সমকালীন প্রসঙ্গ
ইসি সফল করতে রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব
×
মাহবুব হাসান
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ১২:০০
আমাদের সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কেবল প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগদান ছাড়া আর কোনো অফিসিয়াল কাজ নেই তার। যদি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যান বা কোনো নিয়োগ সম্পন্ন করতে চান, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি সে ব্যাপারে পরামর্শ নিতে বাধ্য। অর্থাৎ যিনি রাষ্ট্রের এক নম্বর ব্যক্তি, তিনিই আবার রাষ্ট্রের দুই নম্বর ব্যক্তির পরামর্শ ছাড়া কিছুই করতে পারেন না। আমাদের অনন্যসাধারণ সংবিধানের এই রকম একটি বিধান নির্দেশিত হয়ে আছে।
সংবিধান দেশের সব নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু যে-ই একজন কোনো রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন, অমনি তার সেই মতপ্রকাশের একচ্ছত্র অধিকার বাতিল হয়ে তা বর্তালো গিয়ে ওই রাজনৈতিক দলের প্রধানের ঝুলিতে। অর্থাৎ ওই সংসদ সদস্য তার স্বাধীন মতপ্রকাশ করতে পারবেন না দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে। তাকে দলীয় সিদ্ধান্তেই নিজের মতকে রাজনৈতিকভাবে কোরবানি দিতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনাররা এর মধ্যেই শপথ নিয়েছেন- তারা জ্ঞানত কোনো রকম অন্যায় ও অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দেবেন না। তারা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। শপথবাণী মুখ্যত এমনটাই হয়ে থাকে। শপথের ঘাটতি থাকে তাদের কর্মে। কাজ করতে গেলেই রাজনৈতিক সরকারের মুখ মনে পড়ে। কারণ, সেটা অভ্যাস। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা এক ধরনের রাজনৈতিক প্রশাসনের 'আজ্ঞাবাহকে' পরিণত হন। এটা তাদের দোষ নয়; প্রশাসনের চরিত্রই এটা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার তাদের প্রশাসনের 'ইয়েস বস' কর্মী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছিল, তৎকালীন ব্রিটিশ সেক্রেটারি মেকলের ভাষায়, তারা পোশাক-আশাক, মনন-মেধা, চিন্তা-চেতনা ও কর্মে হবে কেতাদুরস্ত ব্রিটিশ রাজ কর্মচারী-কর্মকর্তা। কিন্তু আদপে তারা থেকে যাবে স্থানীয় লোক (নেটিভ প্রজা)। ওই ব্রিটিশ প্রশিক্ষিত প্রশাসনিক প্রজারাই নিজেদের মনে করবে, তারা ব্রিটিশ এবং ব্রিটিশ সরকারের 'সার্ভেন্ট'। আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের সেটাই মনে করেন এবং জনগণকে মনে করেন তাদেরই প্রজা। সেসব প্রজার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তারা প্রতিষ্ঠার বদলে তাদের নিয়ন্তা রাজনৈতিক সরকারের সেবা দিতেই অধিক তৎপর থাকেন।
ধরা যাক, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দল যারা সার্চ কমিটির আহ্বানে নাম দেয়নি, তারা যদি নাম দিত এবং রাষ্ট্রপতির আহ্বানে যোগ দিত সংলাপে; তাতেই কি এ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত? সব দল অংশ নিলেই যে নির্বাচন বৈধ হবে- এটা তো সেই ধারার কিছু নয়। সংবিধান বলেছে আইন প্রণয়ন করতে, যাতে সব দলের প্রতিনিধিরা সেই আইনের খসড়া তৈরি করবেন। গণতান্ত্রিক দেশ বা পার্শ্ববর্তী দেশের এতদসংক্রান্ত আইনের আলোকে নিজেদের আলোকিত করতেন, যাচাই-বাছাই করে, তারপর তা প্রণীত হতো। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনী আইনের বৈধতা পোক্ত করতেন, তাহলেই কেবল আমরা বলতে পারতাম কাজটি জনগণের তরফে হয়েছে। আমি বলতে চাই, জনগণের নামে নিজেদের স্বার্থবাদী কিছু চাপিয়ে দেবেন না, যা বস্তুত অবৈধ ও গণবিচ্ছিন্ন।
