামের প্রাদেশিক নির্বাচন প্রচারাভিযানে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে ঢুকে পড়া হিন্দুদের তারা শরণার্থী হিসেবে রাখবেন; কিন্তু মুসলমানদের বের করে দেওয়া হবে। আসামের প্রায় সাড়ে তিন কোটি নাগরিককে এনআরসির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই প্রকাশিত খসড়া নাগরিক তালিকায় ৪০ লাখ নাগরিক যথাযথ প্রমাণপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এনআরসি থেকে বাদ পড়ে। বাদপড়াদের আবার নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়। তাতে বাদপড়ার সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৯ লাখে। এখন বলা হচ্ছে, এই ১৯ লাখের জন্য আসামজুড়ে ৪০০ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। সেখানে তারা পুনরায় আপিল করতে পারবে। এর পর আপিলে যারা বাদ পড়বে তারা হাইকোর্ট, সর্বশেষ সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবে।

আসাম সরকার বলছে, ট্রাইব্যুনালে যারা বাদ পড়বে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য বলছে, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কাউকে ডিটেনশন সেন্টারে আটকানো হবে না। মজার ব্যাপার হলো, এই ১৯ লাখের মধ্যে ১১ লাখ বাঙালি হিন্দু, প্রায় এক লাখ নেপালি, আরও দু'তিন লাখ ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা নাগরিক। সাবেক রাষ্ট্রপতির পরিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশ-সেনাবাহিনীর সদস্য এমন অনেকেই এখন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েক লাখ ক্ষুদ্র উপজাতি জনগণ রয়েছে, যারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছে। শেষ পর্যন্ত হয়তো ৩-৪ লাখ বাঙালি মুসলমান রয়ে যাবে, যাদেরকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এনআরসিতে সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র, অবহেলিত ও নিপীড়িত জনগণই বাদ পড়বে, যাদের অধিকাংশ মুসলিম কৃষক হয়তো বিভিন্ন সময়ে ব্রহ্মপুত্রের বন্যায় জমি হারিয়েছে। সেই সঙ্গে জমির কাগজপত্র রক্ষা করতে পারেনি এবং তারাই হয়তো শেষ পর্যন্ত বেশি ভোগান্তির শিকার হবে।

যে কোটি কোটি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর কথা বলে বিজেপি রাজনীতির মাঠ গরম করেছিল, সেটি আজ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় খোদ বিজেপি এখন বিপাকে পড়েছে। বিজেপি সরকার নিয়োজিত কর্মকর্তারাই এনআরসি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। তারাই আসামের নাগরিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছেন। এখন বিজেপি নতুন করে আসামে এনআরসি করার কথা বলছে। এই অযাচিত আবদার অবশ্য ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট নাকচ করে দিয়েছেন। এনআরসির কাজে ইতিমধ্যে ভারতীয় মুদ্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে, যা বলা চলে রাষ্ট্রের কোনো উপকারেই আসেনি। বরং রাজ্যের তথা সমগ্র ভারতে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভেদ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আসামে এনআরসি ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বিজেপির কিছু উগ্র নেতা চাইছেন পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি এমনকি ভারতজুড়ে এনআরসি করবেন। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে খোদ পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বিতাড়নের বক্তব্য দিয়ে আসছেন। যদিও সরকারিভাবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের সময় বলেছেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে বাংলাদেশের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু আমরা জানি, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপির রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ন্ত্রণ করেন না। যারা করেন তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেই চলেছেন।

অতি সম্প্রতি ভারতের প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফাইজান মুস্তফা বলেছেন, সমস্ত এনআরসি প্রক্রিয়া ভারতের শাসনতন্ত্রের নাগরিকত্ব বিলের সম্পূর্ণ বিরোধী; ভারতের শাসনতন্ত্রের মূল আদর্শ ও চেতনাবিরোধী। ১৯৫০ সাল ও পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে নাগরিকত্বের যে বিল আনা হয়েছে, তার সঙ্গে এনআরসি পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশি খোঁজার নামে রাষ্ট্রের যে সম্পদ ব্যয় হচ্ছে, তা কাম্য নয়। অধ্যাপক ফাইজান আরও বলেছেন, 'আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান। সেখানে ১০ লাখ ভারতীয় অতি উচ্চ বেতনে চাকরি করছে। তারা বিপুলসংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা ভারতে পাঠাচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশকে নাম ধরে হেয় প্রতিপন্ন করা অবন্ধুসুলভ ও অবিবেচনাপ্রসূত।'

