চলচ্চিত্র রিভিউ
কণ্ঠ: ২ঘণ্টার ছবিতে প্রতি মিনিট উপভোগ্য
শিহাবউদ্দিন শিশির
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৪:৩৫ | আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ০৪:৪২
শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির ছবি মানেই থাকে দর্শকদের অন্যরকম আগ্রহ। তাদের 'কণ্ঠ'ও ব্যতিক্রম নয়। এই ছবি দিয়েও দর্শকদের নিরাশ করেননি পরিচালক জুটি। পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, দুই ঘণ্টার ছবি হলে প্রতিটি মিনিট দর্শককে বিনোদন দিতে হবে। এক মিনিটও ফাঁকি দিলে চলবে না। সত্যিই তাই, বিনোদনের ঘাটতি তাদের কোনো ছবিতেই হয়নি। কনটেন্ট, অভিনয় আর পরিবেশন এই তিনের মেলবন্ধনেই জয়যাত্রা অব্যাহত শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের। আগের ছবিগুলোর চেয়ে নন্দিতা রায়ের লেখা 'কণ্ঠ'-এর চিত্রনাট্য অনেক বেশি পরিণত।
ছবির প্রতিটি চরিত্রই বিকশিত হয়েছে। ছবির মূল চরিত্র অর্জুন [শিবপ্রসাদ] এমন এক মানুষ, কণ্ঠ যার গর্ব। কণ্ঠ যার পেশা। এমন মানুষের কণ্ঠযন্ত্র বাদ গেলে কীভাবে বাঁচে সে? বিষয়টি এই সময়ের জন্য ভীষণ যুগোপযোগী। এমন বিষয় নির্বাচনের জন্য অভিবাদন প্রাপ্য নির্মাতাদের। শিবপ্রসাদকে অর্জুন চরিত্রে দর্শক মনে রাখবে অনেকদিন। তার চোখের ভাষায়, হাতের মুদ্রায় অর্জুনের রাগ, ক্ষোভ, অসহায়ত্বের প্রকাশ দর্শককে নাড়া দিয়েছে। পাওলি দামের অভিনয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চরিত্র হয়ে থাকবে পৃথা। এই চরিত্রের প্রতিটি আবেগ স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

দারুণ এনার্জেটিক চরিত্রে পাওয়া গেল জয়া আহসানকে। তিনিও বেশ ফুর্তি করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। তার চরিত্রটি বাংলাদেশের এক মেয়ের। জয়া আহসানের স্বতঃস্ম্ফূর্ত অভিনয় দর্শকের মনে থাকবে, অনেকদিন। বিশেষ করে গলার স্বরের নানান ভঙ্গি ছিল এককথায় অসাধারণ। এ ছাড়া অভিনয়ের চমৎকারিত্বের ছাপ রেখেছেন কনীনিকা, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তনিমা সেন এবং অন্যরাও। বিধবা পিসির [চিত্রা সেনের] বরিশালের স্মৃতি উসকে উঠে ফরিদপুরের মেয়ে রোমিলার সাহচর্যে। এই ছবি সেই যোগসূত্রও নির্মাণ করে।
এই ছবির বেশ কয়েকটি দৃশ্য দাগ কাটে। অপারেশনের পরে অর্জুনের ছেলে তার কাছ থেকে ভয়ে সরে সরে যাচ্ছে। ছেলের হাত ধরে কাটা জায়গায় স্পর্শ করায় অর্জুন। আর একটি দৃশ্যে অসহায় অর্জুনের গোঙানি আর পৃথার ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না। তবে সব ছাপিয়ে গেছে কালজয়ী ভূতের রাজার কণ্ঠকে ল্যারিঞ্জেকটমি রোগীর কণ্ঠে ব্যবহারের অভিনবত্ব।
ছবির 'সবাই চুপ' গানটির দৃশ্যায়ন ভারি সুন্দর। শিবপ্রসাদ ও পাওলির রসায়ন ভালো লেগেছে। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও প্রস্মিতা পালের 'বর্ণপরিচয়', প্রসেনের 'অবাক জলে' মন ছুঁয়েছে। তবে স্পিচ থেরাপিস্ট রোমিলার [জয়া আহসান] ওপরে অর্জুনের অতি নির্ভরশীলতা পৃথার মনে তৈরি করে নিরাপত্তাহীনতা। জন্ম নেয় হিংসাও। পৃথার আবেগ নিয়ে দ্বিমত নেই। তবে শিক্ষিত মেয়েরা কি সবসময় এত স্পষ্ট করে নিজেদের ইনসিকিউরিটি প্রকাশ করে? জয়ার কাছে পাওলির এই আবদার একটু বেমানান লাগে। ল্যারিঞ্জেকটমি নিয়ে এর আগে আর কোনো সিনেমা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। কিন্তু এই সিনেমা শুধু সেসব রোগীকেই নয়; অনুপ্রেরণা জোগাবে হাল না ছেড়ে লড়াই করার।
- বিষয় :
- জয়ার কণ্ঠ
- বিনোদন
- কলকাতার ছবি