জনস্বাস্থ্য
চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
×
মো. শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এক দুর্ভাবনার বিষয়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু মারাত্মক ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। করোনার সংক্রমণ বেড়ে চলছে। করোনাভাইরাস শীত, গরম, বর্ষা- সবসময় মানুষকে আক্রমণ করে। কিন্তু ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত বৃদ্ধি পায় বর্ষা মৌসুমে। ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করে এডিস মশার মাধ্যমে। এডিস মশা রাতে আক্রমণ করে না। দিনে সূর্যোদয়ের পর দুই-তিন ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগে কয়েক ঘণ্টা এদের আক্রমণ লক্ষণীয়। বাংলাদেশে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সর্বোচ্চ এক দিনে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল।
ঢাকার মেয়ররা মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করছেন। তবে জনসাধারণের ভূমিকা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা সাধারণত সচেতন নই। পরিবেশ দূষণ করি এবং ড্রেনে পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলে ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করি। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার কারণ মনে হচ্ছে- দীর্ঘকালীন বর্ষা ও গরম, সচেতনতার অভাব, পরিকল্পনার অভাব, একই কীটনাশকের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, জরিপের ফলাফল আমলে না নেওয়া, কারিগরি ও সক্ষমতার অভাব ইত্যাদি অন্যতম। ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৮০ জন। বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখের বেশি এবং ডেঙ্গুর আক্রমণ বিগত বছরের চেয়ে বেশি ছিল এবং মৃত্যুর এই সংখ্যাও আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সালে ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০১৯ সালের চেয়ে তিনগুণ হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের দক্ষ নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে প্রায় ১২০-১৫০ জন মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এডিস মশা নিধনের জন্য অধিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সরকারের নিতে হবে, যাতে করোনাকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় কারও মৃত্যু না হয়। কখনও বৃষ্টি, কখনও রোদ- এ রকম আবহাওয়া এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া শুধু সরকারের একার পক্ষে এডিস মশা দূর করা সম্ভব নয়, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশেষ করে নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করতে হবে।
এডিস মশা গরমের দিনে বেশি আক্রমণ করে। বর্তমানে মশার উপদ্রব যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। অতীতে শুধু ঢাকাতে ডেঙ্গুর লক্ষণ ছিল। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে সারাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। ডেঙ্গু নিয়ে এখনই পূর্বপরিকল্পনা ও সতর্কতামূলক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এডিস মশার ডিম্বানু এক বছর পর্যন্ত তাদের অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। সুতরাং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি, ঢাকার মেয়ররা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনসাধারণের সঠিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন। যেমন- সংশ্নিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ড্রেন পরিস্কার রাখা, বাড়ির আঙিনায় ফুলের টবে পানি জমতে না দেওয়া, ঝোপঝাড় পরিস্কার করা, রাস্তার আশপাশ ও খানাখন্দ পরিস্কার বা ভরাট করা, জনকল্যাণমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক আলোচনা করা জরুরি। ঢাকায় কিউলেক্স ও এডিস মশার প্রজনন অত্যন্ত বেশি। ফ্রিজ বা এসির পানি জমতে না দেওয়া, ড্রেন ও নর্দমার পানি যাতে না জমে- এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং লার্ভা ধ্বংস করার কীটনাশক স্প্রে করা খুবই জরুরি বলে মনে করি। অন্যথায় ডেঙ্গু এ বছর মারাত্মক আকার ধারণ করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
শুধু সরকার এডিস মশা প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে, তা ঠিক নয়। নাগরিক হিসেবেও আমরা আমাদের দায়িত্ব উপেক্ষা করতে পারি না। কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে না থেকে পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে এবং শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু-দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। মশার আবাস ও প্রজননস্থল ধ্বংস করে এডিস সমূলে নির্বংশ করে আমরা একটি সুন্দর দেশ, বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলব।
সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
ঢাকার মেয়ররা মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চেষ্টা করছেন। তবে জনসাধারণের ভূমিকা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রশ্নবিদ্ধ। আমরা সাধারণত সচেতন নই। পরিবেশ দূষণ করি এবং ড্রেনে পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনা ফেলে ড্রেনের স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট করি। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার কারণ মনে হচ্ছে- দীর্ঘকালীন বর্ষা ও গরম, সচেতনতার অভাব, পরিকল্পনার অভাব, একই কীটনাশকের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, জরিপের ফলাফল আমলে না নেওয়া, কারিগরি ও সক্ষমতার অভাব ইত্যাদি অন্যতম। ২০১৯ সালের ১ আগস্ট থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৮০ জন। বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩০০। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখের বেশি এবং ডেঙ্গুর আক্রমণ বিগত বছরের চেয়ে বেশি ছিল এবং মৃত্যুর এই সংখ্যাও আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২০ সালে ঢাকা মহানগরীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২০১৯ সালের চেয়ে তিনগুণ হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের দক্ষ নেতৃত্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে প্রায় ১২০-১৫০ জন মানুষ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এডিস মশা নিধনের জন্য অধিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সরকারের নিতে হবে, যাতে করোনাকালে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় কারও মৃত্যু না হয়। কখনও বৃষ্টি, কখনও রোদ- এ রকম আবহাওয়া এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া শুধু সরকারের একার পক্ষে এডিস মশা দূর করা সম্ভব নয়, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশেষ করে নিজের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করতে হবে।
এডিস মশা গরমের দিনে বেশি আক্রমণ করে। বর্তমানে মশার উপদ্রব যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। অতীতে শুধু ঢাকাতে ডেঙ্গুর লক্ষণ ছিল। কিন্তু ২০১৯ সাল থেকে সারাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। ডেঙ্গু নিয়ে এখনই পূর্বপরিকল্পনা ও সতর্কতামূলক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এডিস মশার ডিম্বানু এক বছর পর্যন্ত তাদের অনুকূল পরিবেশ পেলে প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। সুতরাং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি, ঢাকার মেয়ররা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী জনসাধারণের সঠিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন। যেমন- সংশ্নিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ড্রেন পরিস্কার রাখা, বাড়ির আঙিনায় ফুলের টবে পানি জমতে না দেওয়া, ঝোপঝাড় পরিস্কার করা, রাস্তার আশপাশ ও খানাখন্দ পরিস্কার বা ভরাট করা, জনকল্যাণমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক আলোচনা করা জরুরি। ঢাকায় কিউলেক্স ও এডিস মশার প্রজনন অত্যন্ত বেশি। ফ্রিজ বা এসির পানি জমতে না দেওয়া, ড্রেন ও নর্দমার পানি যাতে না জমে- এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং লার্ভা ধ্বংস করার কীটনাশক স্প্রে করা খুবই জরুরি বলে মনে করি। অন্যথায় ডেঙ্গু এ বছর মারাত্মক আকার ধারণ করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
শুধু সরকার এডিস মশা প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে, তা ঠিক নয়। নাগরিক হিসেবেও আমরা আমাদের দায়িত্ব উপেক্ষা করতে পারি না। কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে না থেকে পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে এবং শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু-দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। মশার আবাস ও প্রজননস্থল ধ্বংস করে এডিস সমূলে নির্বংশ করে আমরা একটি সুন্দর দেশ, বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলব।
সহকারী অধ্যাপক, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