শালদুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু, সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১২:৪৪
দেশে সিজারিয়ান প্রসবের হার বৃদ্ধি ও সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু জন্মের পর শালদুধ (কলোস্ট্রাম) এবং মায়ের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, শিশুদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়ের বুকের দুধের কোনো বিকল্প নেই। মাতৃদুগ্ধপান বাড়াতে পরিবার ও সমাজ উভয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এতে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্বস্বাস্থ্য অনুবিভাগ) শেখ মোমেনা মনি এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ তাআলা মায়ের দুধকে শিশুর জন্য সর্বোত্তম খাদ্য হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে নানা কারণে অনেক শিশু এ দুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক মা নিজের অপুষ্টির কথা ভেবে শিশুকে বুকের দুধ দেওয়া বন্ধ রাখেন, যা ঠিক নয়। অল্প বয়সে বিয়ে, অপুষ্টি ও সচেতনতার অভাব শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে তৃণমূল পর্যায়ে মাতৃদুগ্ধপান বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির কার্যকর উদ্যোগ ছিল না। এখন থেকে এক বছরের কর্মপরিকল্পনা করে প্রতি মাসে অন্তত একটি জেলায় সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন তিনি।
শিশুখাদ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে মাতৃদুগ্ধের বিকল্প খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আইন রয়েছে। বাজারের গুঁড়ো দুধের ওপর নির্ভর না করে ছয় মাস বয়সের পর শিশুদের জন্য ঘরে তৈরি সুষম খাবার যেমন চাল, ডাল, আলু ও শাকসবজি দিয়ে তৈরি খিচুড়ি সবচেয়ে উপযোগী।
মায়েদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো অবস্থাতেই সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। সুস্থ, সবল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধপান নিশ্চিত করাই সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
- বিষয় :
- স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- শিশু জন্মহার
- চিকিৎসা