সত্যিকার অর্থেই যদি জনগণের শাসন ও তাদেরই বাসনা পোক্ত করতে চান শাসনে-প্রশাসনে এবং গণতান্ত্রিকতায়; তাহলে সেই পথেই এগোনো উচিত জনগণের প্রতিনিধিদের। তারা যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি- এটা বিতর্কিত নানাভাবে, নানা কারণে। তাই বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হলে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ করার দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি স্টেকহোল্ডার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর। দায়িত্বটা সবার, যারা নেতৃত্ব আছেন, যারা নেতৃত্ব যাবেন এবং যারা জনগণের নামে জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করবেন।
দেশের মানুষের কথা যদি মনে থাকে রাজনীতিকদের; তাহলে ক্ষমতায় যাওয়ার পথের সন্ধান তারা করবেন না। ভোটার জনগণই ভোটের মাধ্যমে তাদের পৌঁছে দেবে গন্তব্যে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনীতিকরা ক্ষমতায় যেতে চান যে কোনোভাবে বা চাণক্যের কথায় ছলেবলে-কলে-কৌশলে। আর এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতির মৌলিক সমস্যা। রাজনৈতিক এ সমস্যার সমাধান করা গেলে পার্শ্ব-সমস্যা আপনা-আপনিই তিরোহিত হবে। তার মানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক মন ও মননের চর্চা এবং নির্বাচনী ধারায় নেতা-নেত্রী নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করেও দলে ও সরকারের মধ্যে গণতান্ত্রিক সুশাসন কায়েম করা যাবে না। ক্ষমতাসীন দল একটি নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন করেই গলার রগ ফুলিয়ে বলতে থাকে- দেখুন, আমাদের সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু একবারও বলে না- ওই নির্বাচনে গোলমাল তো হয়েছে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা, গুলি এবং মানুষ হত্যার বিষয়টি রাজনৈতিক গলাবাজির নিচে ডুবে যায়।
সর্বশেষ হুদা কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শতাধিক মানুষ প্রাণহানির শিকার হয়েছে। তার পরও সিইসি হুদা বলেছেন, তিনি 'সফল'। নির্বাচনী অংশীজন রাজনৈতিক দলগুলোকে যিনি ভোটের দিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি; তিনি কতটা কীর্তিমান হলে এমন মন্তব্য করতে পারেন!
নতুন সিইসি ও ইসি কমিশনারদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকতে হবে নির্বাচনে যেন প্রাণ হরণ না হয়, সে ব্যবস্থা করা। সে দায়িত্ব কমিশনের পাশাপাশি স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দলগুলোর। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের হাতে রয়েছে অস্ত্র। সেগুলো উদ্ধার করতে হবে সবকিছুর আগে। সন্ত্রাসীদের আটক করতে হবে এবং তাদের জামিন হবে না। বিচারের পর তারা মুক্তি পাবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি ও মর্যাদা মনে রাখতে হবে কমিশনকে। রাজনৈতিক সরকার তাদের ইচ্ছাকে কোনোভাবেই দমন করতে পারবে না, যদি তারা একাট্টা থেকে ভালো কাজটা করে।
