ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্লাউজে নকশা

ব্লাউজে নকশা
×

ছবি: বর্ণন লাইফস্টাইল

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

শাড়ির পরিধান রীতির সঙ্গে ব্লাউজের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। একরঙা, ছাপা নকশা, ব্লক, রিবন ওয়ার্কের সুতি কিংবা জর্জেট শাড়ি, মণিপুরি-জামদানি অথবা অন্য যে কোনো ধরনের শাড়ির সৌন্দর্য বাড়ায় ব্লাউজ। আগে শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ব্লাউজ বাছাই করা হলেও, এখন জমকালো ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেওয়া হয় শাড়ি। একটি কিংবা দুটি ব্লাউজের সঙ্গে অনেকে বেছে নেন কয়েকটি ভিন্ন রঙের শাড়ি। তাছাড়া শাড়ির রঙের সঙ্গে মিল না রেখেও অনেকে ক্রপ টপ, টি-শার্ট, টপসের সঙ্গে পরেন শাড়ি। এখন ফ্যাশনের পালে লেগেছে ফিউশনের হাওয়া। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইনাররা করছেন বিভিন্ন ধরনের নকশা।

আজ থেকে ৩০, ৪০, ৫০ বছর পেছনে তাকালে দেখা যাবে এ দেশের নারীরা ব্লাউজবিহীন শাড়ি পরতেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ছোট্ট এ পোশাকটি এ উপমহাদেশে ছিলই না। কীভাবে এলো, তা নিয়েও আছে মতভেদ। কথিত আছে, ইংরেজরা যখন ভারতবর্ষ শাসন করেছে, তখন রানী ভিক্টোরিয়া প্রথম শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ ব্যবহার করেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে এখানকার মানুষ তা আয়ত্ত করেছে। পরবর্তী সময়ে সিনেমার নায়িকাদেরও স্লিভলেস, ছোট হাতার ব্লাউজ পরতে দেখা গেছে। এ গেল একটি মত। প্রচলিত আছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজো ভাই সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী স্বামীর সঙ্গে গুজরাটে গিয়ে পার্সি নারীদের শাড়ি পরার ধরন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুনভাবে শাড়ি পরা শুরু করেন। তিনি শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ ও স্কার্ট পরতেন। তিনি যে ব্লাউজ পরতেন তাতে ছিল ফ্রিল, লেইসের ব্যবহার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্লাউজের কাট, নকশা, হাতার দৈর্ঘ্য, গলার ডিজাইন সবকিছুতে এসেছে নানা পরিবর্তন।

আজকাল স্লিভলেস, ব্যাকলেস ব্লাউজ যেমন চলছে; আবার ছোট হাতা, থ্রি-কোয়ার্টার ও ফুল হাতার ব্লাউজও চলছে বলে জানান বর্ণন লাইফস্টাইলের স্বত্বাধিকারী ফারজানা মঈন মিহান।
তিনি জানান, বর্ণন লাইফস্টাইলের অধিকাংশ ব্লাউজ মিক্সড কাপড়ের। সব ধরনের ব্লাউজের সঙ্গে ইলাস্টিক ও ফিতা আছে। এতে ক্রেতারা দুই-তিন বছর পর একটু মোটা হয়ে গেলে অথবা শুকিয়ে গেলেও ব্লাউজ পরতে পারবেন। সাধারণত রেডিমেইড ব্লাউজ কিনে এ সুবিধা পাওয়া যায় না।

‘কিছু ব্লাউজে হাতের কাজ, কারচুপি ও এমব্রয়ডারির কাজ আছে। রঙের ক্ষেত্রেও আমরা কিছু নির্দিষ্ট রংকে প্রাধান্য দিয়েছি যেন একটি বা দুটি ব্লাউজ দিয়ে একাধিক শাড়ি পরা যায়। যেমন– কালো, বিস্কুট, গোলাপি, লাল ইত্যাদি’– বলেন মিহান।

অফ শোল্ডার, হাই নেক, ব্যাকলেস, হল্টার নেক, বোট নেক, জারদৌসি কাজের ব্লাউজ, সিঙ্গেল শোল্ডার, প্রিন্সেস কাটসহ নানা কাটের ব্লাউজ পেয়ে যাবেন মার্কেটে। ম্যাগি, স্লিভলেস, কলস, ঘটি, ফ্লেয়ার, র‌্যাফেল, বেল স্লিভ ইত্যাদি হাতার ব্লাউজের কদর বেড়েছে।

রেডিমেইড ব্লাউজ পছন্দ না হলে বানিয়ে নিতে পারেন মনের মতো ব্লাউজ। এ ক্ষেত্রে ফ্যাশনেবল ব্লাউজের জন্য মানানসই কাপড় বেছে নিতে হবে। সুতি কাপড়ের ব্লাউজের সঙ্গে ফ্রিল ও লেইস যতটা মানায়, অন্য কাপড়ে তা একটু কম ফোটে। বিয়ে-জন্মদিন কিংবা অন্যান্য নিমন্ত্রণে যাওয়ার জন্য কাতান, সিল্ক, নেট, অরগাঞ্জা, মসলিন ইত্যাদি কাপড়ের ব্লাউজ বেছে নিতে পারেন। চিকেন কাপড়ের ব্লাউজও শাড়ির সঙ্গে বেশ মানিয়ে যায়। বিগত তিন-চার বছর ধরে সাদা রঙের চিকেন কাপড়ের ব্লাউজের চাহিদা বেড়েছে। বেড়েছে ক্রপটপ স্টাইলের কালো ব্লাউজের চাহিদাও।

ব্লাউজে যদি র‌্যাফেল হাতা দিতে চান তাহলে অরগাঞ্জা, মসলিন বেছে নিন। যদি ফোলা ফোলা করে ব্লাউজ বানাতে চান, তাহলে বেছে নিন টিস্যু কাপড়। আজকাল মার্কেটগুলোতে আবারও মখমলের ব্লাউজ পাওয়া যাচ্ছে; যা নব্বই দশকের শেষের দিকে এবং শূন্য দশকের শুরুর দিকে বেশ প্রচলিত ছিল। ডাস্ট কোট, বর্ণন লাইফস্টাইল, কার্পাস, ড্রিম ফ্যাশন হাউস, খাঁচা, কালার ক্রেজ, গোধূলিসহ অনলাইন ও অফলাইনে বিভিন্ন ডিজাইনের ব্লাউজ পাওয়া যায়। অনলাইন থেকে ব্লাউজ কেনা যাবে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে। যারা কম দামে জমকালো ও নান্দনিক ব্লাউজ কিনতে চান, তারা ঢুঁ মারতে পারেন রাজধানীর গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নিউমার্কেট, টোকিও স্কয়ার, শ্যামলী স্কয়ার, সেজান পয়েন্ট, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাক মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে।

আরও পড়ুন

×