জায়েদ খানকে চড় মেরেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। চড়কাণ্ডেরর জায়েদ খান উত্তেজিত হয়ে পিস্তল বের করে ওমর সানীকে গুলি করার হুমকী দেন। এমন ঘটনা ঘটেছে গত শুক্রবার। খল অভিনেতা ডিপজলের বড় ছেলের বিবাহ পরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব ঘটনা ঘটে। 

ওমর সানী এ ঘটনাটি সত্য বললেও এ ঘটনার বিষদ পরিস্কার করে কিছুই বলেননি। জায়েদ খানও দাবি করছেন পুরো ঘটনাই মিথ্যা। বিয়েতে ওইদিন রাতে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি।  

ডিপজলের ছেলের ওই বিয়ের  আয়োজনে হাজির ছিলেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজিনা। ওই রাতের ঘটনার বিবরণ জানতে যোগাযোগ করা হয় তার সঙ্গে। ঘটণার বিবরণ দিলেন এভাবে, ডিপজল সাহেব তার ছেলের বিবাহত্তোর সংবর্ধনার আয়োজন তো রাজকীয়ভাবে করেছিলেন। কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিলো। শোবিজের অনেক মানুষই সেখানে হাজির হোন। সন্ধ্যার পর থেকেই অতিথিরা আসতে থাকেন। আমিও সন্ধ্যার একটু পরপরই যাই। সবার সঙ্গে দেখা হয়। সেলফি তুলতে থাকি সবার সঙ্গে। অঞ্জনা আপা তো সেলফি তুলতে তুলতে ক্লান্তই হয়ে পড়েন। আমি বিয়েতে ৩ ঘণ্টার মতো সময় ছিলাম। রাত ৯টার দিকে আসে ওমর সানী। ওর সঙ্গে আমার কয়েকবার দেখা হয়। আমরা যে টেবিলে খাবার খেলাম সেই টেবিলের দিকেও একবার দেখলাম এগিয়ে আসতে। বেশ স্বাভাবিকই ছিলো। জায়েদ খানকেও বেশ খোশ মেজাজেই সবার সঙ্গে কথা বলতে দেখলাম। যা রটছে বা খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার কিছুই তো আমরা দেখলাম না।

তাহলে বলছেন জায়েদ খান ও ওমর সানীর মধ্যেকার যে ইস্যু নিয়ে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার কিছুই ঘটেনি? আমি তো এমন কিছুই ঘটতে দেখিনি। শত শত মানুষ ওইদিন মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে ছিলেন, ইভেন্টের লোকেরাও ভিডিও করছিলেন কই কোনো ফুটেজেও তো এই ঘটনার ভিডিও দেখা যাচ্ছে না। আরে ভাই এটা তো বিয়ের আয়োজন ছিলো। তাও আবার ডিপজলের মতো বড় একজন মানুষের ছেলের বিয়ের। সেখানে এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার তো প্রশ্নই আসে না। 

রোজিনা বলেন, আমার মনে হয় এই ঘটনা তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধনে এসব ছড়ানো হচ্ছে। শোবিজের মানুষের ইমেজ নষ্ট করতেই এটা করা হচ্ছে। আমি মনে করি এটা ঠিক হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের কাছে শোবিজের মানুষের ইমেজ এভাবে হেয় করা মোটেও উচিত নয়। 

এদিকে ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন প্রতক্ষদর্শী জানান, মৌসুমীর সঙ্গে জায়েদ খান খারাপ আচরণ করেছেন বলে তারা জেনেছেন। এটা নিয়ে জায়েদের ওপর ওমর সানী ভীষণ বিরক্ত ছিলেন। ডিপজলের কাছে এর বিচারও চান ওমর সানী। ডিপজল উভয়কে শান্ত থাকতে বলেন। উভয়কে উভয়ের কাছ থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেন। 

কিন্তু ঘটনা সেখানে থেমে থাকেনি। ডিপজলের ওই সমাধান ওমর সানীর ভালো লাগেনি, মেনেও নেননি। তাই ডিপজলের ছেলের বিয়েতে পেয়েই জায়েদ খানকে চড় মেরে বসেন ওমর সানী এবং বলেন, 'তোরে না নিষেধ করছি, আমার বউরে ডিস্টার্ব না করতে। কোনো ফাজলামি করবি না। অসম্মান করে কথা বলবি না।' তখন জায়েদ খান কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলেন, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’