বর্ষায় গাছের যত্ন
মাজহারুল ইসলাম শামীম
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০
চলছে বর্ষাকাল। এই সময়টা গাছ লাগানোর জন্য উপযুক্ত। গাছ বেড়ে ওঠার জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সব উপাদান বৃষ্টির পানিতে রয়েছে। যেমন– নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফেট ও নাইট্রেট আয়ন। এ কারণে বৃষ্টির সময় গাছের সতেজতা অনেক গুণ বেড়ে যায়।
তবে মাঝেমধ্যে অতিবৃষ্টি এবং পানি জমে থাকার ফলে গাছের বিপদও আসতে পারে। তাই উপকার-অপকার দুটিই আছে বলে বর্ষাকালে বিশেষ যত্ন নিতে হবে গাছের।
এ ব্যাপারে কথা হয় ফেনী গ্রিন গার্ডেন নার্সারির মালিক ওমর ফারুকের সঙ্গে। তিনি জানান, সব মৌসুমের চেয়ে বর্ষাকালে তিনি সবচেয়ে বেশি গাছের পরিচর্যা করেন। কারণ এই সময় গাছের চারা প্রচুর নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রয়েছে তার নার্সারিতে। বৃষ্টির ফলে যদি গাছের গোড়া থেকে উর্বর মাটি চলেও যায় তিনি জৈব সার, দোঁআশ বা এঁটেল মাটি দিয়ে আবার ঢেকে দেন গাছের গোড়া। এতে গাছ আবার সতেজতা ফিরে পায়। আবার গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকলে তিনি পানিগুলো নিষ্কাশন করে ফেলেন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় একটি নালাও কেটে রেখেছেন।
ওমর ফারুক জানান, বর্ষাকালে তিনি গোবর সার বা পাতা পচা সার ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তিনি আরও জানান, গাছ যখন বৃষ্টির পানির জন্য নরম মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তখন গাছের গোড়ায় বাঁশের চিকন চিকন অংশবিশেষ দিয়ে বাঁধিয়ে দেন, যাতে গাছ মাটিতে নুয়ে না পড়ে। আবার যেসব চারাগাছ টবে বা প্লাস্টিকের ব্যাগে থাকে, সেগুলো বর্ষাকালে ছিদ্র করে দেন যাতে অতিরিক্ত পানি জমে না থাকে। পাশাপাশি যেসব পাতা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, সেগুলো ফেলে দিয়ে গাছ থেকে অন্য পাতায় ওষুধ দিয়ে দেন।
বর্ষাকালে গাছের যত্ন নিয়ে আরও কিছু টিপস দিয়েছেন নার্সারির মালিক ওমর ফারুক। যেমন–
১. বর্ষাকালে কখনও কখনও অতিরিক্ত বৃষ্টির জন্য পানি জমে গিয়ে গাছের শিকড় নষ্ট করে ফেলে। সে জন্য এঁটেল মাটি ব্যবহার করা উত্তম।
২. লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় অতিরিক্ত পানি না থাকে। যদি গাছ টবে থাকে, তাহলে পানি নিষ্কাশনের জন্য টবের মধ্যে গর্ত রাখতে হবে। যদি মাটিতে হয় গাছ তাহলে অবশ্যই গাছের গোড়ার চারপাশে ঢালু রাখতে হবে, যাতে পানি দ্রুত চারপাশে চলে যেতে পারে।
৩. বর্ষাকালে একটানা বৃষ্টির ফলে অনেক গাছই খুব ঝাঁকড়া হয়। গাছের অতিরিক্ত ডালের জন্য রোদ পৌঁছাতে পারে না গাছের গোড়ায়। তাই গাছের বড় বড় ডাল কেটে দিতে হবে এবং রোদের সুব্যবস্থা করে দিতে হবে।
৪. চারাগাছ বর্ষাকালে খোলা স্থানে না রেখে শেডের নিচে রাখুন। যদি শেডের সুবিধা না পান তাহলে ঘরের বারান্দায় নিয়ে রাখতে হবে।
৫. বর্ষায় আর্দ্র পরিবেশের জন্য প্রচুর পরিমাণ পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। এরা নতুন পাতার রসাল অংশ খেয়ে ফেলে এবং গাছের প্রচুর ক্ষতি করে। তাই গাছে কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে বর্ষাকালে। প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবে রয়েছে– নিম অয়েল, গোলমরিচ গুঁড়া, শুকনো মরিচের গুঁড়া। অনেক সময় এসব প্রাকৃতিক কীটনাশকে কাজ নাও করতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই কৃত্রিম উপায়ে তৈরি কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
৬. বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে মাটির সঙ্গে অনেকটা পুষ্টিও চলে যায়। তাই গাছে সার দিতে হবে নিয়মিত। এ সময় জৈব সার হিসেবে চায়ের পাতা রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে, হাড়ের গুঁড়া, ডিমের খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে দিতে পারেন।
- বিষয় :
- গাছের যত্ন
- বর্ষা