ভোটের ফলাফল দলের জন্য বড় ধাক্কা, সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার : জার্মানির চ্যান্সেলর
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
বিবিসি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৫৮ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০২
জার্মানির দুটি অঙ্গরাজ্য নির্বাচনে নিজের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) খারাপ ফলাফলকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, কর ও জনকল্যাণমূলক খাতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। নির্বাচনী ধাক্কার পরও চ্যান্সেলর ও দলীয় প্রধানের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মের্জ।
রোববার মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্ন ও বার্লিনে অঙ্গরাজ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্নে সিডিইউর ভোট পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই রাজ্যে এটিই দলটির সবচেয়ে খারাপ ফলাফল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জেডডিএফ ও এআরডির তথ্য অনুযায়ী, মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্নে উগ্র-ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। মধ্য-বামপন্থী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকতে পারে। তবে সর্বাধিক ভোট পেলেও অন্য দলগুলো এএফডির সঙ্গে কাজ করতে রাজি না থাকায় তাদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কম।
বার্লিনে সিডিইউকে পেছনে ফেলেছে বামপন্থী দল ডি লিঙ্কে। সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ডি লিঙ্কে প্রায় ২৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর সিডিইউ পেয়েছে ১৯ শতাংশ। বার্লিনে এএফডি প্রায় ১৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বার্লিনে দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মের্জ বলেন, ‘সংস্কার আসতেই হবে। আমি এই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছি কারণ আমি আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘এখন যা করা প্রয়োজন, তার জন্য মেরুদণ্ড সোজা রাখা, অবিচলতা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। সিডিইউ দলের চেয়ারম্যান এবং সর্বোপরি দেশের চ্যান্সেলর হিসেবে আমি তার প্রমাণ দেব।’
মের্জের ওপর রাজনৈতিক চাপ নির্বাচনের আগেই বাড়ছিল। এর আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডি বড় জয় পেয়েছিল এবং সিডিইউর ভোট অর্ধেকে নেমে এসেছিল। এরপর দলের রাজনৈতিক অবস্থার উন্নতি না হলে মেয়াদের মাঝপথেই তথাকথিত ‘চ্যান্সেলর অদলবদল’-এর মাধ্যমে মের্জকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হয়।
তবে মের্জ পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। চলতি সপ্তাহের শুরুতে জার্মানির আটটি অঙ্গরাজ্যের নেতারাও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। মের্জ চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় এই নির্বাচনী ধাক্কা খেলেন।
বার্লিনের সিডিইউ নেতা বুরকার্ড ড্রেগারও মের্জের পদে বহাল থাকার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, মের্জের ‘অনেক কাজ বাকি’ এবং ফেডারেল পর্যায়ে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। তার মতে, এক বছরের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়; মের্জের হাতে আরও চার বছর সময় রয়েছে।
এদিকে এএফডির জাতীয় সহ-নেত্রী অ্যালিস ওয়েডেল বলেন, ‘আমরাই এখন সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তি এবং জনগণের মূলধারায় পৌঁছে গেছি।’
জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এএফডির কয়েকটি শাখাকে ‘ডানপন্থী চরমপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে দলটি এই তকমা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। অভিবাসনবিরোধী ‘জার্মানি-প্রথম’ নীতি ও রাশিয়াঘেঁষা এজেন্ডার কারণে দেশটির সাবেক কমিউনিস্ট-শাসিত পূর্বাঞ্চলে এএফডি উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে।
মের্জ বলেন, ‘কর্তৃত্ববাদের প্রতি এক ধরনের মোহ তৈরি হয়ে তা আমাদের সমাজে ক্রমশ গভীরভাবে প্রবেশ করছে’; তার মতে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোই সেই ‘কর্তৃত্ববাদী বিষের প্রতিষেধক’। অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার দক্ষিণপন্থী অবস্থান এএফডির প্রতি জনসমর্থনে ভাটা ফেলতে পারেনি এবং বামপন্থী মতাদর্শের মানুষদেরও তার থেকে দূরে সরিয়েছে।
দুই রাজ্যে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায়, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। চূড়ান্ত ফলাফল রোববার গভীর রাতে অথবা সোমবার সকালে পাওয়ার কথা।