থালাবাসনের বদলে বই পুরস্কার দিন
আবু তালহা বিন মনির
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৩ | ২৩:৫২
আমাদের দেশে জানুয়ারি মাসে স্কুলভিত্তিক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও অন্য সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয় থালাবাসন। এই রেওয়াজ চলছে যুগ যুগ ধরে। শুধু ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী নয়; বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে শ্রেণিতে প্রথম-তৃতীয় স্থান অধিকারীদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় এ পুরস্কার। একজন শিক্ষার্থী সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পায় থালাবাসন। বিষয়টা শুনতেই যেন কেমন বেমানান লাগে। এসবের পরিবর্তে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিলে বিষয়টি অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে।
শিক্ষার্থীরা বই পাঠে এতটাই নিরুৎসাহিত হচ্ছে যে তাদের উদ্বুদ্ধ করতেও আমরা বিন্দুমাত্র চেষ্টা করছি না। যদি আমরা তার সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তার হাতে একটি বই তুলে দিতে পারি, তবে আজ নয়, কাল- ধীরে ধীরে সে একদিন বই পাঠে উদ্বুদ্ধ হবে। সে হয়তো প্রথম দিন বইটি হাতে নেবে না, দ্বিতীয় দিনও হয়তো নেবে না। হয়তো টেবিলের ওপর ফেলে রাখবে। কিন্তু তৃতীয় দিন ঠিকই সে বইটি হাতে তুলবে। তার মনে তৃতীয় দিনে হলেও এই ভাবনাটা আসবে, পেয়েছিই যখন দেখি না একটু পাতা উল্টে। পাতা উল্টে দেখতে দেখতে চোখ বুলাবে লেখকের সৃষ্টিতে। এক-দুই লাইন পড়বে, আবার রেখে দেবে। পরদিন আবার আরও একটু চোখ বুলাবে। আবার রেখে দেবে। এভাবেই দেখা যাবে বইটির প্রতি তার টান বাড়ছে। তারপর একদিন সেও হয়ে উঠবে একজন আদর্শ পাঠক।
যখন একজন শিক্ষার্থী আদর্শ পাঠক হয়ে উঠবে, তখনই তার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত হবে। বর্তমান সময়ে ছেলেমেয়েরা যেভাবে যান্ত্রিক আর বিপথে পা বাড়াচ্ছে, এ অবস্থায় তাদের বইমুখী করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। তাদের হাতে কোনো একটি মাধ্যমে বই তুলে দিতে হবে। এর উৎকৃষ্ট মাধ্যম হলো স্কুলভিত্তিক প্রতিযোগিতাগুলোতে থালাবাসনের পরিবর্তে বই তুলে দেওয়া। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। থালাবাসন পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার যে রেওয়াজ চালু হয়েছে, তা বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার্থী, জামালগঞ্জ সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