এটা দুঃখজনক, ১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন আসাম ছিল ভারতের সবচেয়ে উন্নত রাজ্যগুলোর একটি। অথচ আজ আসাম ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। এমনকি অর্থনীতি ও জীবনমানের বিভিন্ন সূচকে আসাম বাংলাদেশ থেকেও অনেক পিছিয়ে আছে। আসামের এ দুর্দশার জন্য অহমিয়াদের ভাষায় 'কোটি কোটি বাঙালি অনুপ্রবেশকারী দায়ী।' কিন্তু তাদের বুঝতে হবে, কেন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধশালী হওয়া সত্ত্বেও আজ তারা পিছিয়ে? ভৌগোলিক কারণে আসাম ভারতের অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রায় 'বিচ্ছিন্ন'। অহমিয়াদের উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কারণে ভারতের অনেক বিনিয়োগকারী সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। মানচিত্র ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আসাম বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। ফলে আসামের উচিত অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ জোরদার করা। তাদের উচিত, তথাকথিত 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' খুঁজে বের করার পেছনে অর্থ ও সময় ব্যয় না করে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো।

ইতিমধ্যে বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের মিজোরাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের সঙ্গে আমাদের ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তার সুফলও ওই রাজ্যগুলো পাচ্ছে। একইভাবে আসামেরও উচিত বাঙালির বিরুদ্ধে আন্দোলন না করে, কীভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বন্ধন সুদৃঢ় করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়া। আসামের উন্নতির চাবিকাঠি বাংলাদেশের হাতে- এটা অহমিয়াদের বুঝতে হবে।

এনআরসির ফলে যে সুফলটা আমাদের হয়েছে তা হচ্ছে, ভারতের যেসব রাজনীতিবিদ ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবী যে কোনো সুযোগেই বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বের করে দেওয়ার হুমকি দিতেন, তাদের মুখে আজ চুনকালি পড়েছে। ঐতিহাসিক সত্য এই যে, ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে যেসব শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তার প্রায় সবাই হয় পশ্চিমবঙ্গে, নয়তো ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছিলেন। খুব স্বল্পসংখ্যক শরণার্থী হয়তো আসামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই এসব শরণার্থী তাদের নিজ নিজ আবাসভূমিতে ফিরে এসেছেন। বলা হচ্ছিল, লাখ লাখ বাংলাদেশি গত ৪০ বছরে আসামে পাড়ি দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, 'তারা সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া ও বিএসএফের তীক্ষষ্ট দৃষ্টি এড়িয়ে ভারতে ঢুকে পড়ল কীভাবে?' চরম সত্য হলো এই যে, গত দুই দশকে মাত্র জনাপাঁচেক অবৈধ বাংলাদেশিকে ভারত সরকার আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং আমরা তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশ সরকার পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনো ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া যাবে না। এ ব্যাপারে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে যথাযথ নির্দেশ দেওয়া আছে। লাখ লাখ বাংলাদেশির ভারতে অনুপ্রবেশ একটি অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। ভারতের রাজনীতিবিদরা এ বিষয়ে ভবিষ্যতে আর রাজনীতি করবেন না বলেই আমার বিশ্বাস। পুঁথিসাহিত্যের সেই উক্তিটি ভারতীয় বন্ধুদের স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেষ করতে চাই :'লাখো লাখো সৈন্য মারে কাতারে কাতার, শুমার করিয়া দেখে মোটে চার হাজার।'

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমডোর, নিরাপত্তা বিশ্নেষক ও ট্রেজারার, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক