ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুইজ

সুকান্ত ভট্টাচার্য ও অসহ্য দিন

সুকান্ত ভট্টাচার্য ও অসহ্য দিন
×

সুকান্ত ভট্টাচার্য [১৫ আগস্ট ১৯২৬–১৩ মে ১৯৪৭]

--

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৩ | ১৮:০০

সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন। বাবা নিবারণ ভট্টাচার্য, মা সুনীতি দেবী।
বিপুল জনপ্রিয়তার অধিকারী প্রগতিশীল চেতনার এ তরুণ কবির দেহাবসান ঘটে মাত্র একুশ বছর বয়সে। সামান্য কয়েক বছরে অত্যাশ্চর্য কবিত্ব শক্তির পরিচয় দিয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর মাতামহের বাড়ি কলকাতার কালীঘাটের ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রিটে এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার অন্তর্গত ঊনশিয়া গ্রামে। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন সুকান্ত। একই সময়ে ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। স্কুলপত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ রম্যগল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। সঞ্চয় পত্রিকাটি ছিল হস্তলিখিত। এগারো বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতিনাট্য রচনা করেন; যা পরে তাঁর ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়।
১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। সেই বছর ‘আকাল’ নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। কৈশোর থেকেই সুকান্ত যুক্ত হয়েছিলেন সাম্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে। জীবদ্দশায় দেখা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে অজস্র লিখেছেন সুকান্ত। পরাধীন দেশের দুঃখ দুর্দশা, ব্যক্তি ও সমষ্টির যুগযন্ত্রণা, শোষণ মুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, শোষিত মানুষের কর্মজীবন এবং একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ পৃথিবীর স্বপ্ন তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা।
পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমে তাঁর শরীর জরাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগ দেখা দেয়। আক্রান্ত অবস্থায় ১৯৪৭ সালের ১৩ মে ২১ বছর বয়সে কলকাতার কে এস রায় টিবি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের উল্লেখয়োগ্য রচনা– ছাড়পত্র, পূর্বাভাস, আগামী, রবীন্দ্রনাথের প্রতি, ইউরোপের উদ্দেশ্যে, কলম, দুরাশা মৃত্যু, আগ্নেয়গিরি, লেনিন, কৃষকের গান, আঠারো বছর বয়স, জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী, রোম: ১৯৪৩, ঘুম ভাঙার গান, পৃথিবীর দিকে তাকাও, রাখাল ছেলে, গীতিগুচ্ছ, আকাল, দেবতাদের ভয় তাঁর ব্যঙ্গার্থক নাটিকা।

সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘পূর্বাভাস’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া অসহ্য দিন কবিতাটি নিম্নরূপ–


অসহ্য দিন! স্নায়ু উদ্বেল। শ্লথ পায়ে ঘুরি ইতস্তত
অনেক দুঃখে রক্ত আমার অসংযত!
মাঝে মাঝে যেন জ্বালা করে এক বিরাট ক্ষত
হৃদয়গত।
ব্যর্থতা বুকে, অক্ষম দেহ, বহু অভিযোগ আমার ঘাড়ে
দিন রাত শুধু চেতনা আমাকে নির্দয় হাতে চাবুক মারে
এখানে ওখানে, পথে চলতেও বিপদকে দেখি সমুদ্যত,
মনে হয় যেন জীবনধারণ বুঝি খানিকটা অসঙ্গত।।


প্রশ্ন

১. সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক বাড়ি কোথায়?
 ২. কৈশোর থেকে কোন ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুকান্ত?
৩. দেবতাদের ভয় কোন ধরনের রচনা?

কুইজ ৯৬–এর উত্তর
১. জুড়ু
২. লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ
৩. শিশুসাহিত্য

গত সংখ্যার বিজয়ী

সাথী মণ্ডল
রঘুনাথপুর, গোপালগঞ্জ

রবিউল হক
আদর্শ সদর, কুমিল্লা


নিয়ম

পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।

আরও পড়ুন

×