ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যু

হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যু
×

.

 ডা. এস এম ইয়ার ই মাহাবুব

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০০:০৫

সাডেন কার্ডিয়াক ডেথ বা অকস্মাৎ হৃদরোগে মৃত্যু হলো একটি নীরব ঘাতক; যা বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের জীবন মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নেয়। বুকে ব্যথা বা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই রোগী মৃত্যুবরণ করে। তাই রোগী বা তার পরিবার যেমন বিপদ বুঝে ওঠার আগেই যা ঘটার ঘটে যায়, আবার চিকিৎসকও রোগীকে তেমন কোনো সাহায্য করার পর্যাপ্ত সময় পান না। 
ঝুঁকিগুলো : যদিও এসসিডি কোনো আগাম সতর্কতা বা উপসর্গ ছাড়াই আঘাত হানতে পারে; তবে কিছু কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি এটি হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো অজানা করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হার্টের রক্তনালির ব্লকের রোগ বা সিএডি, হাইপারট্রফিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি বা এইচসিএম, অ্যারিদমিয়া, এআরভিডি ইত্যাদি। সেই সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপান, স্থূলতা, মাদকদ্রব্য ব্যবহার, মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা এবং অলস জীবনযাপনও এ রোগের জন্য দায়ী করা হয়।
রোগ নির্ণয় : এসডিডি ডায়াগনসিস করা চিকিৎসাবিজ্ঞানের কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি। তাৎক্ষণিক রোগ নির্ণয়ের মধ্যে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, পড়ে গিয়ে মাথায় বা শরীরে চোট পাওয়া এবং বুক ধড়ফড়ের মতো লক্ষণগুলো শনাক্ত করা জরুরি। ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি), ইকোকার্ডিওগ্রামসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শনাক্ত ও চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
চিকিৎসা : এসসিডির জন্য চিকিৎসায় ওষুধ থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। কোনো ব্যক্তি সম্ভাব্য এসসিডি থেকে বেঁচে ফিরলে তাকে এনজিওগ্রাম করে করোনারি রক্তনালি চেক করা উচিত 
কোনো ব্লক আছে কিনা। ইমপ্লান্টেবল কার্ডিওভারটার-ডিফিব্রিলেটর উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য জীবনরক্ষাকারী হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টসহ জীবনধারায় পরিবর্তনগুলোও এ রোগের চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য উপাদান।
প্রতিরোধের কৌশল : এসসিডি প্রতিরোধ করার প্রথম পদক্ষেপ হলো এর পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি ও  কারণগুলো বোঝা এবং মোকাবিলা করা। হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখার জন্য জীবনধারা অবলম্বন করা, তামাকজাতীয় দ্রব্য এবং অ্যালকোহল সেবন এড়ানো, মাদক পরিহার করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা হলো মূল প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার জন্য নিয়মিত মেডিকেল চেকআপ ও স্ক্রিনিং অপরিহার্য। বিশেষ ক্ষেত্রে জেনেটিক স্টাডি, ফ্যামিলি স্টাডি ও কায়িক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা আবশ্যক হতে পারে। কোনো কোনো রোগের জন্য আইসিডির মতো ডিভাইস হার্টের মধ্যে স্থাপন করতে হতে পারে।  
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক,  ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি,  বিএসএমএমইউ।

আরও পড়ুন

×