গলদ আমাদের রাজনৈতিক চরিত্রে, আমাদের রাজনৈতিক কর্মের ধারায় ও দলীয় চিন্তার বৃত্তের মধ্যে। এই দলীয় স্বার্থচিন্তার বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের স্বার্থ, বিএনপির নিজস্ব স্বার্থ থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক সরকারের কাঠামোর চিন্তা করতে হবে। দলের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। সেটা কি করতে পারবে প্রধান রাজনৈতিক দল দুটি? পারা উচিত।
ড. মাহবুব হাসান: কবি ও সাংবাদিক
সংবিধান দেশের সব নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। কিন্তু যে-ই একজন কোনো রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন, অমনি তার সেই মতপ্রকাশের একচ্ছত্র অধিকার বাতিল হয়ে তা বর্তালো গিয়ে ওই রাজনৈতিক দলের প্রধানের ঝুলিতে। অর্থাৎ ওই সংসদ সদস্য তার স্বাধীন মতপ্রকাশ করতে পারবেন না দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে। তাকে দলীয় সিদ্ধান্তেই নিজের মতকে রাজনৈতিকভাবে কোরবানি দিতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনাররা এর মধ্যেই শপথ নিয়েছেন- তারা জ্ঞানত কোনো রকম অন্যায় ও অবৈধ কাজকে প্রশ্রয় দেবেন না। তারা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। শপথবাণী মুখ্যত এমনটাই হয়ে থাকে। শপথের ঘাটতি থাকে তাদের কর্মে। কাজ করতে গেলেই রাজনৈতিক সরকারের মুখ মনে পড়ে। কারণ, সেটা অভ্যাস। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা এক ধরনের রাজনৈতিক প্রশাসনের 'আজ্ঞাবাহকে' পরিণত হন। এটা তাদের দোষ নয়; প্রশাসনের চরিত্রই এটা। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার তাদের প্রশাসনের 'ইয়েস বস' কর্মী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলেছিল, তৎকালীন ব্রিটিশ সেক্রেটারি মেকলের ভাষায়, তারা পোশাক-আশাক, মনন-মেধা, চিন্তা-চেতনা ও কর্মে হবে কেতাদুরস্ত ব্রিটিশ রাজ কর্মচারী-কর্মকর্তা। কিন্তু আদপে তারা থেকে যাবে স্থানীয় লোক (নেটিভ প্রজা)। ওই ব্রিটিশ প্রশিক্ষিত প্রশাসনিক প্রজারাই নিজেদের মনে করবে, তারা ব্রিটিশ এবং ব্রিটিশ সরকারের 'সার্ভেন্ট'। আমাদের প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেদের সেটাই মনে করেন এবং জনগণকে মনে করেন তাদেরই প্রজা। সেসব প্রজার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তারা প্রতিষ্ঠার বদলে তাদের নিয়ন্তা রাজনৈতিক সরকারের সেবা দিতেই অধিক তৎপর থাকেন।
ধরা যাক, বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দল যারা সার্চ কমিটির আহ্বানে নাম দেয়নি, তারা যদি নাম দিত এবং রাষ্ট্রপতির আহ্বানে যোগ দিত সংলাপে; তাতেই কি এ সমস্যার সমাধান হয়ে যেত? সব দল অংশ নিলেই যে নির্বাচন বৈধ হবে- এটা তো সেই ধারার কিছু নয়। সংবিধান বলেছে আইন প্রণয়ন করতে, যাতে সব দলের প্রতিনিধিরা সেই আইনের খসড়া তৈরি করবেন। গণতান্ত্রিক দেশ বা পার্শ্ববর্তী দেশের এতদসংক্রান্ত আইনের আলোকে নিজেদের আলোকিত করতেন, যাচাই-বাছাই করে, তারপর তা প্রণীত হতো। প্রয়োজনে গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনী আইনের বৈধতা পোক্ত করতেন, তাহলেই কেবল আমরা বলতে পারতাম কাজটি জনগণের তরফে হয়েছে। আমি বলতে চাই, জনগণের নামে নিজেদের স্বার্থবাদী কিছু চাপিয়ে দেবেন না, যা বস্তুত অবৈধ ও গণবিচ্ছিন্ন।
সত্যিকার অর্থেই যদি জনগণের শাসন ও তাদেরই বাসনা পোক্ত করতে চান শাসনে-প্রশাসনে এবং গণতান্ত্রিকতায়; তাহলে সেই পথেই এগোনো উচিত জনগণের প্রতিনিধিদের। তারা যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি- এটা বিতর্কিত নানাভাবে, নানা কারণে। তাই বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে হলে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ করার দায়িত্বও নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি স্টেকহোল্ডার হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর। দায়িত্বটা সবার, যারা নেতৃত্ব আছেন, যারা নেতৃত্ব যাবেন এবং যারা জনগণের নামে জনগণের গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করবেন।
দেশের মানুষের কথা যদি মনে থাকে রাজনীতিকদের; তাহলে ক্ষমতায় যাওয়ার পথের সন্ধান তারা করবেন না। ভোটার জনগণই ভোটের মাধ্যমে তাদের পৌঁছে দেবে গন্তব্যে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজনীতিকরা ক্ষমতায় যেতে চান যে কোনোভাবে বা চাণক্যের কথায় ছলেবলে-কলে-কৌশলে। আর এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতির মৌলিক সমস্যা। রাজনৈতিক এ সমস্যার সমাধান করা গেলে পার্শ্ব-সমস্যা আপনা-আপনিই তিরোহিত হবে। তার মানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে গণতান্ত্রিক মন ও মননের চর্চা এবং নির্বাচনী ধারায় নেতা-নেত্রী নির্বাচন করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করেও দলে ও সরকারের মধ্যে গণতান্ত্রিক সুশাসন কায়েম করা যাবে না। ক্ষমতাসীন দল একটি নির্বাচন ভালোভাবে সম্পন্ন করেই গলার রগ ফুলিয়ে বলতে থাকে- দেখুন, আমাদের সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু একবারও বলে না- ওই নির্বাচনে গোলমাল তো হয়েছে। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, হামলা, গুলি এবং মানুষ হত্যার বিষয়টি রাজনৈতিক গলাবাজির নিচে ডুবে যায়।
সর্বশেষ হুদা কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শতাধিক মানুষ প্রাণহানির শিকার হয়েছে। তার পরও সিইসি হুদা বলেছেন, তিনি 'সফল'। নির্বাচনী অংশীজন রাজনৈতিক দলগুলোকে যিনি ভোটের দিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি; তিনি কতটা কীর্তিমান হলে এমন মন্তব্য করতে পারেন!
নতুন সিইসি ও ইসি কমিশনারদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকতে হবে নির্বাচনে যেন প্রাণ হরণ না হয়, সে ব্যবস্থা করা। সে দায়িত্ব কমিশনের পাশাপাশি স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দলগুলোর। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মীদের হাতে রয়েছে অস্ত্র। সেগুলো উদ্ধার করতে হবে সবকিছুর আগে। সন্ত্রাসীদের আটক করতে হবে এবং তাদের জামিন হবে না। বিচারের পর তারা মুক্তি পাবে। এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শক্তি ও মর্যাদা মনে রাখতে হবে কমিশনকে। রাজনৈতিক সরকার তাদের ইচ্ছাকে কোনোভাবেই দমন করতে পারবে না, যদি তারা একাট্টা থেকে ভালো কাজটা করে।
গলদ আমাদের রাজনৈতিক চরিত্রে, আমাদের রাজনৈতিক কর্মের ধারায় ও দলীয় চিন্তার বৃত্তের মধ্যে। এই দলীয় স্বার্থচিন্তার বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের স্বার্থ, বিএনপির নিজস্ব স্বার্থ থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক সরকারের কাঠামোর চিন্তা করতে হবে। দলের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। সেটা কি করতে পারবে প্রধান রাজনৈতিক দল দুটি? পারা উচিত।
ড. মাহবুব হাসান: কবি ও সাংবাদিক
- বিষয় :
- সমকালীন প্রসঙ্গ
- মাহবুব হাসান